Tag: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

  • নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশে বিপজ্জনক প্রবণতা, জনরোষকে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: আইরিন খান

    নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশে বিপজ্জনক প্রবণতা, জনরোষকে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: আইরিন খান

    এবিএনএ: বাংলাদেশ যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে, তখন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে জনরোষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইরিন খান। তাঁর মতে, এমন প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইরিন খান এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

    আইরিন খান জানান, ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, পাশাপাশি নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতা শরীফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর।

    জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও শিল্পীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করে দায়ীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

    আইরিন খানের মতে, এই ধরনের হামলা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। বরং দায়মুক্তির দীর্ঘদিনের চর্চা এবং গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের অভাবই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। গত এক বছরে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি উভয় পর্যায় থেকেই গণমাধ্যমের ওপর চাপ বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে শতাধিক সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়মুক্তির ধারাবাহিকতা ভাঙতে না পারায় হামলা ও হুমকি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আইরিন খান।

  • গভীর রাতে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া: টিআইবির উদ্বেগে নড়ে উঠল মানবাধিকার প্রশ্ন

    গভীর রাতে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া: টিআইবির উদ্বেগে নড়ে উঠল মানবাধিকার প্রশ্ন

    এবিএনএ: বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পর এক সাংবাদিক ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

    টিআইবির মতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই এভাবে নাগরিককে তুলে নেওয়া আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। সংস্থাটি এটিকে ‘অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিহীন অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমালোচনা দমনের ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে।

    গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে টিআইবি জানায়, এনইআইআর নীতিমালা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানানোর ফলেই সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে দীর্ঘ সময় ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। কখনো বলা হয় “তথ্য যাচাইয়ের জন্য”, আবার কখনো সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত পদবির কারণ দেখানো হয়—যা টিআইবির মতে পরস্পরবিরোধী ও অসংগত ব্যাখ্যা।

    এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মতভিন্নতা দমনে গভীর রাতে কাউকে কারণ না জানিয়ে তুলে নেওয়া কর্তৃত্ববাদী ও নিপীড়নমূলক প্রথার উদাহরণ। অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী সমন পাঠানো এবং আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নিয়ম স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “শুধু ব্যক্তিবদল নয়, গোয়েন্দা সংস্থাসহ নজরদারি কাঠামোর মৌলিক সংস্কার জরুরি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে এমন নজরদারি সংস্কৃতি চলতে থাকলে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কঠিন হবে।”

    সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সমালোচকদের শত্রু হিসেবে দেখার মানসিকতা আত্মঘাতী। সংবাদ সম্মেলন করা বা সরকারী নীতির সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়; বরং সংবিধানের ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।”

    টিআইবি অভিযোগ করে বলেছে, এনইআইআর সম্পর্কিত মতামত দেওয়ার কারণে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর কাপুরুষোচিত আঘাত। এটি শুধু দেশের সংবিধান নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

  • অপতথ্যের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    অপতথ্যের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে ভুয়া তথ্য এবং অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুসান ভাইজ এবং ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা’ বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা মেহদি বেনচেলাহ সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে ড. ইউনূস এ আহ্বান জানান।

    এই বৈঠকের সময় ইউনেসকো ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি গণমাধ্যম সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি—ভুয়া তথ্য একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলোর উৎস কখনো বিদেশে, কখনো দেশের অভ্যন্তরে। এতে আমাদের গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে যাচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, প্রথাগত মিডিয়াও মাঝেমধ্যে এমন ভুল তথ্যের উৎস হয়ে দাঁড়ায়। তাই জাতিসংঘকে কেবল সরকারের সঙ্গে নয়, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সরাসরি কাজ করতে হবে।”

    ড. ইউনূস জানান, “একটি স্বতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে, যা ফেক নিউজ ছড়ানো মিডিয়াগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণে বাধ্য করতে পারবে। জাতিসংঘের আওয়াজ এখানে গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের আপনাদের সহায়তা দরকার।”

    ইউনেসকোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ জানান, “প্রতিবেদনটিতে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিক নিরাপত্তা, এবং আন্তর্জাতিক মান রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

    প্রকল্প কর্মকর্তা মেহদি বেনচেলাহ বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের জন্য। এসব সুপারিশ প্রতিবেদনটিতে থাকছে, যা সরকারের জন্য দিকনির্দেশক হতে পারে।”

    প্রতিবেদনটি ইউএনডিপির ‘এসআইপিএস’ প্রকল্পের আওতায় এবং ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নীতিমালার আলোকে তৈরি করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কর্মকর্তারা।

  • মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাইবার আইন সংশোধন: জানালেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাইবার আইন সংশোধন: জানালেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

    এবিএনএ:  আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই দেশের আলোচিত সাইবার নিরাপত্তা আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। এই আইনটি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও এখন তা জনবান্ধবভাবে সংস্কার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

    মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ‘কমনওয়েলথ চার্টার’ বিষয়ক একটি কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এই আইন এক সময় অপব্যবহারের জন্য বহুল সমালোচিত ছিল। তবে সংশোধনের পর এখন এটি অনেক বেশি মানবিক ও স্বাধীন মতপ্রকাশবান্ধব। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও স্বীকার করেছে, এটি এখন আর আগের মতো ভয়ঙ্কর নয়।”

    তিনি বলেন, আইনটি এখন আর সরকারবিরোধী মত দমন করার হাতিয়ার নয় বরং এটি হয়েছে জনগণের অধিকার রক্ষার একটি উপযোগী মাধ্যম। অতীত সংস্করণগুলোর তুলনায় নতুন সংস্করণটি অনেক বেশি গণবান্ধব ও নিরপেক্ষ, যা সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর হলেও মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে না।

    কমনওয়েলথ সনদকে শুধু একটি ঘোষণাপত্র নয়, বরং একটি নৈতিক মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, “এই সনদ আমাদের জন্য একটি আদর্শিক পথনির্দেশিকা। এর আলোকে সরকার যে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তা সাহসিকতারই পরিচায়ক।”

    তিনি আরও বলেন, “গত বছরের জুলাই-আগস্টে যে গণজাগরণ দেখা গিয়েছিল, তা ছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, এটি ছিল এক নৈতিক আন্দোলন। সেই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তরুণরাই আগামী দিনে বড় পরিবর্তনের রূপকার হবে।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম। কমনওয়েলথের সহকারী মহাসচিব অধ্যাপক লুইস ফ্রান্সেশি বলেন, তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে এই কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের রক্ষায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    কর্মশালার সমাপনীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের উপদেষ্টা মাইকেল স্কোবি।