Tag: মাছের বাজার

  • ঈদের পর বাজারে নতুন ধাক্কা: সোনালী ৪৩০ টাকা, বাড়ছে ব্রয়লার ও মাছের দাম

    ঈদের পর বাজারে নতুন ধাক্কা: সোনালী ৪৩০ টাকা, বাড়ছে ব্রয়লার ও মাছের দাম

    এবিএনএ: রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে মুরগির দাম। এক মাসের ব্যবধানে সোনালী মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা বেড়ে ৪৩০ টাকায় উঠেছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগিও বাড়তির দিকে, এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। ঈদের আগে সোনালী মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

    শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, আফতাবনগর ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও প্রভাব পড়ছে।

    রামপুরা বাজারের এক বিক্রেতা জানান, আগের দিনের তুলনায় ব্রয়লার কিনতে তাদেরই বেশি দাম দিতে হয়েছে। ঈদের পর থেকেই সোনালী মুরগির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। খামারে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে বলে দাবি করছেন তারা।

    ক্রেতাদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যে বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এক ক্রেতা বলেন, রমজানেও সোনালী মুরগি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও ঈদের পর দাম দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    মুরগির পাশাপাশি মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অধিকাংশ মাছ কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ মাছ ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় উঠেছে। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল প্রায় ২৮০ টাকা। বড় আকারের রুই মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরাসহ অন্যান্য মাছের দামেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।

    বিক্রেতাদের দাবি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের বাজারে এমন দাম বেড়েছে।

    এদিকে পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে ইলিশের দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২৮০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের মাছ ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতারা বলছেন, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম বাড়ে— এটি স্বাভাবিক হলেও এবার দাম অনেক বেশি। তারা বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে বিক্রেতাদের ভাষ্য, এ বছর ইলিশের সরবরাহ কম। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। জেলেদের জালে পর্যাপ্ত মাছ না পড়ায় বাজারে প্রভাব পড়েছে বলে জানান তারা।

  • মোংলার বাজারে মিলল বিরল ‘গোলপাতা’ মাছ, কেজি ৫০০ টাকাতেও কিনতে ভিড় ক্রেতাদের

    মোংলার বাজারে মিলল বিরল ‘গোলপাতা’ মাছ, কেজি ৫০০ টাকাতেও কিনতে ভিড় ক্রেতাদের

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় তিন মণ ওজনের বিরল প্রজাতির দুটি গোলপাতা মাছ। এই মাছটির বৈজ্ঞানিকভাবে নাম সেইল ফিস। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে মোংলার প্রধান মাছ বাজারের রাইজিং ফিস আড়তে জেলেরা মাছটি নিয়ে আসেন। এ সময় মাছটি একনজর দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করেন।

    পরে নিলামের মাধ্যমে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে মাছটি কিনে নেন রমজান মিঞা নামের এক মাছ ব্যবসায়ী।

    বাজারে আসা খায়রুল আলম নামে এক ব্যক্তি বলেন, মোংলা বাজারে সব সময় এত বড় মাছ আসতে দেখা যায় না। সকালে জেলেরা ট্রলার থেকে মাছটি নিয়ে এলে মাছটি এক নজর দেখতে আসি’।

    এমরান শেখ নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি এত বড় গোলপাতা মাছ আগে কখনো দেখিনি’।

    মাছ ব্যবসায়ী রমজান মিঞা বলেন, মোংলা বাজারে বড় মাছ উঠলে আমি কেনার চেষ্টা করি। সকালে রাইজিং ফিস আড়তে মাছ দুটি উঠানো হলে ডাকের মাধ্যমে আমি ২৪ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। মাছ দুটি প্রায় ১৫ ফুট লম্বা। মাছটি কেটে ৫০০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি করছি। সুস্বাদু মাছ হিসেবে স্থানীয় বাজারে এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    মোংলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের গোলপাতা মাছ বলতে মূলত বঙ্গোপসাগরে পাওয়া বিরল প্রজাতির সেইল ফিশ (Sailfish) বা গোলপাতা মাছ কে বোঝায়, যা দেখতে গোলপাতার মতো চ্যাপ্টা বা বড় আকারের হওয়ায় স্থানীয়রা এই নাম দিয়েছেন।

    এটি বিশাল ওজনের সামুদ্রিক মাছ, যা সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মাঝে মাঝে জেলেদের জালে ধরা পড়ে।  এটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দ্রুতগামী সামুদ্রিক মাছ, যা সাধারণত গভীর সমুদ্রে বাস করে। এর শরীর চ্যাপ্টা ও পিঠের দিকে বড় একটি পাখনার মতো অংশ থাকে, যা দেখতে গোলপাতার ফলের মতো বা বড় পাতার আকৃতির হয় বলেও জানান তিনি।

  • এক সপ্তাহেই ব্রয়লারের দামে আগুন: কেজি ২৩০ টাকা, বাজারে চাপে সাধারণ ক্রেতা

    এক সপ্তাহেই ব্রয়লারের দামে আগুন: কেজি ২৩০ টাকা, বাজারে চাপে সাধারণ ক্রেতা

    এবিএনএ: রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে বর্তমানে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতাদের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার, বিশেষ করে নিউমার্কেট এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহে যে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

    অন্যান্য মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী

    বাজারে শুধু ব্রয়লার নয়, অন্যান্য জাতের মুরগির দামও বেশ চড়া।

    • কক মুরগি কেজি: প্রায় ৩৫০ টাকা

    • লেয়ার মুরগি কেজি: প্রায় ৩৬০ টাকা

    • দেশি মুরগি কেজি: প্রায় ৭৩০ টাকা

    ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মুরগি কেনা এখন অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

    কেন বাড়ছে দাম

    বিক্রেতাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে এবং একই সঙ্গে চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে রমজানকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতা বেশি পরিমাণে মুরগি কিনছেন, যা বাজারে দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

    নিউমার্কেট এলাকার এক বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজারেই কয়েক দিনের মধ্যে মুরগির দাম বেড়ে গেছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    আরেক বিক্রেতা বলেন, অনেক খামারি আগেই মুরগি বিক্রি করে ফেলেছেন। ফলে বর্তমানে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।

    ক্রেতাদের অসন্তোষ

    হঠাৎ দামের এমন উল্লম্ফনে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এতটা দাম বাড়া তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

    এক ক্রেতা জানান, আগে ১৮০ টাকায় যে মুরগি কিনতেন, এখন সেটি কিনতে ২৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে সংসারের মাসিক খরচ অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।

    আরেকজন ক্রেতা বলেন, মাছ-মাংস সবকিছুর দামই এখন বেশি। একটি মাঝারি মুরগি কিনতেই প্রায় ৬০০ টাকার মতো খরচ হয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ পরিবারের জন্য কষ্টকর।

    মাছ ও সবজির বাজারেও বাড়তি দাম

    শুধু মুরগির বাজারই নয়, মাছের বাজারেও কিছুটা দামের তারতম্য দেখা গেছে। বাজারভেদে—

    • চাষের পাঙাশ: ১৮০–২২০ টাকা কেজি

    • তেলাপিয়া: ২০০–২২০ টাকা কেজি

    • রুই মাছ: ৩৫০–৪৫০ টাকা কেজি

    এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছের দাম ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

    সবজির বাজারেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

    • বেগুন: ৬০–৮০ টাকা কেজি

    • করলা: ৮০–১০০ টাকা

    • ঢেঁড়স: ৬০–৭০ টাকা

    • পটল: ৬০–৭০ টাকা

    বিক্রেতারা বলছেন, শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, ফলে কিছু সবজির দাম বাড়তি রয়েছে।