Tag: মানবাধিকার লঙ্ঘন

  • যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শঙ্কা: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭

    যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শঙ্কা: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭

    এবিএনএ: লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক হামলা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও থামেনি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। সংস্থাটির মতে, গত এক বছরে এসব হামলায় অন্তত ১২৭ জন নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য তুলে ধরে যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র থামিন আল-খাতিন বলেন, “যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শুধু বেসামরিক মানুষই নয়, লেবাননের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।”

    তিনি আরও জানান, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া ১২৭ জন নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। অনেক ঘটনায় প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যু সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এবং অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। সংস্থাটি এই হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করে এবং যুদ্ধবিরতি রক্ষা করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি কঠোর আহ্বান জানায়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা থেমে নেই। এ ধরনের হামলা শুধু সংঘাত বৃদ্ধি করবে না, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।

  • গভীর রাতে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া: টিআইবির উদ্বেগে নড়ে উঠল মানবাধিকার প্রশ্ন

    গভীর রাতে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া: টিআইবির উদ্বেগে নড়ে উঠল মানবাধিকার প্রশ্ন

    এবিএনএ: বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পর এক সাংবাদিক ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

    টিআইবির মতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই এভাবে নাগরিককে তুলে নেওয়া আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। সংস্থাটি এটিকে ‘অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিহীন অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমালোচনা দমনের ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে।

    গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে টিআইবি জানায়, এনইআইআর নীতিমালা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানানোর ফলেই সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে দীর্ঘ সময় ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। কখনো বলা হয় “তথ্য যাচাইয়ের জন্য”, আবার কখনো সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত পদবির কারণ দেখানো হয়—যা টিআইবির মতে পরস্পরবিরোধী ও অসংগত ব্যাখ্যা।

    এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মতভিন্নতা দমনে গভীর রাতে কাউকে কারণ না জানিয়ে তুলে নেওয়া কর্তৃত্ববাদী ও নিপীড়নমূলক প্রথার উদাহরণ। অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী সমন পাঠানো এবং আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নিয়ম স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “শুধু ব্যক্তিবদল নয়, গোয়েন্দা সংস্থাসহ নজরদারি কাঠামোর মৌলিক সংস্কার জরুরি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে এমন নজরদারি সংস্কৃতি চলতে থাকলে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কঠিন হবে।”

    সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সমালোচকদের শত্রু হিসেবে দেখার মানসিকতা আত্মঘাতী। সংবাদ সম্মেলন করা বা সরকারী নীতির সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়; বরং সংবিধানের ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।”

    টিআইবি অভিযোগ করে বলেছে, এনইআইআর সম্পর্কিত মতামত দেওয়ার কারণে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর কাপুরুষোচিত আঘাত। এটি শুধু দেশের সংবিধান নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

    বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

    এবিএনএ: বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধিত ধারা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতিক ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করছে।

    বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের উচিত এ বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ করা।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। পরে দায়িত্ব গ্রহণ করে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যারা চলতি বছরের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়।

    এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যেন অতীতের মতো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফাঁদে না পড়ে। শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমন গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।”

    তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার বন্ধে দ্রুত ভূমিকা নিতে হবে।

    সংস্থাটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অস্বচ্ছ অভিযোগ আনা হয়েছে। কিছু আটক ব্যক্তিরা পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন, যা অতীত সরকারের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

    উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ঘটে গত ২৮ আগস্ট ঢাকায়, যখন ‘মঞ্চ ৭১’ সংগঠন স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে এক সভা আয়োজন করে। সেখানে হামলার পর পুলিশের বদলে সভায় অংশ নেওয়া ১৬ জনকেই আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান এবং সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

    পরে তাঁদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনাকেই ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত এই আইন এখন শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ এডিটরস কাউন্সিলও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আইনটির সংশোধন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। যদিও ড. ইউনূস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    অন্যদিকে দেশের আইন সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জনতার হাতে অন্তত ১৫২ জন নিহত হয়েছেন, যা সামাজিক অস্থিরতা ও বিচারহীনতার ইঙ্গিত বহন করছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তিন বছরের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য মানবাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের উচিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধ করে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

  • লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনের গ্রেপ্তার নিয়ে ডেভিড বার্গম্যানের তীব্র সমালোচনা

    লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনের গ্রেপ্তার নিয়ে ডেভিড বার্গম্যানের তীব্র সমালোচনা

    এবিএনএ:  সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। তিনি বলেন, এটি শুধু অযৌক্তিক পদক্ষেপ নয়, বরং দেশের স্বার্থবিরোধী।

    শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে বার্গম্যান লিখেছেন, “মঞ্চ ৭১ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সাবেক মন্ত্রীসহ আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত সরকার না পুলিশ—কেউ নিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে নিশ্চিতভাবেই এটি দেশের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ নয়।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সভায় যা বলা হয়েছিল বা বলা হতে পারত, তা কিছু মহলের কাছে উসকানিমূলক মনে হতে পারে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জন কোনো অপরাধ করেননি, তারা কেবল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।

    বার্গম্যানের মতে, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি সত্যিই দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে তাদের বুঝতে হবে—রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাউকে গ্রেপ্তার বা মানবাধিকার হরণ কোনো সমাধান নয়। আওয়ামী লীগের অতীত ভুলগুলোর একটি বড় কারণও ছিল এই ধরনের দমননীতি।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এভাবে নির্বিচারে গ্রেপ্তার কেবল বিচার প্রক্রিয়ার পরিপন্থীই নয়, বরং এটি মব বা বিশৃঙ্খলাকারীদের উৎসাহিত করে। ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

  • ঢাকায় সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বর্বর নির্যাতন, তীব্র প্রতিবাদে বিএফইউজে-ডিইউজে

    ঢাকায় সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বর্বর নির্যাতন, তীব্র প্রতিবাদে বিএফইউজে-ডিইউজে

    এবিএনএ:  রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাংবাদিক সমাজ। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা জয়নালসহ সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

    বুধবার (২৭ আগস্ট) দেওয়া বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, পুলিশের এমন ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রমাণ করে তারা এখনো পুরোনো চরিত্র বদলাতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীই উদ্দেশ্যমূলকভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করছে।

    ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, দুপুরে দ্য নিউ নেশনের দুই প্রতিবেদক মোটরবাইকে সেগুনবাগিচার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যানজটে আটকা পড়লে একটি মাইক্রোবাস চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে চালক চাকু দিয়ে সাংবাদিক সৈয়দ শাকিল পারভেজকে আঘাত করে। সহকর্মী নোমান মোশাররফ এগিয়ে গেলে গাড়িতে থাকা অন্যরা তাদের ছিনতাইকারী বলে মারধর শুরু করে।

    এসময় উপস্থিত পুলিশ তাদের থামানোর বদলে উল্টো দুই সাংবাদিককে বেধড়ক পেটায়। এমনকি সহকর্মীরা সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ নির্যাতন চালাতে থাকে। পরে কর্মকর্তা জয়নালের নির্দেশে বাংলা ভিশনের কেফায়েত শাকিল, নিউ নেশনের নোমান মোশাররফ ও সৈয়দ শিমুল পারভেজকে পুলিশ বক্সে ঢুকিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন, যাদের মধ্যে গুরুতর দুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের অমানবিক হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

  • গাজায় পূর্ণমাত্রায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা জাতিসংঘের, ইসরায়েল দিল প্রতিবাদ

    গাজায় পূর্ণমাত্রায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা জাতিসংঘের, ইসরায়েল দিল প্রতিবাদ

    এবিএনএ:  গাজা উপত্যকায় চলছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী সেখানে এখন পূর্ণমাত্রায় দুর্ভিক্ষ চলছে। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ইসরায়েলের অবরোধ ও খাদ্য সহায়তা আটকে দেওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

    আল জাজিরা ও এএফপি জানিয়েছে, গাজার সংকট নিয়ে জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) জানায়—শুধু গাজা সিটিতেই নয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেইর আল বালাহ ও খান ইউনিসেও দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষুধার জালে আটকা পড়েছেন।

    আইপিসি গাজাকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সর্বোচ্চ ধাপ ফেজ-৫ এ চিহ্নিত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, গাজার খাদ্য সংকট এখন জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক বলেন, “যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধা ব্যবহার করা যুদ্ধাপরাধ।” একইসঙ্গে জাতিসংঘের সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার অভিযোগ করেন, “এই দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধযোগ্য ছিল, কিন্তু ইসরায়েলের বাধার কারণে খাদ্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।”

    এদিকে ইসরায়েল জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ নেই। তাদের মতে, হামাসের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এসব রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বর্তমান পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে অবিলম্বে শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রতিবেদন প্রকাশের সময় গাজায় চলছে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান। আক্রমণের তীব্রতায় হাজারো ফিলিস্তিনি আবারও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে অন্তত ১০ লাখ মানুষ নতুন করে আশ্রয়হীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে দৃঢ় অবস্থান: প্রধান উপদেষ্টার বার্তা জুলাই বিপ্লব স্মরণে

    মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে দৃঢ় অবস্থান: প্রধান উপদেষ্টার বার্তা জুলাই বিপ্লব স্মরণে

    এবিএনএ: গত বছরের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়—ন্যায়বিচার মানে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রক্ষমতা কখনোই ব্যবহার হবে না।”


    🗓️ ‘জুলাই বিপ্লব’-এর স্মরণে এক প্রতিশ্রুতিশীল বার্তা

    ‘জুলাই বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী’ উপলক্ষে জাতিসংঘ ঢাকা কার্যালয়ের আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইউনূস বলেন, “গত বছর এই সময় দেশের হাজার হাজার মানুষ—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম—ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় নেমেছিল। তাদের ত্যাগ গোটা জাতির গর্ব।”


    🕊️ জাতিসংঘের ভূমিকার প্রশংসা

    ড. ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সংকট কিংবা গত বছরের সংকটকালেও জাতিসংঘ আমাদের পাশে ছিল। জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরের সহযোগিতায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হয়েছে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়, যা ছিল পরিকল্পিত ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত সহিংসতা


    ⚖️ বিচারের দাবি ও চলমান পদক্ষেপ

    ড. ইউনূস বলেন, “এই সহিংসতা শুধুমাত্র নিন্দনীয় নয়, বরং তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। জাতিসংঘের সুপারিশমালার আলোকে আমরা ইতিমধ্যে গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন, দণ্ডবিধির সংশোধন এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি।”

    তিনি জানান, ঢাকায় গঠিতব্য সহায়তাকারী মিশন সরকার ও সুশীল সমাজকে কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেবে।


    🗳️ একটি নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের প্রত্যাশা

    অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জাতীয় ঐকমত্য গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রত্যেক মানুষ শান্তি, মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।”


    🔚 ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়

    শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা এই স্বপ্নের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করেছে—যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র অটল থাকবে।”

    এই প্রতিশ্রুতি শুধু রাষ্ট্রীয় ভাষণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তবায়নের দিকেও এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • রংপুরে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়িতে হামলা: বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আসকের কড়া নিন্দা

    রংপুরে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়িতে হামলা: বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আসকের কড়া নিন্দা

    এবিএনএ: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

    মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আসক জানায়, একজন কিশোরের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো একটি সম্প্রদায়ের ওপর যে সহিংসতা চালানো হয়েছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।


    ⚠️ কী ঘটেছিল রংপুরের বেতগাড়ীতে?

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কিশোর স্থানীয় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তাকে গ্রেপ্তার করে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    কিন্তু মামলার প্রক্রিয়া চলাকালে মাইক ব্যবহার করে এলাকায় উসকানিমূলক প্রচার চালানো হয়। এরপর একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি সংগঠিত হয়ে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে অনেক ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয় এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


    🛑 আসকের উদ্বেগ ও দাবি

    আসক বলছে, “ধর্মীয় অনুভূতিকে অস্ত্র বানিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রবণতা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে বিচারের বাইরে।”

    এই বিচারহীনতা সাংবিধানিক অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার পরিপন্থী বলেও সংস্থাটি মনে করে।


    📢 আসকের তিন দফা দাবি:

    ১. হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা
    ২. আক্রান্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ
    ৩. ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় রাষ্ট্রের কার্যকর ও বলিষ্ঠ ভূমিকা নিশ্চিত করা

    আসক মনে করে, এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নিলে ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আরও সংকটে পড়বে এবং সমাজে বিভেদ আরও গভীর হবে।

    এই ঘটনায় দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে আইনের শাসন ও সংবিধানের মূলনীতি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে।

  • গোপালগঞ্জের সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আসকের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    গোপালগঞ্জের সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আসকের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। প্রতিষ্ঠানটি এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের সভা-সমাবেশের অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

    মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, “সেদিনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ ছিল ফ্যাসিস্ট কায়দার। তারা নির্বিচারে লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ার শেল ব্যবহার করেছে। পরে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে। নিহতদের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের ঘটনা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।”

    আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তিন ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সাধারণ জনতা’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী রাস্তা দখলে নিয়ে ইট-পাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়।

    ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জে জারি হয় ১৪৪ ধারা এবং শুরু হয় নির্বিচারে গ্রেপ্তার। আসকের তথ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি নিরীহ মানুষের ঘরে ঘরে অভিযান চালানো হয়, যেসব এলাকায় কোনো সহিংসতা হয়নি সেখানেও হয়রানি চলে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত ইমন তালুকদার, রমজান কাজী, দীপ্ত সাহা ও সোহেল মোল্লার মরদেহ তাৎক্ষণিকভাবে দাফন বা সৎকারে বাধ্য করা হয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে। পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২১ জুলাই তিনজনের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়। নিহতদের পরিবারের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

    আসকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সংঘর্ষ সংক্রান্ত ৮টি মামলা হয়েছে, যার ৬টির নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ৫,৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৮ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। আসামিদের মধ্যে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপস্থিতিও রয়েছে।

    এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৮ শিশুকে আটক করেছে, যাদের অনেককেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যদিও তাদের পরিবার দাবি করেছে, এসব শিশুরা সংঘর্ষে সম্পৃক্ত ছিল না।

    তথ্য সংগ্রহে গেলে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণের কথাও উল্লেখ করেছে আসক। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা কোনো মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করেনি এবং সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, “রাজনৈতিক সমাবেশে বাধা দেওয়া কখনোই যুক্তিযুক্ত নয়। আগে থেকেই পুলিশ সতর্ক থাকলে এ রকম প্রাণহানি হতো না।”

    আসক জোর দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে এই ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং নির্দোষ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে।

  • ত্রাণ নিতে এসে প্রাণ গেল ৭৪৩ ফিলিস্তিনির: মার্কিন-ইসরায়েলি কেন্দ্রে নৃশংসতার অভিযোগ

    ত্রাণ নিতে এসে প্রাণ গেল ৭৪৩ ফিলিস্তিনির: মার্কিন-ইসরায়েলি কেন্দ্রে নৃশংসতার অভিযোগ

    এবিএনএ: গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের মধ্যেই আরও এক মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলো ফিলিস্তিনিরা। মার্কিন ও ইসরায়েলি সমর্থিত ত্রাণ সংস্থা ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ পরিচালিত কেন্দ্রে ত্রাণ নিতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৪৩ জন ফিলিস্তিনি। এই ঘটনার সময় আরও প্রায় ৪ হাজার ৯০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

    গত মে মাসের শেষদিক থেকে জিএইচএফ গাজায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই কেন্দ্রগুলোই হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুকূপ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ত্রাণ নেওয়ার জন্য জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ ও স্ট্যান গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

    এক ফিলিস্তিনি আহত ব্যক্তি, মজিদ আবু লাবান, যিনি খাবারের সন্ধানে কেন্দ্রটিতে গিয়েছিলেন, বলেন, “আমার সন্তানরা টানা তিন দিন না খেয়ে ছিল। বাধ্য হয়েই আমি খাবার নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যা দেখেছি, তা ভয়াবহ।”

    এই ঘটনার পর জিএইচএফ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই সংস্থাটিকে একটি “সামরিকীকৃত অমানবিক কর্মসূচি” হিসেবে অভিহিত করে এর বহিস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, জিএইচএফ মূলত আন্তর্জাতিক সমাজের উদ্বেগ প্রশমনের একটি ছদ্মবেশ মাত্র, যা আসলে ইসরায়েলের দমননীতি বাস্তবায়নের অংশ।

    এরই মাঝে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কাতারে মধ্যস্থতা আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠালেও, গাজায় হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুধুমাত্র আজ রোববার ভোরেই ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ২৭ জন ফিলিস্তিনি। গাজার তুফা এলাকাখান ইউনিসে ড্রোন হামলায় মৃত্যু ঘটে অনেকের।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি জিএইচএফকে ৩ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা নিয়েও উঠেছে নতুন বিতর্ক।

    আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ, গাজা থেকে বলেন, “এই মানুষগুলো কেবল একমুঠো খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিল। তাদের কেউই জানত না, ত্রাণের আশায় গিয়ে তারা আর ফিরে আসবে না।”

    স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃষ্টিপাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো সম্পর্ক নেই এই মৃত্যুর সঙ্গে—এটি মানবসৃষ্ট সহিংসতার নির্মম এক চিত্র

    গাজায় যুদ্ধ চলছে ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে। এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই মানবিক বিপর্যয়ের শেষ কোথায়?