Tag: ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তা

  • সিইসি বললেন: ত্রয়োদশ নির্বাচনে জয়-পরাজয় গ্রহণের আহ্বান, শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা

    সিইসি বললেন: ত্রয়োদশ নির্বাচনে জয়-পরাজয় গ্রহণের আহ্বান, শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল ও প্রার্থীকে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    ১১ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোটদান শুধু নাগরিক অধিকার নয়, বরং দায়িত্বও। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভোটার, প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলগুলো সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

    সিইসি আরও বলেন, ভিন্নমত থাকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। তাই উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করে ভোটকেন্দ্রে অংশগ্রহণ করা উচিত। জয় বা পরাজয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক ফলাফল হিসেবে সকলকে গ্রহণ করতে হবে।

    তিনি ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকসহ সকলকে আহ্বান জানান, ব্যক্তিগত ক্ষতি বা অসুবিধা উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু কার্যক্রমে সহায়তা করতে।

    সিইসি বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত হবে। ভোটগ্রহণ আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে।

    এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল, মোট ২,০২৯ জন প্রার্থী এবং ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১,২২০ জন। সারাদেশে ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২,৪৭,৪৮২টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

  • অভূতপূর্ব নিরাপত্তা: ৮ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সারা দেশে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    অভূতপূর্ব নিরাপত্তা: ৮ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সারা দেশে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে রাত পোহালেই। দেশের ২৯৯টি আসনে ভোট হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনী সমন্বয়ে ভোটের মাঠ নিরাপদ করছে।

    প্রায় ৮ হাজার ৭৭০ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ ও আনসার সদস্য নির্বাচনের নিরাপত্তায় কাজ করছে। কেন্দ্রে স্থির, ভ্রাম্যমাণ এবং স্ট্রাইকিং টিম হিসেবে বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি করা হবে, যেমন সিসি ক্যামেরা, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন।

    নির্বাচনে লাইসেন্সধারী অস্ত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। লুট হওয়া হাজারেরও বেশি অস্ত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে “মশারির মতো” নিরাপদ করার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, যাতে কোনো অপরাধী বা নাশকতাকারী সুযোগ না পায়।

    ডিএমপি ২৬,৫১৫ জন সদস্য, র‍্যাব ৮ হাজার সদস্য এবং আনসার ও ভিডিপি ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিজিবি দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প থেকে হেলিকপ্টার, বিশেষ টহল ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করে নিরাপত্তা দেবে। সেনা ও নৌবাহিনীও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে।

    নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করতে সকল বাহিনী ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত। সম্ভাব্য সহিংসতা, নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরতে পারবে—এটি নিশ্চিত করার জন্য মাঠে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

    এছাড়া, প্রবাসী ও ভোটারদের মনিটরিং, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং তফসিল অনুসারে নির্বাচনী কার্যক্রম সুষ্ঠু রাখার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করছে।