Tag: ভূমিকম্প

  • ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    এবিএনএ: ভূমিকম্প মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভীতি জাগায়। আধুনিক বিজ্ঞানে একে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ভূত্বকের ফল্ট বরাবর চাপ জমে হঠাৎ সরে গেলে কম্পন-তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের জন্য ভূমি কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলকে হাইপোসেন্টার বলা হয়, আর এর ঠিক ওপরে ভূপৃষ্ঠের অংশকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম ভূমিকম্পকে কেবল একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেই থামে না; বরং একে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন ও মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচনা করে। কুরআনে বিভিন্ন জাতির অবাধ্যতার কারণে শাস্তি হিসেবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উল্লেখ আছে। আবার কোথাও বলা হয়েছে, এসব নিদর্শনের উদ্দেশ্য মানুষকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমালোচনায় ফিরিয়ে আনা এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা।

    ইসলামের ব্যাখ্যায় ভূমিকম্প আল্লাহর শক্তির প্রকাশ—তিনি চাইলে ওপর থেকেও, নিচ থেকেও আজাব পাঠাতে সক্ষম। কেয়ামতের দিন পৃথিবীর ভয়াবহ কম্পনের কথাও কুরআনে উল্লেখ রয়েছে, যা মানুষকে শেষ বিচারের বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিপর্যয়কে মানুষের কৃতকর্মের ফল হিসেবে উল্লেখ করে আত্মশুদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    হাদিসে এসেছে, সমাজে অন্যায়, অবক্ষয় ও নৈতিক অবনতি বাড়লে ফিতনা, যুদ্ধ ও ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয় বৃদ্ধি পায়। আবার মুমিনদের জন্য এসব বিপদ পরীক্ষাস্বরূপ—ধৈর্য ধরলে পাপ মোচন হয় এবং আখিরাতে উত্তম প্রতিদান লাভের আশা করা যায়। কিছু হাদিসে ভূমিকম্পে নিহতদের শহীদি মর্যাদার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    করণীয় কী?
    বিপর্যয়ের সময় আতঙ্কে ভেঙে না পড়ে আত্মসমালোচনা করা জরুরি। তাওবা-ইস্তেগফার বৃদ্ধি, দান–সদকা বাড়ানো, মানুষের হক আদায়, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা এবং গোনাহ থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দিয়েছেন আলেমরা। পাশাপাশি বাস্তব জীবনে দুর্যোগ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা মেনে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • দুপুরের কম্পনে থমকে গেল সুন্দরবন উপকূল: ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্কিত জনজীবন

    দুপুরের কম্পনে থমকে গেল সুন্দরবন উপকূল: ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্কিত জনজীবন

    এবিএনএ: শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবন উপকূলে হঠাৎ করে ভয়াবহ কম্পনে থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন। দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এমনকি গাছপালাও দুলে ওঠে। পুকুর-দিঘির পানিতে স্পষ্ট ঢেউ দেখা যায়। মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে—শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। অনেকে মুখে দোয়া পড়তে পড়তে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

    বাগেরহাট শহরের বাসিন্দা লীলা দেবনাথ জানান, নাতিকে খাওয়ানোর সময় হঠাৎ ভবন কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে শিশুটিকে কোলে নিয়েই বাইরে ছুটে যান তিনি। তার ভাষায়, জীবনে এমন দোল কখনও টের পাননি। একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। বাজার এলাকায় দোকানের মালামাল পড়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, কম্পনে ঘরের আসবাবপত্র নড়ে ওঠে এবং রান্নাঘরের থালা-বাসন মেঝেতে পড়ে যায়। জুমার নামাজ চলাকালে একটি মসজিদেও কম্পন অনুভূত হয়। মুসল্লিরা নিরাপদে বের হয়ে আসেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    পুরোনো সরকারি কোয়ার্টারে থাকা এক চাকরিজীবী নারী বলেন, কম্পনে দেয়ালের ফাটল বড় হয়েছে—এ অবস্থায় সেখানে থাকা নিরাপদ নয় বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এনজিওকর্মী ও দোকানিরাও জানান, প্রথমে ভারী যানবাহনের কম্পন মনে হলেও পরে চারদিকে ‘ভূমিকম্প’ চিৎকার শুনে তারা দ্রুত বাইরে চলে যান।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আশাশুনি উপজেলা এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। উপকূলজুড়ে অনুভূত এই কম্পনে বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জনমনে ভয় ও উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

  • ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    এবিএনএ: ভূমিকম্পকে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর মতে, যখন মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে গিয়ে পাপাচার, অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হয়, তখন আল্লাহ তাঁদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। ভূমিকম্প তারই অন্যতম একটি নিদর্শন।

    তিনি বলেন, কোরআনে অতীতের বহু জাতির ধ্বংসের কথা উল্লেখ রয়েছে, যারা নবীদের অস্বীকার করেছে, দ্বীনের বিরোধিতা করেছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে। সালেহ (আ.)-এর উম্মত যখন আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন উটনিকে হত্যা করেছিল, তখন ভয়াবহ ভূমিকম্পে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। একইভাবে লুত (আ.)-এর উম্মত সমকামিতার মতো নোংরা পাপাচারে লিপ্ত থাকায় আল্লাহ তাদের জনপদ উল্টে দেন এবং পাথর বর্ষণ করেন।

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে পাপাচারের কারণে অতীতের জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়েছিল, সেই একই ধরনের আচরণ আজ আমাদের সমাজে প্রকাশ্যে ঘটছে। সমকামিতার মতো জঘন্য অপরাধ শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধানের বিরোধী নয়, বরং আইনের দৃষ্টিতেও শাস্তিযোগ্য। অথচ আজ সেটিকে “অধিকার” বলে বৈধ করার দাবি উঠছে।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করিয়ে দেন, সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয়, অশ্লীলতা, দুর্নীতি ও অন্যায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে গণহারে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে, সৃষ্টিকর্তার অসন্তুষ্টি ডেকে আনে এমন সব পাপাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”

    ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুটি প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি—আধ্যাত্মিক ও জাগতিক প্রস্তুতি। আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে তওবা করা, পাপ থেকে বিরত থাকা, ইমান মজবুত করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকা।

    অন্যদিকে, অতি জনঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকায় যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তাহলে এক লাখেরও বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে। অথচ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা এখনো খুবই সীমিত।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র যদি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, শোভাযাত্রা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীর পেছনে ব্যয় করা অর্থের সামান্য অংশও ভূমিকম্প প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করত, তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।”

    শেষে তিনি সবাইকে সতর্ক হয়ে ইমানি জীবনযাপন, তওবা ও সামাজিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “কোনো পরিকল্পনা বা প্রযুক্তি আমাদের রক্ষা করতে পারবে না, যদি আল্লাহর রহমত না থাকে। ভূমিকম্প আমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা।”

  • আবার কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল! ঘোড়াশালকে কেন্দ্র করে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প

    আবার কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল! ঘোড়াশালকে কেন্দ্র করে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় আবারও অনুভূত হয়েছে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভব করেন অনেকেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল, যা আগারগাঁও আবহাওয়া অফিস থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

    আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্পের ধরণ ছিল মৃদু ও স্বল্পমাত্রার। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি নিশ্চিত করেছে যে, এই কম্পন ঢাকার উত্তর-পূর্ব দিকে আনুমানিক ২৩ কিলোমিটার দূর থেকে সূচিত হয়।

    এর আগে গত শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। সেই ভূমিকম্পে প্রাণহানি ঘটে অন্তত ১০ জনের, আহত হন ছয় শতাধিক মানুষ। ঢাকার বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দেয়, কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে।

    সেই ঘটনার পরদিন শনিবার আবারও সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে নরসিংদীর পলাশ এলাকায় অনুভূত হয় ৩ দশমিক ৩ মাত্রার নতুন আরেকটি ভূমিকম্প। একই দিন সন্ধ্যায় খুব কাছাকাছি সময়ে অনুভূত হয় আরও দুটি ভূমিকম্প—সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে ঢাকার বাড্ডায় রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭ মাত্রা এবং তার মাত্র এক সেকেন্ড পর নরসিংদীতে উৎপন্ন ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন এমন কম্পন ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সাধারণ মানুষের মধ্যে হালকা উদ্বেগ থাকলেও বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়ার যায়নি।

    রাজধানীসহ আশপাশের এলাকাবাসী এখন অপেক্ষায়—এই কম্পন কি কেবল সতর্কবার্তা, নাকি আরও বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস? সময়ই বলবে তার উত্তর।

  • আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৪০০ ছাড়াল, আহত সহস্রাধিক

    আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৪০০ ছাড়াল, আহত সহস্রাধিক

    এবিএনএ: আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০০-এর বেশি। আফগান সরকারের মুখপাত্র জানায়, এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ২৫১ জন এবং ৮ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

    ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্বাঞ্চলের কুনার প্রদেশে। স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাতে প্রবল কম্পনটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। অগভীর হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও তীব্র হয়ে উঠে।

    কুনার প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান এহসানুল্লাহ এহসান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত চারটি গ্রামে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও অনেক পরিবার আটকা রয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না কতজন ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা চলছে।”

    এ ঘটনাকে আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমিত সরঞ্জাম নিয়েই স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে দুর্গত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • দেড় ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরে পরপর চার ভূমিকম্প, কাঁপল আন্দামান উপকূল!

    দেড় ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরে পরপর চার ভূমিকম্প, কাঁপল আন্দামান উপকূল!

    এবিএনএ:  বঙ্গোপসাগরে এক রাতেই চারবার কেঁপে উঠল সমুদ্রতল। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর চারটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যার কেন্দ্র ছিল আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ারের কাছাকাছি অঞ্চলে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রতলের ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর মাত্রা ছিল ৫।

    এরপর একই এলাকায় আরও তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়— যেগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫, ৪.৯ ও ৪.৬। সবগুলো ভূমিকম্প ঘটেছে রাত ৯টা ৪৫ থেকে রাত ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে।

    ভূমিকম্পগুলো বেশ গভীর হওয়ায় স্থলভাগে তেমন প্রভাব ফেলেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

    ইউএসজিএস নিশ্চিত করেছে, এই ভূমিকম্পগুলোর ফলে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। একই সঙ্গে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে কম্পনের অর্থ হতে পারে সাবডাকশন জোনে টেকটোনিক প্লেটগুলোর সক্রিয়তা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে।

    বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের তাই এখনই সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • ভূমিকম্পের সুযোগে করাচির কারাগার থেকে ২ শতাধিক কয়েদির পালানো, আতঙ্কে প্রশাসন

    ভূমিকম্পের সুযোগে করাচির কারাগার থেকে ২ শতাধিক কয়েদির পালানো, আতঙ্কে প্রশাসন

    এবিএনএ :

    পাকিস্তানের করাচিতে একাধিক ভূমিকম্পের জেরে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে সোমবার রাতে শহরের মালির কারাগার থেকে পালিয়েছে ২১৩ জন কয়েদি। ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েদিদের নিরাপদ স্থানে সরানোর সময় কারারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কয়েদিরা।

    পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, রবিবার সকাল থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত করাচি ও আশপাশের এলাকায় মোট ১৬ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের প্রভাবে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় কারাগারের ভেতরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা শিথিলতার সুযোগে পালিয়ে যায় শতাধিক কয়েদি।

    কারা সূত্র বলছে, মূলত ৪ ও ৫ নম্বর সার্কেলের কয়েদিরা এই পরিকল্পিত পলায়নের সঙ্গে যুক্ত। সংঘর্ষের সময় এক কয়েদি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং গুরুতর আহত হন একজন কারারক্ষী।

    মালির কারাগারের সুপারিন্টেনডেন্ট আরশাদ শাহ বলেন, “পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।”

    এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮০ জন পলাতককে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৩৩ জনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে অংশ নিচ্ছে পুলিশ, রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কর্পস, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট ও র‌্যাপিড রেসপন্স ফোর্স।

    দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পগুলোর উৎস ছিল ভূমির অগভীর স্তরে, যার কারণে কম্পনগুলো বেশ শক্তিশালী অনুভূত হয়েছে।

    সাম্প্রতিক এই ঘটনা পাকিস্তানের কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।