Tag: ভোটাধিকার

  • কার পাল্লায় যাবে ১ কোটি ১৩ লাখ সংখ্যালঘু ভোট? ভোটের আগে দুশ্চিন্তা ও প্রত্যাশা

    কার পাল্লায় যাবে ১ কোটি ১৩ লাখ সংখ্যালঘু ভোট? ভোটের আগে দুশ্চিন্তা ও প্রত্যাশা

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট কোন দিকে মোড় নেবে—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জুড়ে রয়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে হিন্দু ভোটার রয়েছেন আনুমানিক ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। খ্রিষ্টান ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার, বৌদ্ধ ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভোটার সংখ্যা কয়েক দশ হাজারের মতো। নির্বাচন ঘিরে একদিকে যেমন ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও কাটেনি।

    সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনার তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছরে শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা প্রশ্নকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ভোটের দিন জানমালের সুরক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

    সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়—সব রাজনৈতিক দলেরই সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন। যে দল বা প্রার্থী এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেবে, তার পক্ষেই সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

    এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিশন বলছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রত্যেক নাগরিক নির্বিঘ্নে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

  • রাজনীতিতে বাড়ছে পেশিশক্তি ও পুরুষতান্ত্রিকতা, ঝুঁকিতে প্রান্তিক ভোটাররা

    রাজনীতিতে বাড়ছে পেশিশক্তি ও পুরুষতান্ত্রিকতা, ঝুঁকিতে প্রান্তিক ভোটাররা

    এবিএনএ: নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে দেশের নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষ এবং বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তির দাপট, ধর্মীয় ব্যবহার ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে—যা প্রান্তিক ভোটারদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

    সোমবার নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না—সে প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। টিআইবির পক্ষ থেকে বিষয়টি কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। কমিশনার সানাউল্লাহ তাদের উপস্থাপিত তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

    নির্বাচনী স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তার মতে, প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ না করে অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি ও নীতিমালা জোরদার করা দরকার। স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • ভোট কারচুপির চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি হবে: সতর্ক বার্তা রুমিন ফারহানার

    ভোট কারচুপির চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি হবে: সতর্ক বার্তা রুমিন ফারহানার

    এবিএনএ:  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনে কারচুপির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করার দুঃসাহস যেন কোনো রাজনৈতিক দল না দেখায়। এবার জনগণের ভোটাধিকার খর্ব করতে দেওয়া হবে না।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ জানিয়ে লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, মাঠে থাকার কথা থাকলেও বাধ্য হয়ে ঢাকায় আসতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।

    তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী কর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। কর্মীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, মারধর, এমনকি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। অনেককে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিতে হয়েছে, অথচ এসব ঘটনায় এখনো মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বড় রাজনৈতিক শক্তির বিপরীতে লড়াই করলেও তিনি ভয় পান না। প্রশাসন নিরপেক্ষ না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ২০১৮ সালের মতো আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সবার ওপরই পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অবহিত করবেন। এ প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা।

    ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দেশের মানুষ বছরের পর বছর সংগ্রাম করেছে। প্রতিকূলতা যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

  • ভোটের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান: সিলেটের জনসভায় তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

    ভোটের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান: সিলেটের জনসভায় তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের ভেতরেও একটি চক্র আবারও ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্রে সক্রিয় হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশে ব্যালট ছিনতাই, ডামি প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন এবং রাতের আঁধারে ভোট গ্রহণের মতো ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গত ১৬ বছরে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এই সময়কালে দেশের সার্বভৌমত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—দিল্লি হোক কিংবা অন্য কোনো রাজধানী, কারও কাছে নয়; সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি দাবি করেন, যারা অতীতে ভোট ও বাক-স্বাধীনতা হরণ করেছে, তারাই বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নিখোঁজ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত।

    জনসভায় তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

  • ইসি চাইলে তারেক রহমান ভোটার হতে পারবেন: নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব

    ইসি চাইলে তারেক রহমান ভোটার হতে পারবেন: নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনো দেশের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত নন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কমিশন চাইলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি ভোটার হতে পারবেন।

    সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাংবাদিকরা জানতে চান, তারেক রহমান কি ইতিমধ্যে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন? এর জবাবে সচিব বলেন, “আমার জানা মতে, তিনি এখনো ভোটার হননি।”

    এরপর সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্ন ছিল—তিনি কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন? উত্তরে ইসি সচিব বলেন, “পারতে পারেন, যদি কমিশন সেই সিদ্ধান্ত দেয়।”

    কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত কিসের ভিত্তিতে হতে পারে, জানতে চাইলে তিনি জানান, নির্বাচন আইনেই এ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোন ধারায় উল্লেখ আছে তা মুখস্থ নেই বলেও জানান তিনি। সাংবাদিকদের তিনি পরামর্শ দেন, “আপনারা ভোটার তালিকা নিবন্ধন আইনটা দেখে নিন।”

    উল্লেখ্য, তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নানা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার ভোটার হওয়া কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

    নির্বাচন কমিশনের এই মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, কমিশন চাইলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানকে ভোটার হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

  • ‘আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ’-ক্ষোভে জনগণ: জামায়াত আমির

    ‘আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ’-ক্ষোভে জনগণ: জামায়াত আমির

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর দেশের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জনসম্পৃক্ত না হয়েও ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। তার ভাষায়, “মানুষ এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে—আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ।” তবে তিনি দাবি করেন, ইসলামি দলগুলোর বিরুদ্ধে কখনো চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেনি।

    সোমবার বিকেলে খুলনা নগরের ঐতিহাসিক শিববাড়ী মোড়ে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আটটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশেষ করে ৩৫ বছরের নিচের তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আগের তিনটি নির্বাচনে যারা ভোট দিতে পারেননি, তারা এবার নিজের অধিকার নিয়ে আপস করবেন না। তিনি বলেন, “তোমাদের ভোট নিয়ে কেউ ছিনিমিনি করলে আমরা তা হতে দেব না। প্রয়োজনে ভোটের অধিকার রক্ষায় রাজপথে লড়াই করব।”

    তরুণদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। নিজেদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলো যেন তোমরা শুধু চাকরি না করে, চাকরি দেওয়ার মানুষ হও।”

    দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে দুটি ধারায় শিক্ষা চলছে—মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা। তার মতে, মাদ্রাসায় জ্ঞানচর্চা হয়, সহিংসতা হয় না। পক্ষান্তরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পরিবেশ অনেক সময় অস্থির হয়ে উঠে, যা সভ্য সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজকে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় তাদের দলীয় পোস্টার-পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হলেও জনগণ এখন আর পোস্টার দেখে ভোট দেয় না। তারা হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়।

    তিনি ঘোষণা দেন, আট দলের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ইসলামি দলগুলোর ঐক্য জাতীয় সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রয়োজনে আবারও ৫ আগস্টের মতো গণজাগরণ ঘটানোর হুঁশিয়ারিও দেন।

  • মান্নার কড়া মন্তব্য: ভোটের রাজনীতিতে বাংলাদেশ টালমাটাল, সুশাসনের পথে সংগ্রাম অব্যাহত

    মান্নার কড়া মন্তব্য: ভোটের রাজনীতিতে বাংলাদেশ টালমাটাল, সুশাসনের পথে সংগ্রাম অব্যাহত

    এবিএনএ:  নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ভোটের রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত জনগণের প্রতিনিধি ও যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পারলেই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

    সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত নাগরিক ঐক্যের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    মান্না বলেন, পুলিশের আচরণেও বৈষম্য দেখা যায়। নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মীদের অন্যায় দেখলে তারা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়, কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে দ্বিধা করে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্রশাসন যাকে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি মনে করে, তাকেই আগেভাগে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করে।

    তিনি অভিযোগ করেন, গত তিন দফায় নির্বাচনের নামে দেশে যা হয়েছে, তাতে মানুষের ভোটাধিকার হরণ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার ভাষায়, শেখ হাসিনা জনগণের ভোটাধিকারকে তামাশায় পরিণত করেছেন এবং আগের রাতে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা নাগরিক ঐক্যের নেত্রী রাজিয়া সুলতানা ইভা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার সজীব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাইদুর রহমান সাগর, মামুনুর রশিদ, মকুল হাসান বাবু, আলিফ হোসেন ও রাজ বাহাদুরসহ স্থানীয় নেতারা।

    কর্মী সভা শেষে মান্না তার নির্বাচনী আসন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) এর বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন।

  • “বাংলাদেশকে কখনো মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যাবে না” — তারেক রহমান

    “বাংলাদেশকে কখনো মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যাবে না” — তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ যেন কোনোদিন চরমপন্থা বা মৌলবাদের আশ্রয়স্থল না হয়— এ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ যেই স্বৈরাচারকে অল্প কিছুদিন আগে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, তার পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্রে উত্তরণে কবি সাহিত্যিকদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। বিএনপি মিডিয়া সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় কবিতা পরিষদের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেন এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করলেই দেশের মালিকানার প্রকৃত দাবিদার হিসেবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার এখনই সময়।

    কবি-সাহিত্যিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লেখার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও সমালোচনার সুযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা অপরিহার্য। এ ছাড়া দেশে জবাবদিহিমূলক অবস্থা তৈরি করাও এখন সময়ের দাবি।

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে সবার অবস্থান এক হওয়া উচিত। যে স্বৈরাচারকে জনগণ বিদায় দিয়েছে, তার পুনর্জাগরণ রোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    সভায় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান সভাপতিত্ব করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ রাজনৈতিক ও সাহিত্য অঙ্গনের অনেকে বক্তব্য দেন।

  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ: কুয়ালালামপুরে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ: কুয়ালালামপুরে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    এবিএনএ:  মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

    মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সভায় তিনি প্রবাসীদের অর্থনীতিতে অবদানের প্রশংসা করে বলেন, “আপনাদের শ্রম ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সমস্যাগুলো শুনেছি এবং সমাধানে কাজ করছি।”

    পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেবা প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দিতে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরা এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকতে পারেন।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশা করছি, এ নির্বাচনে আপনাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।”

    সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, দূতাবাসে জনবল বৃদ্ধি, গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা, অনিয়মিত প্রবাসীদের নিয়মিতকরণ এবং বাণিজ্য-শিল্প ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির প্রবাসীরা অংশ নেন এবং সরাসরি তাদের সমস্যা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

  • সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: ‘দেশের চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে’—মির্জা আব্বাস

    সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: ‘দেশের চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে’—মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিয়ে গেছে। তার ভাষায়, “আগে শেখ হাসিনা বারোটা বাজিয়েছে, আর এই সরকার চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে।”

    শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ অনুষ্ঠানটি গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।

    মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশে কত দিক দিয়ে ক্ষতি হয়েছে, কারা লুটপাট করেছে, কীভাবে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে—সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। তবে এই অবস্থান থেকে এখনই তা প্রকাশ করতে চাই না।”

    তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপিকে নানা ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। “যেখানেই খুন, লুটপাট, চাঁদাবাজি—সেখানেই বিএনপির নাম বলে একদল মানুষ। এভাবে জনগণের চোখে বিএনপিকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

    নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিকে উদ্দেশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আপনাদের যেমন ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে, আমাদেরও তেমন আছে। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার একটাই উপায়—জনগণের ভোট। ভোট পেলে ক্ষমতায় যাব, না পেলে মেনে নেব।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের কথা মুখে বললেও মনে মনে চায় না নির্বাচন হোক, কারণ তারা মনে করে বিএনপি জিতবে। “বিএনপি দেশ শাসন করে না, দেশ পরিচালনার চেষ্টা করে,” বলেন তিনি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জাসাস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত আজিজ। বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম, জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হেলাল উদ্দীন, গণঅভ্যুত্থানে নিহত মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়াসহ অনেকে। আলোচনা শেষে জাসাস শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।