Tag: ভারত রাশিয়া সম্পর্ক

  • বঙ্গোপসাগরে শক্তি প্রদর্শন: ভারত–রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    বঙ্গোপসাগরে শক্তি প্রদর্শন: ভারত–রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে ভারত ও রাশিয়া। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহড়ার নাম ‘মিলান ২০২৬ নাভাল এক্সারসাইজ’, যেখানে দুই দেশের নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করবে।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রুশ নৌবাহিনীর প্যাসিফিক ফ্লিটের অন্তর্ভুক্ত একাধিক যুদ্ধজাহাজ এই মহড়ায় অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে বিশাল ও অত্যাধুনিক ফ্রিগেট মার্শাল শাপোশনিকভ, যা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন ধ্বংসে সক্ষম গাইডেড অস্ত্র বহনে পারদর্শী।

    রাশিয়ান মেরিটাইম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে নিয়মিত টহলের দায়িত্বে থাকা শাপোশনিকভ ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) যুদ্ধজাহাজটি ওমানের মাস্কাট বন্দর অতিক্রম করেছে।

    বঙ্গোপসাগরে মহড়া শেষে জাহাজটি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিশাখাপত্তম বন্দরের দিকে যাত্রা করবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি সেখানে পৌঁছাবে।

    উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে এই যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনার কথা তিন মাস আগেই ঘোষণা করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক ঘোষণায় দেশটির নৌবাহিনীর ভাইস চিফ অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎসায়ন এই মহড়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই মহড়া ভারত–রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ভারত সফরের আগে মোদির নেতৃত্বে মুগ্ধ পুতিন, দিল্লিতে প্রস্তুতি সর্বোচ্চ সতর্কতায়

    ভারত সফরের আগে মোদির নেতৃত্বে মুগ্ধ পুতিন, দিল্লিতে প্রস্তুতি সর্বোচ্চ সতর্কতায়

    এবিএনএ: দু’দিনের সরকারি সফরে এবার ভারতে পা রাখতে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সফর শুরুর আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, মোদি কখনোই চাপের কাছে মাথানত করেন না; বরং নিজের দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

    মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে পুতিন স্পষ্টভাবে জানান, “মোদি এমন নেতা নন, যিনি চাপের মুখে নতি স্বীকার করবেন।” ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এবারের সফর নিয়ে তিনি বিশেষভাবে আশাবাদী। রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও সহযোগিতা এই সফরে নতুন গতি পাবে বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

    তিনি জানান, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে পরমাণু শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, বিমান প্রযুক্তি—এসব খাতে দু’দেশই ভবিষ্যতের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে যৌথভাবে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও সম্ভাবনাও এই বৈঠকের আলোচ্যসূচির মধ্যে থাকছে।

    মোদির নেতৃত্বে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, “ভারত এখন দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি। ৭.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি তার বড় উদাহরণ। কিছু সমালোচনা থাকলেও সাফল্যই কথার প্রমাণ।”

    গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে মোদিকে নিজের গাড়িতে বসানোর ঘটনাটি স্মরণ করে পুতিন জানান, সেটি তাদের বন্ধুত্বেরই প্রতীক। পরিকল্পিত কিছু নয়, বরং দুই নেতার অনানুষ্ঠানিক আলাপের অংশ হিসেবেই তারা গাড়িতে উঠে পড়েছিলেন।

    মোদির আমন্ত্রণেই এবার ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে দিল্লি আসছেন পুতিন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার বিমান নামার কথা রাজধানীতে। তাকে ঘিরে দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে পাঁচ-স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাশিয়ার প্রায় ৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী আগেই দিল্লিতে পৌঁছে পুতিনের কনভয়ের সম্ভাব্য রুট পরিদর্শনও সম্পন্ন করেছেন। দিল্লি পুলিশ ও এনএসজির সঙ্গে যৌথভাবে চলছে টহল ও প্রস্তুতি।

    রুশ প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লিতে এখন টানটান নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ব্যস্ততা।

  • পুতিনের ফোনে মোদিকে বার্তা: ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে ভারতের ভূমিকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

    পুতিনের ফোনে মোদিকে বার্তা: ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে ভারতের ভূমিকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

    এবিএনএ:  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন। সোমবারের এই ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ, শান্তি প্রক্রিয়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল।

    এর আগে মাত্র কয়েকদিন আগে আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুতিন। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মোদি আলোচনায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—এই যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান অত্যন্ত জরুরি এবং ভারত সবধরনের শান্তি প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে মোদি-পুতিন ভবিষ্যতেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।

    পরে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ মোদি লিখেছেন, “বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করায় কৃতজ্ঞ। ভারত সবসময়ই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং এ সম্পর্কিত সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এসেছে।”

    তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে এই ধরনের কূটনৈতিক আলাপচারি অব্যাহত থাকবে।

    উল্লেখ্য, দশ দিন আগেও মোদি-পুতিনের ফোনালাপ হয়েছিল, যেখানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ নিয়ে আলোচনা হয়।

    মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ভারত রাশিয়া থেকে ডিসকাউন্ট মূল্যে অপরিশোধিত তেল কিনে চলেছে এবং এর মাধ্যমে রাশিয়ার তহবিল ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। এর জবাবে ভারত জানায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পুতিন-মোদি ফোনালাপের সময়ই খবর এসেছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শিগগিরই হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যদিও আলাস্কার তথাকথিত ‘শান্তি সম্মেলনে’ তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এবার বৈঠকে জেলেনস্কির পাশে থাকবেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।