Tag: মণিরত্নম

  • মণিরত্নমের চোখে ঐশ্বরিয়া রায়: সৌন্দর্যের নয়, গভীরতার প্রতীক

    মণিরত্নমের চোখে ঐশ্বরিয়া রায়: সৌন্দর্যের নয়, গভীরতার প্রতীক

    এবিএনএ:  বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চনের অভিনয়জীবনের ২৮ বছর পূর্ণ হয়েছে গত বছর। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নন, অভিনয়ের গভীরতা ও শক্তিতেও অনন্য। এই প্রমাণের পেছনে অন্যতম হাত পরিচালক মণিরত্নমের, যিনি বারবার নতুন রূপে দর্শকের সামনে হাজির করেছেন ঐশ্বরিয়াকে।

    ১৯৯৭ সালে মণিরত্নমের ‘ইরুভার’ সিনেমার মাধ্যমেই বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে একদিকে ছিলেন বিনয়ী, নরম স্বভাবের গৃহবধূ; অন্যদিকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী এক অভিনেত্রী। দুটি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঐশ্বরিয়া ভেঙে ফেলেছিলেন কেবল গ্ল্যামারাস ইমেজের খোলস।

    পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ‘গুরু’ ছবিতে সুজাতা চরিত্রে তিনি হয়ে ওঠেন বাস্তব ও মানবিক এক নারী—যিনি স্বামীর স্বপ্নে পাশে থেকেও নিজেকে হারান না। গুরুকান্ত দেশাইয়ের জীবনে তিনি ছিলেন এক নিঃশব্দ শক্তি, যিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষার ভেতরেও মানবিকতার ভারসাম্য বজায় রাখেন।

    ২০১০ সালের ‘রাবণ’-এ ঐশ্বরিয়া হাজির হন একদম ভিন্ন রূপে। এখানে তিনি নৈতিক দ্বন্দ্বের এক প্রতীক, যেখানে পৌরাণিক কাহিনি মানবিক সীমানায় এসে দাঁড়ায়। মণিরত্নম সেই দ্বন্দ্বময় নারীত্বকেই ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঐশ্বরিয়ার চোখে-মুখে।

    অবশেষে আসে ‘পোন্নিয়িন সেলভান’। এই সিনেমায় ঐশ্বরিয়া যেন নিজের শিল্পযাত্রার পূর্ণতা পান। নন্দিনী চরিত্রে তিনি ছিলেন এক বুদ্ধিমত্তার প্রতীক—যিনি সৌন্দর্যকে ব্যবহার করেন কৌশল হিসেবে, অস্ত্র হিসেবে নয়। মণিরত্নমের দৃষ্টিতে এটি ছিল নারীর অন্তর্নিহিত শক্তি, প্রতিশোধ ও বুদ্ধির এক গভীর প্রতীকী প্রকাশ।

    ‘ইরুভার’-এর কোমল নারী থেকে শুরু করে ‘পোন্নিয়িন সেলভান’-এর দৃঢ় চরিত্র—এই পুরো যাত্রাপথে মণিরত্নমের চোখে ঐশ্বরিয়া হয়ে উঠেছেন এমন এক অভিনেত্রী, যিনি নিজেকে প্রতিটি চরিত্রে নতুনভাবে জন্ম দিয়েছেন।