Tag: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়

  • মুক্তিযুদ্ধকে অন্য আন্দোলনের সঙ্গে গুলিয়ে না দেখার আহ্বান: ইতিহাস বিকৃতিতে তরুণরা বঞ্চিত:মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

    মুক্তিযুদ্ধকে অন্য আন্দোলনের সঙ্গে গুলিয়ে না দেখার আহ্বান: ইতিহাস বিকৃতিতে তরুণরা বঞ্চিত:মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

    এবিএনএ: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকে অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে এক কাতারে ফেলা সঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রের জন্মের মূলে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অসীম ত্যাগ—এ সত্যকে আড়াল করলে ইতিহাস বিকৃত হয়।

    রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল)–এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভুল ব্যাখ্যা ও বিকৃত উপস্থাপনার কারণে তরুণ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে না। মুক্তিযোদ্ধারা কী ত্যাগ ও কষ্ট সহ্য করে দেশ স্বাধীন করেছেন—সে গল্প নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা থেকে যাচ্ছে।

    সভায় আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়মিত যাচাই-বাছাই করা জরুরি। পাশাপাশি ঐতিহাসিক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রামাণ্য নথি সংকলনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জামুকার সদস্যরা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • “মুক্তিযোদ্ধা হয়েও সদস্যপদ বঞ্চিত!”—বিএনপি ঘরানার মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ বৈষম্যের

    “মুক্তিযোদ্ধা হয়েও সদস্যপদ বঞ্চিত!”—বিএনপি ঘরানার মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ বৈষম্যের

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমিটিতে আওয়ামী লীগপন্থীদের একচেটিয়া উপস্থিতি এবং বিএনপিপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবিচার ও বৈষম্য করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ এনেছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

    মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, “বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমিটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতাসীন দলের অনুসারীদের দিয়ে গঠিত। শেখ হাসিনার শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যেমন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে গিয়েছিল, তেমনই এখনো কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।”

    তিনি বলেন, “সংবিধান বা কোনো আইনেই বলা হয়নি বিএনপি করা কোনো মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য হতে পারবে না। অথচ বর্তমান কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট। মুক্তিযোদ্ধা হলেও, শুধুমাত্র বিএনপি করা মানেই সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত হওয়া—এটি গভীর অন্যায়।”

    সংবাদ সম্মেলনে ইসতিয়াক আরও বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান এই জাতিকে আত্মনির্ভরতার পথ দেখিয়েছিলেন। তার দল গঠন ও নেতৃত্বে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছে। অথচ এখন তার দলের মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত হচ্ছে। এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক।”

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, যুদ্ধকালীন কমান্ডার শহীদ বাবলু, মো. মোবারক, শরীফ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার।

    তারা জানান, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই ও কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা থাকছে না, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অসম্মান করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বৈষম্যের অবসান দাবি করে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার আহ্বান জানানো হয়।