Tag: মশাল মিছিল

  • বিদেশি অপারেটর চুক্তি বাতিলের দাবিতে উত্তাল চট্টগ্রাম বন্দর, শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে যান চলাচল বন্ধ

    বিদেশি অপারেটর চুক্তি বাতিলের দাবিতে উত্তাল চট্টগ্রাম বন্দর, শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে যান চলাচল বন্ধ

    এবিএনএ:  দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের দুই টার্মিনালে বিদেশি অপারেটরের চুক্তি বাতিল এবং নিউমুরিং টার্মিনালের ইজারা প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। বুধবার সকালে টোল প্লাজা গেট ও বড়পোল এলাকায় বন্দরমুখী প্রধান সড়কে এ অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়।

    স্কপ নেতারা জানান, দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্দরকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, যা দেশের অর্থনীতি ও শ্রমিকদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। তারা দাবি করেন, এই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং এটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে আগামী ৫ ডিসেম্বর পুরনো রেল স্টেশন চত্বরে বৃহত্তর সমাবেশ ও মশাল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

    সকাল সোয়া ১০টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত টোল প্লাজা এলাকায় স্কপ নেতারা অবরোধ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন, এতে বন্দরমুখী সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের অনুরোধে তারা অবরোধ তুলে নেন। একই সময়ে বড়পোল এলাকায়ও সীমিত সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

    বড়পোল এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রাক্তন সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সমন্বয়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদ, বাসদ চট্টগ্রাম জেলার ইনচার্জ আল কাদেরী জয় এবং গণমুক্তি ইউনিয়নের রাজা মিয়া।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বন্দর রক্ষার এই আন্দোলন শুধু শ্রমিকদের নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের আন্দোলন। তারা সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

  • জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী ভূমিকার সম্মাননা, শাহবাগে মশাল মিছিল

    জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী ভূমিকার সম্মাননা, শাহবাগে মশাল মিছিল

    এবিএনএ: ১৯ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী ভূমিকা স্মরণে রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারী সংহতির মশাল মিছিল ও সমাবেশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের বলিষ্ঠ উপস্থিতি আন্দোলনের গতি ও চেহারা বদলে দিয়েছিল।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারী সংহতির সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামলী শীল। তিনি বলেন, “ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং নারী বিদ্বেষ এখনো উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে ব্যাপক পরিবর্তন জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “নারী প্রশ্নকে সামনে রেখে একটিমাত্র রাজনৈতিক শক্তি এ লড়াইকে এগিয়ে নিতে পারবে না, দরকার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।”

    নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ বলেন, “জুলাইয়ে নারীদের রাস্তায় নেমে সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশগ্রহণ স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইকে নতুন মাত্রা দেয়। রাতের শহরে নারীদের দখলই আন্দোলনের চেহারা বদলে দেয়।”

    সহ-সাধারণ সম্পাদক রেবেকা নীলা ১৩৫ শিশু ও ১১ নারী শহীদের নাম পাঠ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদদের হত্যার বিচার ও আহতদের পুনর্বাসনের দাবি তোলেন।

    বক্তব্য রাখেন গ্রন্থ প্রবর্তনার পরিচালক সীমা দাস সামু, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী সাইদিয়া গুলরুখ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জিন্নাত আরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রুপসী চাকমা, মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের মামাচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের অমল ত্রিপুরা এবং অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধি।

    বক্তারা বলেন, ২০২৫ সালে এসেও নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে ওঠেনি। শিক্ষাঙ্গনে নিষেধাজ্ঞা, সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়তে হবে।

    সমাবেশ শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মশাল মিছিলটি শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য হয়ে আবার শাহবাগেই এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও মশাল হাতে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্লোগান দেন।