Tag: মহাসড়ক

  • কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    এবিএনএ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে বাধাল বাজার সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ (কালভার্ট) এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। এতে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কে যান চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি ঘিরে যাত্রী, চালক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নদী খননের ফলে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে কালভার্টের পাশের মাটি সরে যেতে থাকে। এতে করে কাঠামোটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিজটির উইং ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে গেছে এবং সড়কের উপর ফাটল দেখা দিয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার পূর্বাভাস দিচ্ছে।

    এই মহাসড়কটি বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্যে অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য, মাছ এবং ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ব্রিজটি ধসে পড়লে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

    এলাকাবাসী দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

    এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, নদী খননের কারণে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। এবার ধাপে ধাপে বাড়ি ফেরার কারণে শুরুতে স্বস্তি থাকলেও নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট।

    পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে এখনো স্বাভাবিক হয়নি তেল সরবরাহ। অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে বাসচালক ও মালিকদের। ফলে সময়মতো বাস ছাড়তে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে। এর আগে চার দিনের টানা ছুটির কারণে এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি।

    ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পদ্মা ও যমুনা সেতুতেও তেমন চাপ নেই বলে জানা গেছে।

    তবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, তেলের অপ্রতুলতা এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাস কোম্পানি প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছে না। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ট্রিপ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।

    বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের চাপ বাড়লেও তেলের অনিশ্চয়তার কারণে বাসের সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে যাত্রী ভোগান্তি বাড়তে পারে।

    অন্যদিকে, সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণপরিবহনে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, সামনে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতের ছুটি শুরু হলে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে। সেই চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাসের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

    সব মিলিয়ে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও ‘তেলের টেনশন’ এখন ঈদযাত্রার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • ৬ লেন দাবিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড, দীর্ঘ যানজট

    ৬ লেন দাবিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড, দীর্ঘ যানজট

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম : দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন করার দাবিতে মহাসড়কে ব্লকেড করে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কেরানিহাট এলাকায় বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়ো হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিলে বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল।

    সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ছয় লেনের দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন অবরোধকারীরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ এক কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা বলেন, একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কটি এখন ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।তাদের অভিযোগ, পর্যটন নগরী যাওয়ার একমাত্র সড়কটি প্রশস্তকরণের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

    বিক্ষোভকারী বজ্রকন্ঠে বলেন, সংবাদপত্র খুললেই দেখি দুর্ঘটনার খবর। তারা আরও বলেন, আমরাও ভয়ে থাকি—আজ না হয় কাল আমাদের ওপর এসে পড়ে। এত অনুরোধের পরও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই আজ সড়কে নেমেছি।

    চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলনের সংগঠক তামিম মির্জা বলেন, এর আগে একই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।

    শুধু সাতকানিয়ার মানুষের যাতায়াতই নয়, বিশ্বের বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন নগরী হলো কক্সবাজার। প্রতিদিন লাখো মানুষ ও পর্যটক এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। অথচ বাস্তবে বহু অংশ এখনো অত্যন্ত সরু, কোথাও কোথাও পাড়ার গলির চেয়েও কম প্রশস্ত। জাঙ্গালিয়ার অংশটি ঢালু ও আঁকাবাঁকা হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে।তাছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও রাতে লবণবাহী ট্রাকসহ—সবকিছুর জন্যই এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, চলাচলের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, এতে দুর্ঘটনা আরও বেড়ে যায়। এরপরও দফায় দফায় আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।এর আগে, গত ৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেন।

    ১১ এপ্রিল সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়রা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

    সকালের অবরোধে মহাসড়কের দুই দিকে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও জোরালো হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরে সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর আশ্বাসে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।