Tag: মব জাস্টিস

  • চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার​ 

    চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার​ 

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে হালিশহর থানার আলোচিত চোর সন্দেহে মোহাম্মদ ইসমাঈলকে পিটিয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামি প্রান্ত দাশকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) নগরের সিটি গেইট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি প্রান্ত দাশের বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকায়। তার বাবার নাম রণ দাশ। ​

    র‌্যাব জানায় নিহত মোহাম্মদ ইসমাঈল কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবারসহ চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার উত্তর হালিশহর এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২২ অক্টোবর ভোর আনুমানিক চারটার দিকে মোহাম্মদ ইসমাঈল হালিশহর থানার বারুনীঘাট এলাকার ‘মা কর্পোরেশন’ নামীয় একটি বেকু গ্যারেজ এলাকায় গেলে সেখানে অবস্থানরত প্রান্ত দাশ ও তার সহযোগীরা তাকে চোর সন্দেহে আটক করে।

    এরপর তাকে গ্যারেজের ভেতরে রশি দিয়ে বেঁধে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। এতে ইসমাঈল গুরুতর আহত হন।​ পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গ্যারেজ মালিক সাহাবুদ্দিনকে খবর দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীকে পরিবারের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ অক্টোবর মোহাম্মদ ইসমাঈলের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোহাম্মদ কাঞ্চন বাদী হয়ে হালিশহর থানায় পাঁচজন এজাহারনামীয় ও একজন অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, হালিশহর থানার ইসমাঈল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি প্রান্ত দাশ নগরের আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেট এলাকায় অবস্থান করছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • রাজবাড়ীতে কবর ভাঙচুর ও লাশ পোড়ানো: মানবজাতির মর্যাদায় অমানবিক আঘাত

    রাজবাড়ীতে কবর ভাঙচুর ও লাশ পোড়ানো: মানবজাতির মর্যাদায় অমানবিক আঘাত

    এবিএনএ:  রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার কবর ভেঙে লাশ উত্তোলন ও পরে পোড়ানোর ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং মানবজাতির মর্যাদার ওপর ভয়াবহ আঘাত। সভ্য সমাজে এমন অমানবিক বর্বরতা অকল্পনীয়।

    ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার জুমার নামাজের পর। স্থানীয়রা নুরাল পাগলার কবর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানাচ্ছিলেন। কবরটি কাবা শরিফের আদলে নির্মাণ এবং ভেতরে বিশেষভাবে মরদেহ দাফন করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরে আন্দোলনকারীরা সমাবেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে নুরাল পাগলার বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলা চালায়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, ভক্তদের মারধর এবং ব্যাপক ভাঙচুরের পর কবর ভেঙে মরদেহ বের করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এতে অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন এবং একজন নিহত হন।

    এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আগুন জ্বলতে থাকা অবস্থায় উল্লাসের দৃশ্য সভ্য সমাজে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, “এটি শুধু আইন ভাঙা নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজের ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত।”

    রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিএনপি অভিযোগ করেছে, এর পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। জামায়াত ও হেফাজত ইসলাম একে ইসলামী শিক্ষা ও মানবিকতার পরিপন্থী বলে নিন্দা জানায়। অন্যদিকে নাগরিক পার্টি প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তদন্তের দাবি তুলেছে।

    অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং সমাজের গভীর নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, “কবর ভেঙে লাশ পোড়ানো শুধু একজনের প্রতি অবমাননা নয়, বরং গোটা মানবজাতির মর্যাদার ওপর আঘাত। এ ধরনের বর্বরতা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ জরুরি।”

    পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দেশে ক্রমবর্ধমান ‘মব জাস্টিস’ বা গণবিচার প্রবণতা অত্যন্ত ভয়ংকর সামাজিক সংকেত। রাষ্ট্র যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংসতা আরও বাড়তে পারে।

  • দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো মব জাস্টিস চলছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

    দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো মব জাস্টিস চলছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

    এবিএনএ: ঢাকার আশপাশে মব জাস্টিসের ঘটনা কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো এ ধরনের প্রবণতা বিদ্যমান বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১২তম সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সভায় সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলার সামগ্রিক পরিস্থিতি, জুলাই মাসের হত্যা মামলার পর্যালোচনা, ছিনতাই-চাঁদাবাজি দমন, মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠে আসে।

    জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আমরা চাই মব জাস্টিস যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়। কয়েকদিন আগে রংপুরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় তুলনামূলক কম হলেও আশপাশে এখনও মাঝে মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তিনি জানান, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি বাড়াতে বড় পরিসরে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ১৫ হাজার ৮৫১ জন, বিজিবিতে ৪ হাজার ৪৬৯ জন, আনসারে ৫ হাজার ৫৫১ জন, কারা বিভাগে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ২০৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ কনস্টেবল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পদ পর্যন্ত বিস্তৃত।

    ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ফুল দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি সে বিষয়ে অবগত নই। তবে আমাদের নির্দেশনা ছিল যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।”

    সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই কোনো নির্দোষ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। চুনোপুঁটি ধরা হলেও বড় অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা সবসময় সত্য ঘটনা তুলে ধরেন, এজন্য ধন্যবাদ।”