Tag: মার্কিন রাজনীতি

  • দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরেই কড়া সিদ্ধান্ত, প্রথমবার ভেটো প্রয়োগ করলেন ট্রাম্প

    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরেই কড়া সিদ্ধান্ত, প্রথমবার ভেটো প্রয়োগ করলেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে তিনি কংগ্রেসে পাস হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিলে স্বাক্ষর না করে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, সোমবার দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়া দুটি বিলেই ভেটো দেন প্রেসিডেন্ট। এসব বিল কার্যকর করতে চাইলে এখন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পুনরায় অনুমোদন দিতে হবে।

    ভেটো হওয়া বিলগুলোর একটি ছিল ‘ফিনিশ দ্য আরকানসাস ভ্যালি কন্ডুইট অ্যাক্ট’। এই বিলের লক্ষ্য ছিল কলোরাডোর ইস্টার্ন প্লেইন্স অঞ্চলে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত একটি পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।

    কংগ্রেসে পাঠানো ব্যাখ্যামূলক চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং এটি বাস্তবায়ন করলে করদাতাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ পড়বে। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসন ‘অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যয় হতে দেবে না।’

    উল্লেখ্য, এই পাইপলাইন প্রকল্পের ধারণা প্রথম উঠে আসে ১৯৬০-এর দশকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির শাসনামলে। সাম্প্রতিক সময়ে বিলটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সর্বসম্মত সমর্থন পেয়েছিল। এমনকি কলোরাডোর দুই ডেমোক্র্যাট সিনেটরের পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রতিনিধি লরেন বোবার্ট ও জেফ হার্ডও এতে সমর্থন জানান।

    ভেটোর পর প্রতিক্রিয়ায় বোবার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এ লড়াই এখানেই শেষ নয়।”

    এদিকে, একই দিনে ট্রাম্প ভেটো দেন ‘মিকোসুকি রিজার্ভড এরিয়া অ্যামেন্ডমেন্টস অ্যাক্ট’ নামের আরেকটি বিলে। এই বিলের মাধ্যমে ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস ন্যাশনাল পার্কের ওসিওলা ক্যাম্প এলাকায় মিকোসুকি আদিবাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল।

    এর আগে চলতি বছর ওই আদিবাসী গোষ্ঠীটি এভারগ্লেডসে অবস্থিত একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলা করে। ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নামে পরিচিত ওই কেন্দ্রটি নিয়ে আদালতের নির্দেশে বড় অংশ ভেঙে ফেলায় কার্যত সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

    ট্রাম্প দাবি করেন, ওসিওলা ক্যাম্প এলাকায় বসবাসের জন্য মিকোসুকি গোষ্ঠীর কোনো বৈধ অনুমতি নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার সরকার করদাতাদের অর্থ কোনো বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রকল্পে ব্যয় করতে দেবে না, বিশেষত যেসব গোষ্ঠী তার অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা খুব ঘন ঘন ব্যবহৃত হয় না। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তার পূর্বসূরি জো বাইডেন চার বছরের মেয়াদে ১৩টি বিলে ভেটো প্রয়োগ করেন।

  • বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা ট্রাম্পের, ভিডিও সম্পাদনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক

    বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা ট্রাম্পের, ভিডিও সম্পাদনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার একটি ভাষণের সম্পাদিত ভিডিও প্রচার করে বিবিসি এমন ধারণা তৈরি করেছে, যেন তিনি সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে সহিংস হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    মামলায় ট্রাম্প দুটি অভিযোগ এনেছেন এবং প্রতিটির জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তার দাবি, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ভাষণের বিভিন্ন অংশ কৌশলগতভাবে জোড়া লাগিয়ে বিবিসি তার বক্তব্যকে বিকৃত করেছে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, এক অংশে ট্রাম্প সমর্থকদের ক্যাপিটলের দিকে এগিয়ে যেতে বলেছিলেন এবং অন্য অংশে ‘ফাইট লাইক হেল’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছিলেন। তবে যে অংশে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেটি ভিডিও থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    বিবিসি এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং স্বীকার করেছে যে, সম্পাদনার সিদ্ধান্তের কারণে দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে সংস্থাটির দাবি, এই মামলার কোনো শক্ত আইনি ভিত্তি নেই।

    রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত বিবিসি যুক্তরাজ্যে টিভি লাইসেন্স ফি থেকে অর্থ পায়। ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে।

    নিজেদের ১০৩ বছরের ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকটের মুখে পড়ে বিবিসি জানিয়েছে, বিতর্কিত ওই তথ্যচিত্র আর কোনো প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রচার করা হবে না। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে ‘প্যানোরামা’ অনুষ্ঠানে ক্লিপটি প্রচারিত হয়, যার জেরে সংস্থাটির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।

    ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, এই সম্প্রচারের ফলে তার সুনাম ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি একটি অভ্যন্তরীণ মাননিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত মেমো ফাঁস হওয়ার পর তথ্যচিত্রটির সম্পাদনা নিয়ে সমালোচনা আরও জোরদার হয়।

    এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা হয়েছে, কারণ ব্রিটেনে মানহানি মামলার সময়সীমা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে মার্কিন আইনে মামলায় সফল হতে হলে ট্রাম্পকে প্রমাণ করতে হবে যে, বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে বা বেপরোয়াভাবে দর্শকদের বিভ্রান্ত করেছে।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিবিসি যুক্তি দিতে পারে যে, তথ্যচিত্রটির সামগ্রিক উপস্থাপনা সত্যনিষ্ঠ ছিল এবং এতে ট্রাম্পের সুনামের ক্ষতি হয়নি।

    এর আগে সিবিএস ও এবিসিসহ একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্প সমঝোতায় পৌঁছান। তিনি নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং আইওয়ার একটি পত্রিকার বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করেছেন, যদিও সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

  • বাইডেনকে ‘স্লিপি জো’ খেতাব দেওয়ার পর বৈঠকেই ট্রাম্পের চোখজুড়ানো ঘুমন্ত অবস্থা

    বাইডেনকে ‘স্লিপি জো’ খেতাব দেওয়ার পর বৈঠকেই ট্রাম্পের চোখজুড়ানো ঘুমন্ত অবস্থা

    এবিএনএ: সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ঠাট্টা করে ‘স্লিপি জো’ বলার পরপরই নিজেই বৈঠকে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দীর্ঘ সময়ের মন্ত্রিসভার সভায় একাধিকবার তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসতে দেখা যায়, এমনটাই জানিয়েছে সিএনএন।

    ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের বৈঠকে ট্রাম্প কয়েক দফা মনোযোগ হারান বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্য যখন তার প্রশংসা করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ট্রাম্পকে বারবার চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা যায়। ক্যামেরায় ধরা পড়ে—চেয়ারে হেলান দিয়ে আধবোজা চোখে বসে আছেন তিনি, কখনও চোখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    সভায় উপস্থিত টেলিভিশন ক্যামেরা পুরো সময়ই ট্রাম্পকে ফোকাস করে রেখেছিল। ফলে তার প্রতিটি ভঙ্গিই স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। ক্যাবিনেট সদস্যদের দীর্ঘ বক্তব্য চলাকালীন ট্রাম্পের বারবার তন্দ্রায় ঢলে পড়ার বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় ওঠে আসে।

    বৈঠকের শুরুতেই বাইডেনকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, “স্লিপি জো সত্যিই ঘুমকাতুরে।” এরপরই নিজের চাঙাভাব নিয়ে মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, “আজ আমি ২৫ বছর আগের চেয়েও বেশি উদ্যমী।” তবে বৈঠকে তার আচরণ সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই প্রতীয়মান হয়।

  • কংগ্রেসে ব্যয় বিল আটকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দপ্তরে শাটডাউন শুরু

    কংগ্রেসে ব্যয় বিল আটকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দপ্তরে শাটডাউন শুরু

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। কংগ্রেসে ব্যয় বিল পাস না হওয়ায় মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে দেশটিতে সরকারি শাটডাউন শুরু হয়েছে। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী অবৈতনিক ছুটিতে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৭ বছর আগে দেশটি সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউনের মুখোমুখি হয়েছিল, যা টানা ৩৫ দিন স্থায়ী হয়েছিল।

    যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় প্রতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে। এর আগে কংগ্রেসে বাজেট অনুমোদন না হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কিংবা জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ছাড়া অধিকাংশ কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শাটডাউন চলাকালীন বিপুল সংখ্যক কর্মী বেতন পাবেন না। এমনকি ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই এ অচলাবস্থার মূল কারণ। ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দাবি করলেও রিপাবলিকানরা তা প্রত্যাখ্যান করে। সিনেটে ভোটাভুটিতে রিপাবলিকানদের প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোট, কিন্তু তারা পেয়েছে মাত্র ৫৫। ফলে ব্যয় বিল পাস হয়নি এবং শাটডাউন কার্যকর হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হতে পারেন। কারণ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন, বিল পাস না হলে ডেমোক্র্যাট সমর্থক কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে।

  • ট্রাম্পবিরোধী নীতি ও সেনা মোতায়েনে ক্ষোভ: আমেরিকার ৯০০ শহরে বিক্ষোভের ডাক

    ট্রাম্পবিরোধী নীতি ও সেনা মোতায়েনে ক্ষোভ: আমেরিকার ৯০০ শহরে বিক্ষোভের ডাক

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে মার্কিন শ্রমিক সংগঠন এএফএল-সিআইও। শ্রমিক দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ৯০০-এরও বেশি স্থানে

    শিকাগো টিচার্স ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাকসন পোটার জানান, এই কর্মসূচি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের নীতিতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে এবং অভিবাসীদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে। আমরা এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারি না।”

    ‘ওয়ার্কার্স অভার বিলিয়নেয়ার’ ব্যানারে আয়োজিত এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, ১৪ জুন ‘নো কিংস’ শীর্ষক এবং ২ আগস্ট আরও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি সারা যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয়েছিল। তবে এবারের শ্রমিক দিবসের বিক্ষোভের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের কৌশল, যার লক্ষ্য রিপাবলিকান প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি ও আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার।

    নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, মায়ামি, আটলান্টা, সানফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ডেট্রয়েট, ডেনভারসহ প্রায় সব বড় শহরেই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আলাস্কা, আলাবামা, নেব্রাস্কা, নর্থ ক্যারোলিনা, ওকলাহোমা, লাসভেগাস, হাওয়াই, মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ছোট-বড় শহরেও একযোগে বিক্ষোভ চলবে।

    শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, এ কর্মসূচি শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা বহন করবে।

  • বাল্টিমোরে সেনা পাঠানোর হুমকি ট্রাম্পের, চরম উত্তেজনা ছড়াচ্ছে মার্কিন রাজনীতিতে

    বাল্টিমোরে সেনা পাঠানোর হুমকি ট্রাম্পের, চরম উত্তেজনা ছড়াচ্ছে মার্কিন রাজনীতিতে

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে গভর্নর ওয়েস মুরের সঙ্গে তার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

    কয়েক দিন আগেই ওয়েস মুর ট্রাম্পকে নিরাপত্তা পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি ‘সেনা পাঠাবেন’, যেমন ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠানো হয়েছিল। তার দাবি, এভাবেই দ্রুত অপরাধ দমন সম্ভব হবে।

    ডেমোক্র্যাট নেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের অভিযোগ, শহরের ভেতরে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা সরাসরি ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’। গভর্নর মুর ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতাপূর্ণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, স্থানীয় জনগণের বাস্তবতা না জেনেই বারবার ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে।

    ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় দুই হাজার সেনা মোতায়েন করেছেন, যেখানে অপরাধ দমন অভিযানে কয়েকশ’ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে সেনা নামানো মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।

    ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধের হার ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে, আর ২০২৫ সালেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবুও ট্রাম্প শিকাগো ও নিউইয়র্কেও সেনা পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার এটিকে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    এক জরিপে দেখা গেছে, বাল্টিমোরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ শহরে সেনা বা ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনের বিপক্ষে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

  • ট্রাম্পের ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ অভিযোগে ওবামার জবাব: ‘হাস্যকর ও বিপজ্জনক দাবি’

    ট্রাম্পের ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ অভিযোগে ওবামার জবাব: ‘হাস্যকর ও বিপজ্জনক দাবি’

    এবিএনএ:  সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ অভিযোগের পর এবার মুখ খুললেন বারাক ওবামা। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ওবামা একটি পরিকল্পিত বিদ্রোহ চালিয়ে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর, বিপজ্জনক এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ওবামার দপ্তর।

    ওবামার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাধারণত হোয়াইট হাউস থেকে আসা অযৌক্তিক দাবি ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতি আমরা প্রতিক্রিয়া দিই না, কারণ প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মর্যাদা বজায় রাখতে চাই। তবে ট্রাম্পের এই অভিযোগ এতটাই ভয়াবহ ও বানোয়াট যে, এটি মোকাবিলা করাই যুক্তিযুক্ত।”

    ওবামার দপ্তর জানায়, ট্রাম্প যে তথাকথিত প্রমাণের কথা বলেছেন, তা মূলত ১১ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন, যা সম্প্রতি ‘ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে পরিচিত তুলসী গ্যাবার্ড প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ওবামার প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন এবং বিচার বিভাগের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    তবে ওবামার কার্যালয় সেই প্রতিবেদনকে ‘একপেশে ও ভুল ব্যাখ্যায় পরিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেয় এবং জানায়—এটি ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি অস্বীকার করে না। বরং ২০২০ সালে মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির প্রকাশিত এক দ্বিদলীয় রিপোর্টে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল বলে মনে করিয়ে দেয় ওবামার দপ্তর।

    ট্রাম্প এই অভিযোগ উত্থাপন করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে এক বৈঠকে। সেখানেই তিনি ওবামাকে বিদ্রোহের ‘নেতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “বারাক হুসেইন ওবামা নেতৃত্বে ছিলেন। এটা ছিল এক রাষ্ট্রদ্রোহী প্রচেষ্টা। নির্বাচন চুরি করতে চেয়েছিল তারা।”

    তবে এই অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফাল্টন আর্মস্ট্রং এই প্রতিবেদনকে ‘পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক নাটক’ বলে বর্ণনা করে বলেন, “এটি বিভ্রান্তিকর, অপেশাদার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি।”

    ওবামার পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ঘটনা বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, এমন কঠোর জবাব মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দুই পক্ষের কৌশলিক লড়াই এখন আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠছে।

  • ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়লেন ইলন মাস্ক, ফিরছেন কর্পোরেট জগতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে

    ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়লেন ইলন মাস্ক, ফিরছেন কর্পোরেট জগতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে

    এবিএনএ :

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গঠিত প্রশাসনের অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক এখন সেই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    বিশ্বখ্যাত টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের পুনর্গঠিত প্রশাসনে ‘সরকারি দক্ষতা বিভাগে’ বিশেষ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত হন। প্রশাসনের সংস্কার ও বাজেট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতেই গঠিত হয় এই বিভাগ। তবে এটি সরকারের মূল কাঠামোর অংশ ছিল না।

    এই দায়িত্বে তার ম্যান্ডেট ছিল ১৩০ দিনের, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ মে। তবে কিছুদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানান, তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

    তার এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের বাজেট ও কর নীতির তীব্র সমালোচনা করেন মাস্ক। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি কিছু বিনিয়োগকারীর মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। তারা চান মাস্ক যেন ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে সরে এসে টেসলা ও স্পেসএক্সে আরও সরাসরি মনোযোগ দেন।

    রয়টার্সের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, মাস্ক ও ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘ডিওজিই’ (সরকারি দক্ষতা বিভাগ) ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বেসামরিক কর্মী বাহিনীর ১২ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে সক্ষম হয়েছে।

    এমন প্রেক্ষাপটে ইলন মাস্কের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তার ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট অগ্রাধিকার পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি ব্যয় হ্রাস ও পুনর্গঠনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

    ইলন মাস্কের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে তার ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।