Tag: মিরপুর স্টেডিয়াম

  • শততম টেস্টে সেঞ্চুরি ছোঁয়ার এক ধাপ দূরে মুশফিক, অপেক্ষায় পুরো বাংলাদেশ

    শততম টেস্টে সেঞ্চুরি ছোঁয়ার এক ধাপ দূরে মুশফিক, অপেক্ষায় পুরো বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম আজ তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। দুই দশকের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ডের জন্ম দেওয়া এই তারকা ক্রিকেটার বুধবার (১৯ নভেম্বর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলছেন তার শততম টেস্ট ম্যাচ। আর এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থেকে দিন শেষ করলেন তিনি।

    আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে অসাধারণ ব্যাটিং করে মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৯৯ রানে। দিনের শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৯২ রান। অপর প্রান্তে লিটন দাসও ছিলেন ধৈর্য ধরে খেলা, তিনি অপরাজিত আছেন ৪৭ রানে।

    ম্যাচ শুরুর আগে শততম টেস্ট উপলক্ষে মুশফিককে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয় বিশেষ সংবর্ধনার। তার প্রথম টেস্টের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার পরিয়ে দেন স্মরণীয় এই বিশেষ ক্যাপ। এছাড়া স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ক্যাপ ক্যাসকেট তুলে দেন দেশের প্রথম টেস্ট ক্যাপধারী আকরাম খান। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও তাকে সম্মাননা হিসেবে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।

    মুশফিক শুরু থেকেই খেলে গেছেন ধৈর্য আর কৌশলে। উইকেটে সময় নিয়ে সেট হয়ে দৃষ্টি রাখেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু খেলার শেষ বলের আগে যখন স্কোরবোর্ডে তার নামের পাশে ওঠে ৯৯ রান, তখন থেমে যায় দিনের খেলা। তাই শততম টেস্টে সেঞ্চুরি স্পর্শের জন্য অপেক্ষা এখন পুরো রাত জুড়ে।

    এদিন বাংলাদেশের হয়ে লিটন দাসও ব্যাট হাতে ভালো শুরু করলেও হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেননি। আয়ারল্যান্ডের পেসার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের চারটি উইকেট।

    মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেছেন। আর বিশ্ব ক্রিকেটে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছানো ৮৪তম ক্রিকেটার। আগামী দিনের খেলা হবে তার জন্য রেকর্ড আর আবেগের এক অনন্য ক্ষেত্র।

  • রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের তুলনামূলক স্বল্প রানের ২০৭ রানের সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয়ে পরিণত হয়। রিশাদের অসাধারণ বোলিংয়ে ৭৪ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

    বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন রিশাদ হোসেন। তিনি ৯ ওভারে ৩৫ রান খরচে তুলে নেন ৬টি উইকেট—যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। তার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেন ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন যথাক্রমে ২০০৬ ও ২০১৩ সালে।

    শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার ফিরলে চাপে পড়ে দল। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের ৭১ রানের জুটি কিছুটা স্থিতি আনে। শান্ত ৬৩ বলে ৩২ রান ও হৃদয় ৯০ বলে ৫১ রানের ধীর ইনিংস খেলেন।

    অভিষিক্ত মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৭৬ বলে ৪৬ রান করে দলের রান দুইশ’র ঘরে তোলেন। ইনিংসের শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন—মাত্র ১৩ বলে ২৬ রান করে ইনিংসে প্রাণ সঞ্চার করেন। ফলে দুই বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ অলআউট হয় ২০৭ রানে।

    জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ভালোই। তবে রিশাদের স্পিন জাদুতে মাত্র ৯২ রানেই পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। তিনি একে একে ব্রেন্ডন কিং, কেসি কার্টি, শেরফান রাদারফোর্ডসহ শীর্ষ ব্যাটারদের বিদায় করেন। কিং সর্বোচ্চ ৪৪ রান করলেও অন্যরা ছিলেন পুরোপুরি অসহায়।

    মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান একে একে শেষ দিকের উইকেটগুলো তুলে নিলে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রিশাদ হোসেন।

  • পাকিস্তানকে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

    পাকিস্তানকে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

    এবিএনএ: মিরপুরে আয়োজিত দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৩৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল, জয়ের পথটা সহজ হবে। কিন্তু সেই সহজ লক্ষ্যও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ফাহিম আশরাফের একক প্রতিরোধে। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৮ রানের জয় পায় লাল-সবুজ বাহিনী এবং এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।

    মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হয় মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের স্মরণে শোক জানিয়ে। একাদশে ছিল দুটি পরিবর্তন—নাঈম শেখ সুযোগ পান তানজিদ তামিমের পরিবর্তে, জাকের আলী ফিরেন দলে। কিন্তু শুরুটা হতাশাজনক ছিল ব্যাটিংয়ে। লিটন দাস, হৃদয়, ইমন কেউই দাঁড়াতে পারেননি। ২৫ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

    তবে শেখ মেহেদি ও জাকের আলীর ৫৩ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। মেহেদি ২৫ বলে ৩৩ রান করেন, আর জাকের শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৫৫ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা ও ১টি চার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৩ রান।

    জবাবে পাকিস্তান ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শুরুতেই। মাত্র ১৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিবের আগুনঝরা স্পেলে পাকিস্তানের টপ অর্ডার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ৭ উইকেটে ৪৭ রানে পরিণত হয় সফরকারীরা।

    তবে পেস অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ একাই লড়াই চালিয়ে যান। আব্বাস আফ্রিদিকে নিয়ে ৪১ রানের জুটি গড়েন। ফাহিম ৩২ বলে ৫১ রান করে রিশাদের বলে বোল্ড হন। শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। প্রথম বলেই মুস্তাফিজ চার খেয়ে চাপে পড়লেও পরের বলেই উইকেট তুলে নিয়ে জয় এনে দেন বাংলাদেশকে।

    বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ৩ উইকেট, তানজিম ও মেহেদি ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হন জাকের আলী।