Tag: মব কালচার

  • মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা, কিন্তু সহিংসতা থামছে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা, কিন্তু সহিংসতা থামছে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    এবিএনএ: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বা ‘মব কালচার’ বন্ধে সরকারের ঘোষণার পরও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং এক পীরকে হত্যার ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    শনিবার রাতে দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মাজারে হামলা চালিয়ে প্রধান পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যা করেছে। দলটির মতে, এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ এবং আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

    আদালতের বদলে ‘মব বিচার’ নিয়ে উদ্বেগ

    এনসিপি বলেছে, ধর্ম অবমাননা বা সংবেদনশীল যেকোনো অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কিন্তু এ ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তির সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের হামলা সম্ভব নয়। অতীতেও রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর পর হামলা

    দলটির দাবি, নিহত পীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর দুপুরের দিকে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগাম ব্যবস্থা নিতে পারেনি—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি।

    সরকারের দ্বৈত অবস্থানের অভিযোগ

    এনসিপি অভিযোগ করেছে, একদিকে সরকার ‘মব কালচার’ বন্ধের কথা বলছে, অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত পক্ষের কর্মকাণ্ডে কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ‘মব’ চাপের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করার উদাহরণও তুলে ধরা হয়।

    দলটির মতে, ‘মব কালচার’ শব্দটি এখন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

    বিবৃতির শেষে এনসিপি বলেছে, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছে না এবং দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর—‘আইনের বাইরে কিছুই চলবে না’

    মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর—‘আইনের বাইরে কিছুই চলবে না’

    এবিএনএ: নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে ‘মব কালচার’ আর চলতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায়ের নামে সহিংস ভিড় বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের অবৈধ তদবির বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়ালে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

    মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল, সমাবেশ বা স্মারকলিপি দেওয়ার অধিকার থাকবে—কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চাপ প্রয়োগের সংস্কৃতি আর গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক ধারায় থেকেই দাবি আদায়ের আহ্বান জানান তিনি।

    সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমাতে হবে। বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন রুটিন দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে নতুন মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

  • ‘মব কালচার’ বিস্তারে প্রশাসনের স্থবিরতাই দায়ী: রিজভীর অভিযোগে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন

    ‘মব কালচার’ বিস্তারে প্রশাসনের স্থবিরতাই দায়ী: রিজভীর অভিযোগে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন

    এবিএনএ:  প্রশাসনের অকার্যকর অবস্থাই দেশে ‘মব কালচার’-এর উত্থানের পেছনে মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়াতে এখন একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ‘মব কালচার’ ব্যবহার করছে। আর এর পেছনে রয়েছে অবৈধ অর্থ ও গোপন রাজনৈতিক চক্রান্ত।’’

    মঙ্গলবার (৮ জুলাই) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

    রিজভী বলেন, “বর্তমান সরকারের ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী অপশক্তি সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে একটি ষড়যন্ত্র। এর মাধ্যমে নির্বাচন বিলম্বিত করার নেপথ্য চেষ্টা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের তথাকথিত উন্নয়নের গল্পের মতো এখন ‘নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া’র গল্পও জনগণ শুনছে। অথচ যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করতে প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে বর্তমান সরকার নিজ স্বার্থসিদ্ধিতে এগোচ্ছে।

    রিজভী আহ্বান জানান, সরকার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে এনে এই ধরনের নৈরাজ্য বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিক।