Tag: মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা

  • চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রস্তাবটি গ্রহণ করার এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

    এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি করতে চান না। তার মতে, নতুন প্রস্তাবটি আগের চুক্তির তুলনায় আরও কঠোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হবে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হুমকি আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রণালীতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ও গুলি চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতির মুখে ফেলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেহরান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে না বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অনেক দূরে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার।

    ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি গ্রহণ না করলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হতে পারে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রোববারও আংশিকভাবে বন্ধ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

  • ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    এবিএনএ: ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ থেকে সরে এসে ইরানের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত অবস্থান নিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রশংসা করেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একমত হতে পারেনি।

    গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের টানাপোড়েন চলছে। এ বিষয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ আলোচনা চলে দুই দেশের মধ্যে। তবে সেই সংলাপও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    পরবর্তী সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময় ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়।

    সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধ শুরুর ৩৯তম দিনে, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।

    তবুও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে—এমন বার্তা দিয়ে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

  • ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তরে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, সংঘাতে আহত শতাধিক

    ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তরে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, সংঘাতে আহত শতাধিক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার সকালে ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তর ও একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

    ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিটের সদর দপ্তর ‘লাহাভ ৪৩৩’ এবং প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ‘জিলাত’।

    তবে হামলাটি কোথায় সংঘটিত হয়েছে কিংবা এতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    সংঘাতে আহত শতাধিক

    অন্যদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ একদিনে অন্তত ১০৮ জন আহত ব্যক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    তবে আহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কেউ সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আঘাতে আহত হয়েছেন, আবার কেউ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় সৃষ্ট হুড়োহুড়িতেও আঘাত পেয়েছেন।

    হাসপাতালে ভর্তি তিন হাজারের বেশি

    এদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সংঘাতের ঘটনায় মোট ৩ হাজার ১৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    তাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে অন্তত ৮১ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • ড্রোন হামলায় আবুধাবির নৌঘাঁটিতে আগুন: উত্তপ্ত উপসাগরীয় অঞ্চল, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

    ড্রোন হামলায় আবুধাবির নৌঘাঁটিতে আগুন: উত্তপ্ত উপসাগরীয় অঞ্চল, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন আঘাতে আবুধাবির একটি নৌঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

    সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, আবুধাবির **আল সালাম নৌঘাঁটি**র একটি গুদামে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। আঘাতের পর সেখানে সংরক্ষিত সাধারণ মালামাল বহনকারী দুটি কন্টেইনারে আগুন ধরে যায়। দ্রুত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, শনিবারের ঘটনার পর রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো আবুধাবিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী নৌঘাঁটির আশপাশে সতর্কতা জোরদার করেছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন হামলা বাণিজ্যিক ও সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠছে।

  • তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: খামেনির সুরক্ষিত কমপাউন্ড ধ্বংস, স্যাটেলাইট ছবিতে বিধ্বস্ত চিত্র

    তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: খামেনির সুরক্ষিত কমপাউন্ড ধ্বংস, স্যাটেলাইট ছবিতে বিধ্বস্ত চিত্র

    এবিএনএ: তেহরানে চালানো সাম্প্রতিক হামলার পর স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের আবাসিক এলাকার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর সুরক্ষিত কমপাউন্ডের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং চারপাশে পোড়া দাগ রয়েছে—যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়।

    পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরানের পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই ভোররাতে শুরু হওয়া অভিযানে তেহরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ অন্তত ৩০টির বেশি স্থানে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন মন্ত্রীর আবাসিক এলাকার কাছেও হামলা হয়েছে।

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরানের শেমিরান এলাকায় প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের আশপাশ ও খামেনির কমপাউন্ডের নিকটে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এপি-এর প্রতিবেদনে খামেনির দপ্তরের আশপাশে বিস্ফোরণের তথ্যও উঠে এসেছে।

    বর্তমানে খামেনির অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে তেহরানের বাইরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তাঁর জানা অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা জীবিত আছেন। সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • ইরানে হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিদ্রোহী সুর: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বললেন সিনেটর

    ইরানে হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিদ্রোহী সুর: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বললেন সিনেটর

    এবিএনএ: ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে. মার্কি এই অভিযানের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া নেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী।

    এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং বড় পরিসরের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, সামরিক উত্তেজনা বাড়ালে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত হয়।

    সিনেটর মার্কি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভয়াবহতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ পর্যায় থেকেও স্বীকার করা হয়েছে যে তেহরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়াচ্ছে না। তাই সংঘাতের পথে না গিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার সুযোগ এখনও রয়েছে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট নতুন কোনো যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে—যা মার্কিন জনগণ চায় না। তাঁর ভাষায়, বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে তরুণদের পাঠানো এবং দেশে স্বাস্থ্যসেবা সংকটে থাকা পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে যায় না।

    প্রসঙ্গত, শনিবার ভোরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযানের পর তেহরানও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। সংঘাতের এই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি উঠছে।