Tag: ভোক্তা অধিকার

  • মোংলায় বেকারি ও মিষ্টির দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, খাবারে নিষিদ্ধ রঙ ব্যবহারে জরিমানা

    মোংলায় বেকারি ও মিষ্টির দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, খাবারে নিষিদ্ধ রঙ ব্যবহারে জরিমানা

    এবিএনএ,মোংলা: বাগেরহাটের মোংলায় বেকারি ও মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত এবং নিষিদ্ধ রঙ ব্যবহারের অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়েছে। এ সময় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার মোংলা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশের একটি বেকারি এবং সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারি নামের একটি মিষ্টির দোকানে এই অভিযান পরিচালনা করেন মোংলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসীনা আরিফ।

    অভিযান চলাকালে দেখা যায়, কিছু দোকানে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে মিষ্টি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরিচ্ছন্ন স্থানে বিস্কুট ও পাউরুটি তৈরি করা হচ্ছিল। এতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    এছাড়া পরিদর্শনের সময় বিএসটিআই অনুমোদনহীন খাদ্য রঙ ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় বরিশাল বেকারিকে ২০ হাজার টাকা এবং একটি মিষ্টির দোকানকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসীনা আরিফ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। যারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি আরও জানান, আজকের অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অভিযান চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্থানীয় ক্রেতারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

  • ডিম-পেঁয়াজের হঠাৎ দামে আগুন: বাজারে অস্থিরতা, ভোক্তারা চাপে

    ডিম-পেঁয়াজের হঠাৎ দামে আগুন: বাজারে অস্থিরতা, ভোক্তারা চাপে

    এবিএনএ:  ডিম ও পেঁয়াজ—দুইটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। চলতি বর্ষা মৌসুম, সরবরাহ ঘাটতি ও মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে উৎপাদন কমে যাওয়াকেই দায়ী করছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। তবে ভোক্তাদের মতে, পুরনো ‘সিন্ডিকেট’ পদ্ধতি নতুন করে সক্রিয় হয়েছে—তাদের দাবি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে।

    গত এক মাস ধরে ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা থাকলেও সম্প্রতি সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে গেছে ১০-১৫ টাকা। এখন লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়, যেখানে গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়—যা আগের ছিল ১১০ টাকা। পাড়া-মহল্লার দোকানে এই দাম আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি।

    খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারিতে দাম বাড়ার কারণে তাদেরও খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, পাইকারিরা বলছেন—বর্ষার কারণে উৎপাদন কম, তাছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদা বেড়েছে।

    এদিকে পেঁয়াজের দামও লাফিয়ে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৮০ টাকাও ছাড়িয়ে গেছে। পাইকারি বাজার থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৬৫ টাকার বেশি দামে, জানালেন খুচরা বিক্রেতা আশিক।

    পাবনা ও ফরিদপুর অঞ্চলের মোকামগুলোতে দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ঢাকার বাজারে। পাইকারি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো ৫৪-৫৫ টাকায়, এখন তা ৭০-৭২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি এর জন্য বৃষ্টি ও আগের লোকসানকে দায়ী করেন। তিনি আরও জানান, দেশি পেঁয়াজের মাধ্যমে চাহিদা মেটানো গেলেও সংরক্ষণ সমস্যার কারণে ক্ষতি হচ্ছে।

    মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী রবিন অধিকারীর ভাষ্যে, বর্ষার কারণে অনেক পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে এবং কিছু পেঁয়াজে চারা গজাচ্ছে, যার ফলে ভালো পেঁয়াজ বাছাইয়ে সময় লাগছে, দামও বাড়ছে।

    তবে আশার কথা, আগের বছরের মতো অতিরিক্ত অস্থিরতা এবার নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করছেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সংরক্ষণ ও পরিবহন জটিলতায় এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

    ভোক্তাদের দাবি, বাজারে যথাযথ নজরদারি না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের কাঁধে অতিরিক্ত চাপ চাপিয়ে দিচ্ছে।