Tag: ভোগান্তি

  • বৈশাখের ছুটিতেও তেল সংকট, রাজধানীর পাম্পে ৬ ঘণ্টার লাইন—চালকদের চরম ভোগান্তি

    বৈশাখের ছুটিতেও তেল সংকট, রাজধানীর পাম্পে ৬ ঘণ্টার লাইন—চালকদের চরম ভোগান্তি

    এবিএনএ: পহেলা বৈশাখের ছুটির দিনেও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে দীর্ঘ সারি। তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে চালকদের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা নগরজীবনে নতুন করে ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, খোলা থাকা পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির বিশাল লাইন জমেছে। অনেক পাম্প ছুটির কারণে বন্ধ থাকায় চাপ বেড়েছে সীমিত কয়েকটি স্টেশনে।

    তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের লাইন মহাখালী পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাইভেট কারের সারি নাখালপাড়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অনেকেই জানান, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দ্রুত তেল পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

    একজন মোটরসাইকেল চালক জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও এখনও তেল পাননি। তার ভাষায়, ছুটির কারণে অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় যেগুলো খোলা রয়েছে সেখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

    একই চিত্র দেখা গেছে আসাদগেট, শাহবাগ ও মাতুয়াইলসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে। চালকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

    এদিকে তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে চালু করা হয়েছে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপ। এই ব্যবস্থায় অ্যাপ ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বেশি তেল নিতে পারছেন, অন্যদিকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বরাদ্দ সীমিত রাখা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ সত্ত্বেও পাম্পে ভিড় ও অপেক্ষার সময় কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ভোগান্তি কিছুটা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ঈদযাত্রায় দুঃসহ ভোগান্তি—গাজীপুরে ২১ কিমি যানজটে আটকা হাজারো মানুষ

    ঈদযাত্রায় দুঃসহ ভোগান্তি—গাজীপুরে ২১ কিমি যানজটে আটকা হাজারো মানুষ

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাড়ির পথে ছুটছে লাখো মানুষ। তবে আনন্দযাত্রা রূপ নিয়েছে চরম দুর্ভোগে। গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ কিলোমিটার।

    বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে যানবাহনের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে বৃষ্টির প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

    শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর একযোগে হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এতে চন্দ্রা এলাকা, যা উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত, সেখানে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রা বাস টার্মিনাল থেকে কোনাবাড়ী উড়ালসড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে আরও ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে আছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে যানবাহন।

    দূরপাল্লার বাসযাত্রী আল মাহাদী জানান, বৃষ্টির মধ্যেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠলেও এক ঘণ্টায় মাত্র এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পেরেছেন। নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুণ সময় লাগতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

    একইভাবে, পরিবহন চালক মাহতাবুর রহমান বলেন, বৃষ্টির পর থেকেই যানজট মারাত্মক আকার নিয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

    চন্দ্রা টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রী আতাউর রহমানের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো গাড়ি পাচ্ছেন না। এ সুযোগে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর উপস্থিতি নেই।

    এদিকে, যানজট নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাইওয়ে পুলিশের একাধিক সদস্য জানান, নির্দিষ্ট দায়িত্ব বিভাজনের কারণে তারা সরাসরি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন না।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ থাকলেও তাদের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ছে না। ফলে ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।

    সার্বিক পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই যানজট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।