Tag: মানবাধিকার কমিশন

  • একদিনেই জাতীয় সংসদে ৩১ বিল পাস, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশ অনুমোদন

    একদিনেই জাতীয় সংসদে ৩১ বিল পাস, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশ অনুমোদন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একদিনেই ৩১টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২৮টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন পাস করা হয়েছে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও অনুমোদন পেয়েছে।

    বৃহস্পতিবার অধিবেশনের ১২তম দিনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন খাতের সংশোধনী আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    অবিকল রেখে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশোধন, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন সংশোধন, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংশোধন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন বিল। এছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী, শ্রম আইন, ইউনিয়ন পরিষদ, আইনগত সহায়তা প্রদান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংশোধনী বিল অনুমোদন করা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ, বাংলাদেশ গ্যাস, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণসহ একাধিক নতুন আইনও পাস হয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর—পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ সম্পর্কিত সংশোধনী বিলও অনুমোদন পেয়েছে।

    এছাড়া ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ এবং হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন সংশোধন বিলও পাস হয়েছে।

    অন্যদিকে কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন বিল পাস করেছে সংসদ। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ বিষয়ক অধ্যাদেশও রহিত করা হয়েছে।

    এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে কমিশনের কার্যক্রম পূর্বের আইনি কাঠামোতে পরিচালিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে ব্যাপক সংস্কার: শক্তিশালী ক্ষমতা ও বাধ্যতামূলক আদেশের বিধান

    নতুন মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে ব্যাপক সংস্কার: শক্তিশালী ক্ষমতা ও বাধ্যতামূলক আদেশের বিধান

    এবিএনএ:  জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও ক্ষমতাসম্পন্ন করতে নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অধ্যাদেশটি অনুমোদন হয়।

    বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

    আইন উপদেষ্টা জানান, পুরোনো মানবাধিকার কমিশন কার্যত দন্তহীন ছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, এখতিয়ারে ঘাটতি এবং নেতৃত্বের দুর্বলতা প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর করে তুলেছিল। নতুন অধ্যাদেশে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে কমিশনকে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতাসম্পন্ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়েছে।

    কমিশনের গঠন ও নিয়োগে স্বচ্ছতা

    নতুন আইনে কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন আহ্বান এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে।

    ড. আসিফ নজরুল বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য, অভিজ্ঞ ও মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ব্যক্তিরাই কমিশনে অন্তর্ভুক্ত হবেন।”

    বর্ধিত এখতিয়ার ও দায়িত্ব

    নতুন অধ্যাদেশে কমিশনের এখতিয়ার বহুলাংশে বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে শৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারি সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও তদন্তের আওতায় আসবে।

    আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “আগের কমিশনের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল প্রশাসন বা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা। এবার সেই সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে।”

    গুম প্রতিরোধ ও বাধ্যতামূলক আদেশ

    অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুম প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বও কমিশনের ওপর অর্পিত হয়েছে। ফলে আলাদা করে কোনো ‘গুম কমিশন’ গঠনের প্রয়োজন পড়বে না।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কমিশনের আদেশ এখন থেকে বাধ্যতামূলক হবে। অর্থাৎ, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করলে তা আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নতুন পদক্ষেপ

    নতুন কমিশনের এখতিয়ারে কেবল সংবিধানের মৌলিক অধিকার নয়, বরং বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কমিশন এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করতে পারবে, যা দেশের মানবাধিকার অঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

  • জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনে সরকারের বৈধতা নেই: সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র প্রতিবাদ

    জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনে সরকারের বৈধতা নেই: সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র প্রতিবাদ

    এবিএনএ:  ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় খোলার সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এমন নীতিগত চুক্তি করা অনুচিত।

    সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “এ ধরনের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ছাড়া অগ্রসর হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি এ সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো ইস্যুতেও ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।”

    সালাহউদ্দিন আরো বলেন, “গাজা, আরাকান, প্যালেস্টাইনের মতো জায়গায় মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও জাতিসংঘ সেখানে কার্যকর ভূমিকা রাখে না। অথচ বাংলাদেশে এমন একটি অফিস খোলার প্রয়োজন দেখা গেল।”

    তিনি জানান, এই চুক্তির মেয়াদ তিন বছর হলেও এক বা দুই বছরের মাথায় তা পর্যালোচনা হতে পারে। পরবর্তী সরকার চুক্তি নবায়ন করবে কি না, সেটাই মূল প্রশ্ন। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে সবকিছু পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে এগোনো।

    এসময় তিনি জাতিসংঘের নতুন আবাসিক প্রতিনিধি নিয়োগ সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, যিনি আসছেন, তাঁর সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর তথ্য তারা পেয়েছেন। তিনি আহ্বান জানান, সরকার যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।

    হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, “আমরা দেশের স্বার্থে কথা বলবো, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানকে চোখ বন্ধ করে স্বাগত জানানো ঠিক হবে না। দেশ ও ইসলামবিরোধী শক্তি যেন সুযোগ না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

    আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর মতে, “সরকার রাজনৈতিক আলোচনায় না গিয়েই একতরফাভাবে চুক্তি করেছে। এই চুক্তির নীতিমালার বাইরে কমিশন কাজ করলে আমরা রাজপথে নামবো।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, “পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এই মিশন স্থাপিত হলে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ আরও হুমকির মুখে পড়বে।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজেদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন আরও অনেকে, যার মধ্যে ছিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাহফুজুল হক, সালাউদ্দিন নানুপুরী, জাতীয় ওলামা পরিষদের মহাসচিব রেজাউল করিম এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল হক প্রমুখ।