Tag: ভোটগ্রহণ

  • ভোট চলাকালেই শেরপুর সদরে ব্যালট বই ছিনতাই—নিরাপত্তা জোরদার, এক বই উদ্ধার

    ভোট চলাকালেই শেরপুর সদরে ব্যালট বই ছিনতাই—নিরাপত্তা জোরদার, এক বই উদ্ধার

    এবিএনএ: শেরপুর সদরের চর মোচরিয়া ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলার মধ্যেই ব্যালট বই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে তিনটি ব্যালট বই নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এর মধ্যে একটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি দুটি উদ্ধারে অভিযান চলছে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটের কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি কেন্দ্রে ঢুকে দুটি কক্ষ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট বই নিয়ে দ্রুত সরে পড়ে।

    কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যালট বইয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছু ভোট দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন্দ্রে পৌঁছে নিরাপত্তা জোরদার করে। সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    উল্লেখ্য, শেরপুরের কয়েকটি আসনে নির্বাচন ঘিরে বাড়তি সতর্কতা রয়েছে। সকালে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

  • ভোটের মাঝেই গোপালগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল কেন্দ্র—আনসারসহ আহত তিনজন

    ভোটের মাঝেই গোপালগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল কেন্দ্র—আনসারসহ আহত তিনজন

    এবিএনএ, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ শহরের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্য এবং ভোট দিতে আসা এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে কেন্দ্রের প্রধান ফটকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে গোপালগঞ্জ-২ আসনের রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ভোটকেন্দ্রের বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রে কিছু সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চালু রাখা হয়।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন আনসার সদস্য সুকণ্ঠ মজুমদার, সেকশন কমান্ডার জামাল হোসেন এবং ভোটারের সঙ্গে আসা শিশু আমেনা খানম। প্রাথমিকভাবে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পাশের খালপাড় এলাকা থেকে ককটেলটি ছোড়া হয়। ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন নির্বিঘ্ন রাখতে কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

  • সকালেই ভোট দিলেন ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন, বললেন ‘নিরপেক্ষ ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

    সকালেই ভোট দিলেন ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন, বললেন ‘নিরপেক্ষ ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

    এবিএনএ, বাগেরহাট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাগেরহাটের খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ভোট দেন। একই কেন্দ্রে তার স্ত্রী তাহমিনা লিমাও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

    ভোট দেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন বলেন, সকালে ভোটকেন্দ্রের যে পরিবেশ দেখেছেন তাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটারদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক এবং নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে ফলাফল তাদের অনুকূলে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    সকাল থেকেই ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী ও পুরুষ ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে পর্যায়ক্রমে বুথে প্রবেশ করে ভোট প্রদান করছেন। শান্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরে অনেক ভোটার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর নিরুপদ্রব পরিবেশে ভোট দিতে পারাটা স্বস্তিদায়ক।

    নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৬৬ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার ৮৪ জন। চারটি বুথে একযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

  • সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার ১৫ ডিসেম্বর রাউজান উপজেলায় কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসার, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

    প্রধান অতিথি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়—এটি বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি আগামী একশ’ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট।

    জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে তারা কী ধরনের বাংলাদেশ চায়। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষ আর রক্তপাত নয়—শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের মেরুদণ্ড ও বিবেক বিক্রি না করেন—ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বানও জানান তিনি। প্রশাসন কঠোর হতে চায় না, তবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে কেউ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না। নির্বাচনকে ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বালু সন্ত্রাসী ও অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থেকে তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান এবং বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম এবং রাউজান থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি)।যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত গাড়িবহরের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত উদ্যোগে রাউজানে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন: বেলা বাড়ার সাথে বেড়ে চলছে ভোটারদের ভিড়

    ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন: বেলা বাড়ার সাথে বেড়ে চলছে ভোটারদের ভিড়

    এবিএনএ:  দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শুরু হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলের ২২৪টি বুথে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

    সকালেই ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে ভোটকেন্দ্রে ভিড় বাড়াচ্ছেন। শহীদ রফিক-জব্বার হল ও শহীদ সালাম-বরকত হলে সকাল বেলায় ভোটদানের হার খুবই কম ছিল। তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুর গড়ানোর পর ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে।

    এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৯৭। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৮ জন প্রার্থী। ভোট গ্রহণে নিয়োজিত রয়েছেন ৬৭ জন শিক্ষক পোলিং অফিসার এবং সমসংখ্যক কর্মকর্তা সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভোট শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে বিশেষ ওএমআর মেশিনে গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

    প্রার্থীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ নারী এবং ৭৫ শতাংশ পুরুষ। যদিও ভিপি পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই, তবে জিএস পদে দুইজন ছাত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়েদের পাঁচটি হলে একাধিক পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত হয়ে গেছে।

    বাম, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রসহ মোট আটটি প্যানেল অংশ নিয়েছে এ নির্বাচনে। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের শেখ সাদী হাসান ও তানজিলা হোসেন বৈশাখী, শিবিরের আরিফুল্লাহ আদিব ও মাজহারুল ইসলাম, ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’-এর আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল, ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’-এর আব্দুর রশিদ জিতু ও মো. শাকিল আলী, এবং বিভিন্ন বাম সংগঠনের সংশপ্তক পর্ষদ থেকে একাধিক প্রার্থী।

    ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন। দিনের শুরুতে ভোটের গতি ধীর হলেও দুপুর গড়ানোর সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভোটারদের সরব উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

  • ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন বৃহস্পতিবার

    ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন বৃহস্পতিবার

    এবিএনএ:  অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। টানা ৩৩ বছর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন।

    ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্র হল এবং ১০টি ছাত্রী হলে মোট ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। এ জন্য নিয়োজিত থাকবেন ৬৭ জন শিক্ষক পোলিং অফিসার ও সমসংখ্যক সহায়ক কর্মকর্তা।

    ভোট শেষে সিনেট হলে গণনা সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকছে ১৫০০ পুলিশ, ৭ প্লাটুন বিজিবি এবং ৫ প্লাটুন আনসার। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও আশপাশে টহলে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, মীর মশরারফ হোসেন হল গেইট ও প্রান্তিক গেইট ছাড়া সব গেইট ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এছাড়া ভোটের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে হলের ভেতরের ক্যান্টিন ও দোকান খোলা থাকবে এবং পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    একই সময়ে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাকার স্টিকার ও নির্বাচন কমিশনের স্টিকারযুক্ত যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে।

    নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

  • ডাকসু নির্বাচন কাল: ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রস্তুতি চূড়ান্ত, সীমিত চলাচলে নিরাপত্তা জোরদার

    ডাকসু নির্বাচন কাল: ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রস্তুতি চূড়ান্ত, সীমিত চলাচলে নিরাপত্তা জোরদার

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ আয়োজনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। আগামীকাল মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে নিরবচ্ছিন্নভাবে।

    এবারের নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ৮১০টি ভোট বুথ। ভোটারদের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২০,৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ১৮,৯০২ জন।

    প্রথমবারের মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে ব্রেইল পদ্ধতিতে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা সহযোগী অধ্যাপক শারমীন কবীর।

    রোববার ছিল নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন। দিনভর প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি, লিফলেট বিতরণ ও ইশতেহার উপস্থাপনায় মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস। প্রতিটি প্যানেল তাদের দাবির পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছুটে বেড়ায়।

    ভোটের দিন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেতসহ প্রধান প্রবেশপথগুলো বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা প্রবেশ করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন (অ্যাম্বুলেন্স, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস) ব্যতীত অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। ভোটারদের সুবিধার্থে বাস সার্ভিস পরিচালনা করা হবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী।

    ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, পানির বোতল বা অন্য কোনো তরল পদার্থ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

    ভোটে অংশ নিচ্ছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। ভিপি, জিএসসহ ২৮টি কেন্দ্রীয় পদ এবং হল সংসদের ১৩টি পদে নির্বাচন হবে।

    এদিকে, নিরাপত্তা ও জনসমাগম এড়াতে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ডিএমটিসিএল।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩৮তম ডাকসু নির্বাচন। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয় ২০১৯ সালে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে। ওই নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন নুরুল হক নুর এবং জিএস হন গোলাম রাব্বানী।

    স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথম ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর কোনো নির্বাচন হয়নি। অবশেষে আদালতের রায় অনুযায়ী ২০১৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ডাকসুর ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।