Tag: মার্কিন অর্থনীতি

  • সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ শূন্য: ট্রাম্প

    সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ শূন্য: ট্রাম্প

    এবিএনএ: গত সাত মাসে একজন বিদেশিও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেননি—এমনই জোরালো দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতির নানা দিক তুলে ধরেন।

    ট্রাম্প বলেন, ভিসা ও সীমান্ত নীতিতে কঠোর অবস্থানের ফলেই অবৈধ অনুপ্রবেশ কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে। তার ভাষায়, অনেকেই বলেছিল এটি অসম্ভব, কিন্তু আমরা করে দেখিয়েছি। কংগ্রেসের নতুন আইন ছাড়াই শক্ত সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের মাধ্যমেই সীমান্ত পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল সীমান্ত পরিস্থিতির মুখে ছিল। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যেই সেটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সীমান্তে রূপ দেওয়া হয়েছে।

    ভাষণে ট্রাম্প শুল্কনীতির কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, আমদানি শুল্কের কড়াকড়ির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বহু প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমোবাইল খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    এ ছাড়া শুল্ক প্রয়োগের কৌশল ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক সংঘাত থামানো সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার মতে, এভাবে অন্তত আটটি যুদ্ধ বন্ধ করা গেছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় সাফল্য।

  • সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে শুরু হচ্ছে বড় আইনি লড়াই

    সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে শুরু হচ্ছে বড় আইনি লড়াই

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ নিয়ে বড় আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো তাকে একের পর এক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

    গত সপ্তাহে ১১১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ফেডারেল রিজার্ভের একজন গভর্নরকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। লিসা কুক নামে ওই গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মনোনয়ন পাওয়ার আগে বন্ধক-সংক্রান্ত কাগজে ভুয়া তথ্য জমা দিয়েছিলেন। তবে কুক অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হলেও এখনও রায় ঘোষণা হয়নি।

    অর্থনীতিতে ট্রাম্পের আরেকটি বড় পদক্ষেপ হলো নতুন শুল্ক আরোপ। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আমদানির ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর বসানোর পাশাপাশি কানাডা, মেক্সিকো, ভারত ও চীনের পণ্যের ওপরও বিশেষ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। কিন্তু ফেডারেল আপিল আদালত এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এককভাবে কর আরোপ করতে পারেন না।

    রবিবার ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি এই রায় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবেন। আদালতের রায়কে তিনি ‘র‍্যাডিকাল লেফটের ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন, “শুল্ক ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র টিকতে পারবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে।”

    এদিকে বিদেশি সহায়তা আটকে রাখার বিষয়েও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন জটিলতার মুখে পড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার প্রকৃত সীমা কোথায় নির্ধারণ হবে তা স্থির করা।

  • মার্কিন আদালতের রায়ে ট্রাম্পের শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষিত, কংগ্রেসের এখতিয়ার নিশ্চিত

    মার্কিন আদালতের রায়ে ট্রাম্পের শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষিত, কংগ্রেসের এখতিয়ার নিশ্চিত

    এবিএনএ:  মার্কিন ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কের বেশিরভাগকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালতের মতে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) অনুযায়ী শুল্ক আরোপ প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারের বাইরে, যা শুধুমাত্র কংগ্রেসের কর্তৃত্বাধীন।

    সাত-চার ভোটে দেওয়া রায়ে আদালত স্পষ্ট জানায়, ট্রাম্পের যুক্তি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ১২৭ পৃষ্ঠার বিস্তারিত রায়ে বলা হয়, আইইইপিএতে কোথাও শুল্ক আরোপের অনুমতি নেই এবং কংগ্রেসই কর ও শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা।

    এই রায় কার্যকর হবে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে, যাতে ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সময় পায়।

    রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এই রায় বহাল থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাবে।” তিনি আরও দাবি করেন, আদালত পক্ষপাতদুষ্ট এবং আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তার মতে, শুল্ক তুলে নিলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

    ট্রাম্প পূর্বে যুক্তি দিয়েছিলেন, বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং তাই জরুরি অবস্থা জারি করে শুল্ক আরোপ বৈধ। তবে আদালত বলেছে, ১৯৭৭ সালে কংগ্রেস আইইইপিএ পাশ করলেও তা কখনো প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল না। বরং শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে সবসময় ‘ট্যারিফ’ বা ‘ডিউটি’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে কংগ্রেসের কর্তৃত্বই নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের করা মামলার ভিত্তিতেই আদালত এই রায় দেয়। এসব মামলার সূত্র ছিল ট্রাম্পের গত এপ্রিলে দেওয়া নির্বাহী আদেশ, যেখানে তিনি প্রায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক এবং আরও কিছু দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন।

  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা বাড়ল

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা বাড়ল

    এবিএনএ:  বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী। মঙ্গলবার এক লাফে তা পৌঁছেছে গত দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রভাব স্বর্ণবাজারে দেখা দেয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং মার্কিন সম্পদের প্রতি আস্থা নড়বড়ে করেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৭৮.৬৪ ডলারে। এর আগের সেশনে দাম পৌঁছায় ৩ হাজার ৩৮৬.২৭ ডলারে, যা ১১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের দামও ০.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪২৬ ডলারে।

    সোমবার ট্রাম্প বন্ধকি ঋণ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে নজিরবিহীনভাবে কুককে বরখাস্ত করেন। এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

    সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো ডি কাসা বলেন, “অনেকে মনে করছেন ট্রাম্পের পদক্ষেপ ফেডারেল রিজার্ভের মধ্যে সুদের হার কমানোর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। এতে ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং বাজার অনিশ্চয়তায় পড়ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ কিনতে ঝুঁকছেন।”

    সাধারণত সুদের হার কমে গেলে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্বর্ণের মতো নন-ইয়েল্ডিং সম্পদের দাম বাড়তে থাকে।

    এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্ট জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা স্বর্ণের মজুত সোমবার ০.১৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫৮.৪৯ মেট্রিক টনে, যা শুক্রবার ছিল ৯৫৬.৭৭ টন।

    এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল শুক্রবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আগামী মাসে সুদের হার কমানো হতে পারে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি এখনও একটি বড় হুমকি।

    কার্লো আলবার্তো ডি কাসার মতে, বাজার এখন ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদ কমার আশা করছে। তবে আরও বড় ধরনের সুদ হ্রাসের সম্ভাবনা কম থাকলেও, যদি ঘটে, তাহলে স্বর্ণবাজারের জন্য তা আরও সহায়ক হবে।

  • ট্রাম্পের অর্থনৈতিক বিলে ক্ষুব্ধ ইলন মাস্ক: ‘বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে’

    ট্রাম্পের অর্থনৈতিক বিলে ক্ষুব্ধ ইলন মাস্ক: ‘বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে’

    এবিএনএ :

    মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক বিল নিয়ে প্রকাশ্য অসন্তোষ জানালেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত এই বিলটি স্বল্প ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছে, যা এখন সিনেটের অপেক্ষায় রয়েছে।

    বিলটিতে বিপুল পরিমাণ কর ছাড় এবং প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাস্ক। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই বিল বাজেট ঘাটতি কমানোর পরিবর্তে তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আমি খুব হতাশ।”

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ৬০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মাস্কের ভাষায়, “একটি বিল বড় এবং সুন্দর হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে দুটো নয়।”

    ইলন মাস্ক পূর্বে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডিওজিই (ডোজ)-এর প্রধান ছিলেন। এই সংস্থার লক্ষ্য ছিল সরকারি ব্যয় কমানো ও প্রশাসনিক খরচে সাশ্রয় আনা। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন বিল সেই উদ্যোগকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন মাস্ক।

    তিনি জানান, তিনি ইতোমধ্যেই ডিওজিই থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার নেতৃত্বে এ প্রকল্প প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করলেও, কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

    মাস্ক বলেন, “আমি যা করেছি, সেটি প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সরকারের খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবে ধরে রাখতে হলে এখনকার বিল সম্পূর্ণ বিপরীত দিকেই যাচ্ছে।”

    এছাড়া মাস্ক ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অনুদান কমিয়ে দেওয়ার এবং অন্তত আরও পাঁচ বছর টেসলার নেতৃত্বে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

    ডিওজিই-তে কাজ করার সময় মাস্ক সমালোচনার মুখে পড়েন—বিশেষ করে সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাসের সিদ্ধান্তের কারণে। এ সময় টেসলার বিক্রিতে ধস নামে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়।

    তবুও মাস্কের দাবি, “এই সংস্কারগুলি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এখন যে বিলটি পাস হয়েছে, তা সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত।”


  • শুল্কযুদ্ধের ধাক্কা: আমেরিকার ইতিহাসে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি মার্চ মাসে

    শুল্কযুদ্ধের ধাক্কা: আমেরিকার ইতিহাসে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি মার্চ মাসে

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শুল্কযুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বাণিজ্য দপ্তর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের মার্চে আমেরিকার মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ দশমিক বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক ১৯৯২ সালের পর থেকে একক মাসে সর্বোচ্চ ঘাটতির রেকর্ড। ফেব্রুয়ারিতে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১২৩.২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মাত্র এক মাসেই বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৭.৩ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় মার্কিন আমদানিকারকেরা আগেভাগেই পণ্যের জোগান বাড়িয়েছেন। যদিও হোয়াইট হাউস জুলাই পর্যন্ত নতুন শুল্ক কার্যকর স্থগিত রেখেছে, তবু বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠার তাগিদে ব্যবসায়ীরা আগেই পণ্য আমদানি করে ফেলেছেন।

    মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৪১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যেখানে রপ্তানি হয়েছে ২৭৮ দশমিক বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাণিজ্য ঘাটতির ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যের আমদানিতে তীব্র উল্লম্ফন দেখা গেছে। মার্চ মাসে এই খাতে আমদানি বেড়েছে ২২ দশমিক বিলিয়ন ডলার, যা সামগ্রিক ঘাটতি বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

    অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল মার্চ মাসে ঘাটতি দাঁড়াবে আনুমানিক ১৩৭.৬ বিলিয়ন ডলার। বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি হয়েছে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এই নতুন পরিসংখ্যান মার্কিন শুল্ক নীতির ফলাফল বিশ্ববাজারে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।