Tag: মানবিক সংকট

  • রক্তাক্ত ভোর ইরানে: ৩১ প্রদেশের ২০টির বেশি অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ, শিশু নিহতের খবরে শোক

    রক্তাক্ত ভোর ইরানে: ৩১ প্রদেশের ২০টির বেশি অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ, শিশু নিহতের খবরে শোক

    এবিএনএ: ভোরের আলো ফোটার আগেই ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে জনপদ। শনিবার শুরু হওয়া সমন্বিত সামরিক অভিযানে দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টির বেশি এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ইরানের উদ্ধারকারী সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

    দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বহু শিশুর প্রাণহানির খবর দেশজুড়ে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়াদের উদ্ধারে রেড ক্রিসেন্টের দলগুলো কাজ করছে।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যেসব স্থাপনা থেকে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে বা সহায়তা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে তেহরান বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে ইরান প্রস্তুত।

    রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র জানান, রাজধানী তেহরানসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক প্রদেশে একযোগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীরা অনেক এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও ইসরাইলের ‘ছায়াযুদ্ধ’ এবার প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। তেহরান থেকে পাল্টা জবাবের কড়া বার্তা আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

  • রাজবাড়ীতে কবর ভাঙচুর ও লাশ পোড়ানো: মানবজাতির মর্যাদায় অমানবিক আঘাত

    রাজবাড়ীতে কবর ভাঙচুর ও লাশ পোড়ানো: মানবজাতির মর্যাদায় অমানবিক আঘাত

    এবিএনএ:  রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার কবর ভেঙে লাশ উত্তোলন ও পরে পোড়ানোর ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং মানবজাতির মর্যাদার ওপর ভয়াবহ আঘাত। সভ্য সমাজে এমন অমানবিক বর্বরতা অকল্পনীয়।

    ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার জুমার নামাজের পর। স্থানীয়রা নুরাল পাগলার কবর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানাচ্ছিলেন। কবরটি কাবা শরিফের আদলে নির্মাণ এবং ভেতরে বিশেষভাবে মরদেহ দাফন করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরে আন্দোলনকারীরা সমাবেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে নুরাল পাগলার বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলা চালায়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, ভক্তদের মারধর এবং ব্যাপক ভাঙচুরের পর কবর ভেঙে মরদেহ বের করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এতে অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন এবং একজন নিহত হন।

    এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আগুন জ্বলতে থাকা অবস্থায় উল্লাসের দৃশ্য সভ্য সমাজে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, “এটি শুধু আইন ভাঙা নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজের ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত।”

    রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিএনপি অভিযোগ করেছে, এর পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। জামায়াত ও হেফাজত ইসলাম একে ইসলামী শিক্ষা ও মানবিকতার পরিপন্থী বলে নিন্দা জানায়। অন্যদিকে নাগরিক পার্টি প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তদন্তের দাবি তুলেছে।

    অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং সমাজের গভীর নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, “কবর ভেঙে লাশ পোড়ানো শুধু একজনের প্রতি অবমাননা নয়, বরং গোটা মানবজাতির মর্যাদার ওপর আঘাত। এ ধরনের বর্বরতা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ জরুরি।”

    পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দেশে ক্রমবর্ধমান ‘মব জাস্টিস’ বা গণবিচার প্রবণতা অত্যন্ত ভয়ংকর সামাজিক সংকেত। রাষ্ট্র যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংসতা আরও বাড়তে পারে।

  • গাজায় ফের ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি

    গাজায় ফের ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি

    এবিএনএ: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গাজার মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৬২ হাজার ১০০ জনে

    বার্তাসংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একদিনে নিহতদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ৩৪৩ জন। ফলে এখন পর্যন্ত আহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৩ জনে

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, একদিনে অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন তিনজন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৬ জনে, এর মধ্যে ১১২ জন শিশু

    মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপরও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ধরনের হামলায় নিহত হয়েছেন ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন ১৯৭ জন। গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত খাদ্য ও সহায়তা সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার

    অন্যদিকে, টানা বোমা বর্ষণের কারণে গাজার উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা অনেক লাশ এখনো উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

    গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করার পর থেকে ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে।

  • গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    এবিএনএ: গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা ঘোষণা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিশ্বনেতারা বলছেন, এই পদক্ষেপ কোনো সমাধান আনবে না, বরং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংস ডেকে আনবে। সম্প্রতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে, যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সামরিক অভিযানকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানান। তার মতে, এই আক্রমণ জিম্মিদের মুক্তি বা সংঘাতের সমাধান নয়, বরং রক্তপাত বাড়াবে। একইভাবে চীনও এই পরিকল্পনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে গাজাকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় ব্যবহারের জন্য কোনো সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে রপ্তানি করা হবে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের পরিপন্থী এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

    ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে অবৈধ ও অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন। হামাস সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলি বন্দিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে। এমনকি ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিডও এই পরিকল্পনার নিন্দা করেছেন, দাবি করেছেন নেতানিয়াহু চরম ডানপন্থীদের চাপে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

    নেতানিয়াহু নিজে বলেছেন, গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামাসকে সরিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য। তবে ইসরায়েলের সামরিক প্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ জিম্মিদের বিপদে ফেলবে এবং সেনাবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

    এদিকে মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে যাতে সব জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধ থামানো ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। কিন্তু গাজা শহরে ইসরায়েলের বারবারের বোমাবর্ষণ ও হামলার ফলে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে দখল করার মতো তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত ২২ মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬১ হাজার ২৫৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৫ জন আহত হয়েছে।

  • গাজায় ত্রাণের ট্রাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, প্রাণ গেল পাঁচজনের

    গাজায় ত্রাণের ট্রাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, প্রাণ গেল পাঁচজনের

    এবিএনএ: 

    দক্ষিণ গাজার আল মাওয়াসি এলাকায় ত্রাণ নিতে আসা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর শনিবার ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

    আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী যদিও গাজার কিছু এলাকায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, তবে উত্তর গাজায় এখনও একরকম অবরুদ্ধ অবস্থাই বজায় আছে। সেখানে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। গাজার বাসিন্দা আহমেদ আল নাজ্জার বলেন, “দক্ষিণে কিছু ট্রাক ঢুকেছে, তবে আমাদের বহু পরিবার এখনও একটি বিস্কুট পর্যন্ত পায়নি।”

    শনিবার পর্যন্ত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মৃতের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৯০০ ছাড়িয়েছে, আর আহতের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৫০০-এর বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ হতাহতই নারী ও শিশু।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গত দুই দিনে তারা গাজায় ১০০-র বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৭০ জন ফিলিস্তিনি। গাজা সিটির তুফা এলাকায় ভোররাতে বোমা বর্ষণে প্রাণ যায় চারজনের। এর পাশাপাশি, মধ্য গাজার দায়ের আল বালাহ অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা স্থল অভিযান শুরু করেছে।

    ৯২টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও উত্তর গাজা রয়ে গেছে বঞ্চিত

    গাজার চিকিৎসা বিভাগের প্রধান জানান, গত তিন দিনে মোট ৯২টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করলেও, সেগুলো শুধুমাত্র দক্ষিণ অংশেই গেছে। উত্তর গাজায় এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আংশিক ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা গাজার সার্বিক সংকটকে খুব একটা লাঘব করছে না।

    ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবঢাল ব্যবহার করার অভিযোগ

    ফিলিস্তিনের এক বাসিন্দা মাসুদ আবু সাইদ জানান, তাকে খান ইউনিস এলাকায় জোর করে দুই সপ্তাহ ধরে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। “আমাকে জোর করে হামাসের টানেল খুঁজে বের করতে বাধ্য করা হয়েছিল,” বলেন মাসুদ। তিনি বলেন, “আমার শিশু সন্তানের কাছে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।”

    জাতিসংঘের আহ্বান: ত্রাণ আরও বাড়াতে হবে

    গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। জাতিসংঘ বলছে, গাজায় প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় ত্রাণের পরিমাণ অনেক কম। তারা দ্রুত ও ব্যাপক হারে ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় ইসরায়েলের এই আচরণকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এখন বড় প্রশ্ন: এই সংঘাত কতদিন চলবে এবং কত প্রাণ আরও ঝরবে?