Tag: ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক

  • ভারতকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের—নতুন নিরাপত্তা কৌশলে সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    ভারতকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের—নতুন নিরাপত্তা কৌশলে সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    এবিএনএ: পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সর্বশেষ কৌশলগত নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে (ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি) ভারতকে সরাসরি ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের সঙ্গে আরও দৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    গত শুক্রবার প্রকাশিত নথিতে পশ্চিম গোলার্ধসহ পুরো আমেরিকা মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রাধান্য’ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে বৈরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়িয়ে তাইওয়ানের নিরাপত্তা রক্ষা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে ভারতের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২২ সালে প্রকাশিত কৌশলগত নথির তুলনায় এবার চীনের প্রতিযোগী ভূমিকা বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনোযোগ তেমন দেওয়া হয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

    নথিতে উল্লেখ করা হয়, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো এবং কোয়াড জোট—যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করে—মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা স্থিতি বজায় রাখায় নয়াদিল্লির আরও সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় অর্ধেকের উৎস এবং ভবিষ্যতের অন্যতম ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

    এদিকে পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন মন্তব্য করেছেন যে ট্রাম্পের ‘অযোগ্যতা’ ওয়াশিংটন–নয়াদিল্লি সম্পর্ককে দুর্বল করেছে, যার ফলে ভারত ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। তাঁর দাবি, এই সুযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন। রুবিন আরও প্রশ্ন তুলেছেন—ট্রাম্প কি পাকিস্তানের প্রভাব বা অনুকূলে নেওয়া কোনো ঘুষে প্রভাবিত হয়েছেন?

  • যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেও ‘ইতিবাচক’ বার্তা দিলেন মোদি

    যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেও ‘ইতিবাচক’ বার্তা দিলেন মোদি

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক এখনো শক্তিশালী ও ভবিষ্যতমুখী।

    মোদি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সৌহার্দ্যপূর্ণ মন্তব্য ও ইতিবাচক মূল্যায়ন আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি এবং একইভাবে তাকেও তা ফিরিয়ে দিচ্ছি।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে সর্বাত্মক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিদ্যমান, যা আগামী দিনে আরও গভীর হবে।

    তবে এ বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ইউক্রেন যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন।

    তবুও মোদি ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ট্রাম্প প্রথম মেয়াদ থেকেই মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গেও তিনি একাধিকবার বলেছেন, “আমি সবসময় মোদির বন্ধু থাকব।”

    যদিও চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উষ্ণতা ফেরাতে সম্প্রতি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে মোদির বেইজিং সফর ট্রাম্পকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে ভারতকে কাছে রাখার প্রতিযোগিতা নতুন করে স্পষ্ট হচ্ছে।