Tag: মালয়েশিয়া

  • মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    এবিএনএ: মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সানদাকান শহরের একটি ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৯ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ৩২ মিনিটে উপকূলীয় এলাকার কামপুং বাহাগিয়া নামের ভাসমান গ্রামটিতে আগুন লাগে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি জানা যায় এবং ভোর ৪টার দিকে এলাকাটিকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

    দমকল বিভাগ জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পুড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৯ হাজারের বেশি বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর বেশিরভাগই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

    ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু মানুষ নিজেদের জিনিসপত্র উদ্ধার করতে গিয়ে অথবা অন্যদের সহায়তা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দমকল বিভাগ, বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

    ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সরকার ও সাবাহ রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে, শারীরিক অবস্থার উন্নতি

    সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে, শারীরিক অবস্থার উন্নতি

    এবিএনএ: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চিকিৎসার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে মির্জা আব্বাসকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

    অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি

    গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় পানি পান করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া

    পরবর্তীতে ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখা যায়। এরপর চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন ধরে সক্রিয় রাজনৈতিক কার্যক্রমের বাইরে ছিলেন।

    দলীয় নেতাকর্মীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানানো হয়েছে।

  • আন্দামান সাগরে ভয়াবহ ট্রলারডুবি, ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ — রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশিরাও

    আন্দামান সাগরে ভয়াবহ ট্রলারডুবি, ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ — রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশিরাও

    এবিএনএ: আন্দামান সাগরে একটি যাত্রীবোঝাই ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানায়, ট্রলারটি বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। যাত্রাপথে আন্দামান সাগরে প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌযানটি। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    সংস্থাগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী সমাধান না থাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেড়েই চলেছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সুযোগের সীমাবদ্ধতা মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

    এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় অনেকে পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন। বিদেশে কাজের সুযোগ ও ভালো আয়ের আশ্বাস দিয়ে দালালচক্র অসহায় মানুষকে জীবনঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে আন্দামান সাগর বারবার পরিণত হচ্ছে মানবিক বিপর্যয়ের মঞ্চে।

    যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকে এবং আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়। অর্থায়ন কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

    বাংলা নববর্ষের উৎসবমুখর সময়ে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ দ্রুত সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্যথায় ভবিষ্যতেও প্রাণঘাতী এসব দুর্ঘটনায় আরও অনেক মানুষের জীবন ঝরে যেতে পারে।

  • ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পথে মালয়েশিয়া, নিরাপত্তায় বড় সিদ্ধান্ত

    ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পথে মালয়েশিয়া, নিরাপত্তায় বড় সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। লক্ষ্য—শিশুদের সাইবার বুলিং, প্রতারণা, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও যৌন হয়রানির মতো ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

    রোববার দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাজিল জানান, মালয়েশিয়া বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য উন্নত দেশের নীতি পর্যালোচনা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।

    মন্ত্রী বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই, প্রযুক্তির সুবিধা শিশুদের জন্য নিরাপদ হোক, ক্ষতির নয়।”

    সামাজিক মাধ্যমের কারণে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হওয়ার অভিযোগে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, গুগল এবং মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশে আইনি জটিলতায় রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া আগামী মাস থেকে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, ইতালি ও গ্রিস যৌথভাবে বয়স যাচাইকরণ অ্যাপ তৈরি ও পরীক্ষা করছে।

    এদিকে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়া গত জানুয়ারিতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের কথা বললেও পরে নিয়ম কিছুটা শিথিল করে। সেখানে এখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কনটেন্ট ফিল্টার ও বয়স যাচাইয়ে কঠোরভাবে বাধ্য করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি হতে পারে শিশু সুরক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর সবচেয়ে বড় আইনগত পরিবর্তন।

  • ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    এবিএনএ:  গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক হওয়া আন্তর্জাতিক কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন খ্যাতনামা পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও।

    বন্দিশিবিরে থুনবার্গকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া, জোর করে ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানো এবং শরীরে পতাকা জড়িয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো অমানবিক আচরণের বর্ণনা দিয়েছেন একাধিক মুক্তিপ্রাপ্ত কর্মী।

    শনিবার (৪ অক্টোবর) ১৩৭ জন কর্মীকে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠায় ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ৩৬ জন তুরস্কের নাগরিক এবং বাকিরা যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, মালয়েশিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, সুইজারল্যান্ড, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মী।

    তুরস্কের সাংবাদিক এরসিন চেলিক জানান, “আমি নিজ চোখে দেখেছি—গ্রেটাকে জোর করে পতাকায় চুমু খাওয়ানো হচ্ছে, যেন তাকে অপমানের প্রতীক বানানো হয়।”

    মালয়েশীয় মানবাধিকার কর্মী হাজওয়ানি হেলমি বলেন, “আমাদের পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছে, ঠেলে সরানো হয়েছে, কেউ কেউ তিনদিন না খেয়ে ছিলেন।”

    একই অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার—তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের খাবার, পানি ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

    ইতালির সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো বলেন, “২২ বছরের সাহসী তরুণী গ্রেটাকে পতাকায় মুড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়—এ যেন এক ভয়ানক অবমাননা।”

    আরেক তুর্কি কর্মী ইকবাল গুরপিনার জানান, “তিন দিন আমাদের না খাইয়ে রাখা হয়েছিল, এমনকি টয়লেটের পানি খেতে বাধ্য করা হয়।”

    ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ জানায়, আটক কর্মীদের হাত পেছনে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, ওষুধ দেওয়া হয়নি, এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হয়।

    তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, দাবি করেছে আটককৃতদের যথাযথ খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা হলো গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগ। ৪০টিরও বেশি নৌযানে ৪৪ দেশের ৫০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
    এই বহরটি ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে তিউনিসিয়া, ইতালি ও গ্রিসের বিভিন্ন বন্দরে যোগ দেয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও একটি প্রমাণ যুক্ত হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

  • মালয়েশিয়ায় অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৭১ অভিবাসী আটক

    মালয়েশিয়ায় অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৭১ অভিবাসী আটক

    এবিএনএ:  মালয়েশিয়ায় ব্যাপক অভিযানে বাংলাদেশিসহ মোট ১৭১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। কুয়ালালামপুর ও জোহর বাহরুতে আলাদা অভিযানে এরা ধরা পড়েন।

    বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়ালালামপুরের সেতাপাক এলাকার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়ে ১২৫ জনকে আটক করা হয়। ইমিগ্রেশন পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সৌপি ওয়ান ইউসুফ জানান, আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৮১ জন পুরুষ ও ৪৪ জন নারী, যাদের বয়স ১৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

    তাদের মধ্যে মিয়ানমারের ৬৯ জন, ভারতের ২৫ জন, পাকিস্তানের ১৪ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১২ জন এবং বাংলাদেশের ৫ জন নাগরিক আছেন। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে টানা দুই সপ্তাহ নজরদারির পর ভবনের ৬৪ ইউনিটে অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৪০০ জনের কাগজপত্র যাচাই শেষে বৈধ কাগজ না থাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসার কারণে অনেককে আটক করা হয়। পালানোর চেষ্টা করলেও অধিকাংশকেই ধরা হয়।

    এ ছাড়া বুধবার রাতে জোহরের উলু তিরম এলাকায় ‘অপস সাপু’ নামে অভিযানে আরও ৪৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ২৩ জন, মিয়ানমারের ১৬ জন, বাংলাদেশের ৪ জন, একজন নেপালি এবং দুই শিশু রয়েছে।

    জোহর ইমিগ্রেশন পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুসদি মোহাম্মদ দারুস জানান, আটক ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মালয়েশিয়ায় প্রবেশে বাধা: কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে আটকে ৯৮ বাংলাদেশি

    মালয়েশিয়ায় প্রবেশে বাধা: কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে আটকে ৯৮ বাংলাদেশি

    এবিএনএ:  মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে ৯৮ জন বাংলাদেশিকে। ঢাকা থেকে বিমানে পৌঁছালেও প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় তারা দেশটিতে ঢুকতে পারেননি। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বারনামা এ তথ্য জানিয়েছে।

    মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (একেপিএস) জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১৮১ জন যাত্রীর কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, ৯৮ বাংলাদেশির কাছে বৈধ প্রবেশ নথি নেই। পরবর্তীতে তাদের ‘নট টু ল্যান্ড’ (এনটিএল) নোটিশ দেওয়া হয়।

    সংস্থাটির দাবি, অধিকাংশ যাত্রী ভুয়া হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকিটের অনুপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন। তাদের সন্দেহ, পর্যটন ভিসা ব্যবহার করে এরা মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে কাজ ও থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন।

    একেপিএস আরও জানিয়েছে, অনিয়ম ঠেকাতে ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ: কুয়ালালামপুরে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ: কুয়ালালামপুরে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    এবিএনএ:  মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

    মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সভায় তিনি প্রবাসীদের অর্থনীতিতে অবদানের প্রশংসা করে বলেন, “আপনাদের শ্রম ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সমস্যাগুলো শুনেছি এবং সমাধানে কাজ করছি।”

    পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেবা প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দিতে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরা এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকতে পারেন।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশা করছি, এ নির্বাচনে আপনাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।”

    সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, দূতাবাসে জনবল বৃদ্ধি, গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা, অনিয়মিত প্রবাসীদের নিয়মিতকরণ এবং বাণিজ্য-শিল্প ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির প্রবাসীরা অংশ নেন এবং সরাসরি তাদের সমস্যা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

  • সীমান্ত উত্তেজনার অবসান: শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া

    সীমান্ত উত্তেজনার অবসান: শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া

    এবিএনএ:  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুটি প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া অবশেষে পাঁচ দিনের সীমান্ত সংঘর্ষের পর তাৎক্ষণিক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে সোমবার রাত ১২টা (স্থানীয় সময়) থেকে।

    বৈঠকে অংশ নেন থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত। মধ্যস্থতাকারী আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠকের পর বলেন, “উভয় দেশ একটি যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে এবং শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।”

    হুন মানেত এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক ধাপ। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পদক্ষেপগুলো আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে আরও গতিশীল করবে।”

    বৈঠকের দিন দুপুরে কুয়ালালামপুরে আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবন সেরি পেরদানায় পৌঁছায় থাই ও কম্বোডিয়ার নেতাদের গাড়িবহর। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা বহনকারী গাড়িও দেখা যায়, যা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারির ইঙ্গিত দেয়।

    সকাল ৭টার দিকে কুয়ালালামপুরে পৃথক বৈঠকে বসেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক চলাকালীন মালয়েশিয়ার রাজধানীর আকাশে ঘনঘন উড়োজাহাজ চলাচল চোখে পড়ে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারেরই অংশ।

    এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে অঞ্চলটিতে শান্তি ফেরানোর একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হয়।

  • মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশির বিষয়ে তদন্তে সহযোগিতায় প্রস্তুত সরকার

    মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশির বিষয়ে তদন্তে সহযোগিতায় প্রস্তুত সরকার

    এবিএনএ:  মালয়েশিয়ায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৩৬ জন বাংলাদেশির বিষয়ে তদন্তে মালয়েশিয়া সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দেশটিতে পরিচালিত অভিযানে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে, যাদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও মামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলবে অথবা প্রয়োজনে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

    হাইকমিশন এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে মালয়েশিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়।

    বাংলাদেশ সরকার আবারও তার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে যে, দেশটি সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। মালয়েশিয়ার তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান খালিদ ইসমাইল গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি শ্রমিকরা ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে অর্থ লেনদেনের সম্পৃক্ততায় অভিযুক্ত। তাদের বেশিরভাগই নির্মাণ, সেবা ও শিল্প খাতে নিয়োজিত ছিলেন। গত এপ্রিল থেকে ধারাবাহিক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, “যেসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, তাদের বিষয়ে সরকার নিজস্ব তদন্ত করবে। যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সকল নাগরিককে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছে।