Tag: মাহফুজ আলম

  • আমরা অনিরাপদ হলে প্রতিপক্ষও নিরাপদ থাকবে না: মাহফুজ আলম

    আমরা অনিরাপদ হলে প্রতিপক্ষও নিরাপদ থাকবে না: মাহফুজ আলম

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম বলেছেন, দেশের জনগণকে অনিরাপদ অবস্থায় রাখার চেষ্টা হলে প্রতিপক্ষ শক্তিকেও নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

    মাহফুজ আলম বলেন, অতীতে নিজেদের সংযম ও সহনশীলতার কারণে কিছু গোষ্ঠী সহিংসতায় জড়ানোর সাহস পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আর ছাড় দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেউ কেউ আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, প্রয়োজনে প্রতিরোধের আন্দোলনও দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিফলিত হতে পারে।

    বক্তব্যে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের নামে একদিকে বিচার প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও অন্যদিকে আইনের ফাঁক গলে বিদেশে আশ্রয় নেওয়া ও সেখান থেকে সহিংসতা চালানোর ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

    বিদেশি স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ সহযোগীদের প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নই আসে না। দেশের জনগণ নিরাপদ না থাকলে প্রতিপক্ষ শক্তিও নিরাপদ থাকতে পারবে না।

    তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু আদর্শ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক চর্চার কারণে বহু মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থার বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছে, তাদের অন্যতম একজন ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

  • নতুন টিভি ও গণমাধ্যমের অনুমোদন দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার: তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

    নতুন টিভি ও গণমাধ্যমের অনুমোদন দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার: তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

    এবিএনএ: তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি অনুযায়ী কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করা হবে না, বরং নতুন গণমাধ্যমের অনুমোদন দেওয়া হবে। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। যেহেতু কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে না, তাই নতুন গণমাধ্যম চালুর অনুমতিও দেওয়া হবে—তবে আগের নিয়মেই।”

    তিনি আরও বলেন, “নতুন আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যম অনুমোদন দেওয়া গেলে সবচেয়ে ভালো হতো। কিন্তু সেটি করতে গেলে নতুন আইন প্রণয়নের সময় লাগবে, ফলে এ সরকারের মেয়াদে তা সম্ভব নয়।”

    তথ্য উপদেষ্টা মনে করেন, নতুন গণমাধ্যম আসলে দেশে সংবাদ পরিবেশে আরও প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার দুটি নতুন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল—‘নেক্সট টিভি’ ও ‘লাইভ টিভি’র অনুমোদন দিয়েছে।

    মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন ‘নেক্সট টিভি’ অনুমোদন পায়। এটি ‘৩৬ মিডিয়া লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফুর রহমান তুহিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক। অপরদিকে, ১৪ জুলাই অনুমোদন পায় ‘লাইভ টিভি’, যার মালিক ‘মিনার্ভা মিডিয়া লিমিটেড’-এর আরিফুর রহমান।

    বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সংখ্যা ৫০টি, এর মধ্যে ৩৬টি পূর্ণ সম্প্রচারে রয়েছে এবং ১৪টি সম্প্রচারের অপেক্ষায়। এছাড়া অনুমোদিত আইপি টিভির সংখ্যা ১৫।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো নাগরিক স্যাটেলাইট টিভি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। এর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, ব্যাংক সলভেন্সি সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। আবেদন যাচাইয়ের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির অনুমোদন পেলে সম্প্রচারের ফ্রিকোয়েন্সি নির্ধারণ করা হয়।

  • নিজ থেকে অনুদান কমিটি ছাড়লেন মম, জানালেন কারণ

    নিজ থেকে অনুদান কমিটি ছাড়লেন মম, জানালেন কারণ

    এবিএনএ:  চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। প্রায় এক মাস আগেই তিনি পদত্যাগ করেন, তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি ৩২টি চলচ্চিত্রকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের দিন।

    মম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “২৫ মে আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর। ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে আমি কমিটিতে সময় দিতে পারছিলাম না।”

    দেশপ্রেম ও সংস্কারের দাবিতে বরাবরই সোচ্চার মম, ২০২১ সালের শিল্পী আন্দোলনের সময়ও ছিলেন সম্মুখ সারিতে। তখনকার শুটিং ব্যস্ততা ফেলে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে তিনি হাসিমুখেই যুক্ত হন এই অনুদান কমিটিতে।

    কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মম বুঝতে পারেন, তাঁর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত কাজ তিনি করতে পারছেন না। সেই প্রসঙ্গে মম বলেন, “আমি ক্ষমতার আশায় কমিটিতে আসিনি, শুধু চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম সেটা সম্ভব হচ্ছে না, তখনই ভাবলাম, আমার জায়গায় কেউ যোগ দিলে হয়তো ভালো হবে। তাই নিজেই সরে দাঁড়িয়েছি।”

    অনুদান কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), সচিব, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্মাতা ও প্রযোজক আকরাম খান, নির্মাতা নার্গিস আখতার, এবং রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি আহমেদ মুজতবা জামাল।

    এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। উল্লেখ্য, তার আগে ওই পদে ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম।

    চলচ্চিত্রে গঠনমূলক পরিবর্তনের আশায় গঠিত এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি মুখ ছিলেন মম। তাঁর এই সরে দাঁড়ানো চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • বিভাজনের অতীত ভুলে ঐক্যের আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের — আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ ফেসবুক বার্তায়

    বিভাজনের অতীত ভুলে ঐক্যের আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের — আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ ফেসবুক বার্তায়

    এবিএনএ: 

    তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অতীতের কিছু মন্তব্য ও শব্দচয়নের জন্য গভীর অনুশোচনার কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।

    তিনি লেখেন, “ব্যক্তিগত আদর্শ কিংবা আবেগের চেয়ে দেশের স্বার্থ সর্বাগ্রে। অতীতের কিছু বক্তব্য যদি বিভাজনের জন্ম দিয়ে থাকে, তবে আমি তা নিয়ে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

    তিনি আরও বলেন, “যতদিন সরকারে আছি, ততদিন সকল মত ও শক্তির প্রতি সম্মান বজায় রেখে সংবেদনশীলভাবে কাজ করতে চাই।” সেইসঙ্গে তিনি অতীতের বিভেদমূলক স্লোগান ও তকমা ব্যবহারের বিরোধিতা করে বলেন, এসব উপেক্ষা করে আমরা যদি একসাথে এগিয়ে যাই, তবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক ও সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে, কারণ আক্রমণাত্মকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছে দেশের শত্রুরা। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি সেই সব দেশপ্রেমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় একসঙ্গে ছিলেন— “এই মুহূর্তে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ঐক্য ও ধৈর্যের। এবং এই পরীক্ষায় আমাদের সফল হতেই হবে।”

    এমন বার্তা দেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে— বিভেদের বদলে সংহতির পথেই যে ভবিষ্যত নিরাপদ, সেটিই যেন বোঝাতে চাইলেন উপদেষ্টা মাহফুজ।