Tag: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

  • শিলিগুড়িতে খুলে গেল দরজা: বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর তুলে নেওয়া হলো হোটেল নিষেধাজ্ঞা 

    শিলিগুড়িতে খুলে গেল দরজা: বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর তুলে নেওয়া হলো হোটেল নিষেধাজ্ঞা 

    এবিএনএ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ–এর শিলিগুড়ি শহরে বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে অবস্থানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় হোটেল মালিকদের সংগঠন গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পরে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পর সদস্য হোটেল মালিকদের মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এই সিদ্ধান্তের ফলে শিলিগুড়িজুড়ে সদস্যভুক্ত হোটেলগুলোতে এখন থেকে বাংলাদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আবারও কক্ষ বুকিং করতে পারবেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, দুই দেশের সরকার সীমান্ত পারাপারের বিধিনিষেধ শিথিল করায় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

    সংস্থাটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদিও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, তবু ভারতের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে কোনো উসকানিমূলক বা অসম্মানজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আবারও কঠোর অবস্থান নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সীমান্ত এলাকায় চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পর্যটন ও ভ্রমণ খাতে শিথিলতার সুফল মিলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • দিল্লির দৃষ্টিতে তারেক রহমান: নতুন অধ্যায়ের শুরু, নাকি কৌশলগত অনিশ্চয়তা?

    দিল্লির দৃষ্টিতে তারেক রহমান: নতুন অধ্যায়ের শুরু, নাকি কৌশলগত অনিশ্চয়তা?

    এবিএনএ: জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয় এবং দলের নেতৃত্বে তারেক রহমান সামনে আসা—এই পরিবর্তনকে দিল্লি কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনা চলছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-তে বিশ্লেষক চন্দ্রশেখর শ্রীনিভাসন বিষয়টি নানা দিক থেকে পর্যালোচনা করেছেন।

    বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ফেরার পর প্রথম জনসমাবেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর বিখ্যাত উক্তির ছায়ায় নিজের রাজনৈতিক রূপরেখার ইঙ্গিত দেন। এতে দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে—তারেক রহমানের ‘পরিকল্পনা’ আসলে কী এবং তা আঞ্চলিক কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে।

    বিএনপির জয়ের পর দ্রুতই দিল্লির প্রতিক্রিয়া আসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান—যা কূটনৈতিক ভাষায় একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশকে ঘিরে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যে কৌশলগত টানাপোড়েন রয়েছে, এই শুভেচ্ছা বার্তা সেখানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    দিল্লির দৃষ্টিতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে। ভারত আশঙ্কা করছে, নতুন নেতৃত্ব যদি দিল্লির তুলনায় বেইজিং ও ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তাহলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। সেই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনমনে গড়ে ওঠা ভারতবিরোধী মনোভাবও দিল্লির ভাবনার তালিকায় আছে।

    বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ থাকছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সুফল মেলে। তাই দিল্লি এখন নতুন সরকারের কূটনৈতিক দিকনির্দেশনার দিকে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছে।

    আগের শাসনামলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ভারত বাংলাদেশের নেতৃত্ব পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে সম্পর্কের নতুন ভিত্তি গড়তে আগ্রহী বলে বিশ্লেষকদের মত। তারেক রহমান ভারতের স্বার্থকে সম্মান করার ইঙ্গিত দেওয়ায় দিল্লির কূটনৈতিক মহলে এক ধরনের অপেক্ষামান মনোভাব তৈরি হয়েছে—দেখা যাক, কথার প্রতিফলন নীতিতে কতটা আসে।

    সব মিলিয়ে দিল্লির কাছে এটি এখন ‘অপেক্ষার খেলা’। সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—সহযোগিতার নতুন অধ্যায় নাকি কৌশলগত সতর্কতা—তা নির্ভর করবে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব প্রয়োগের ওপর।

  • বাগেরহাট কারাগার থেকে ৩ মাস ৮ দিন পর মুক্তি পেলেন ২৩ ভারতীয় জেলে

    বাগেরহাট কারাগার থেকে ৩ মাস ৮ দিন পর মুক্তি পেলেন ২৩ ভারতীয় জেলে

    এবিএনএ: দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেলেন বাগেরহাট কারাগারে আটক থাকা ২৩ জন ভারতীয় জেলে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা এসব জেলেকে আটক করে। পরে তাদের মংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে পুলিশ আদালতে হাজির করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    কারামুক্তির সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার চন্দ্রজিন মুখার্জি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হাফিজ আল আসাদ, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কমান্ডার সেলিম এবং বাগেরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (ফকিরহাট সার্কেল) রাশেদুল ইসলাম রানা।

    বাগেরহাট কারাগারের জেল সুপার মোস্তফা কামাল জানান, দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভারতীয় জেলেদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তির পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের জলসীমা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কোস্টগার্ডের কাছে এসব জেলেকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

  • খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা ছাড়লেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর

    খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা ছাড়লেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর

    এবিএনএ: বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফর শেষে বুধবার সন্ধ্যার আগে তিনি রাজধানী ছাড়েন।

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের একটি সূত্র জানায়, ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে বিকেল ৫টার দিকে জয়শঙ্কর ঢাকা ত্যাগ করেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে তিনি বুধবার দুপুরে ঢাকায় আসেন।

    এই সফরে জয়শঙ্কর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। একই সঙ্গে ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের পক্ষ থেকেও শোকবার্তা জানান তিনি।

    সংক্ষিপ্ত সফরকালীন সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

    এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থানরত পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন জয়শঙ্কর।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস জয়শঙ্করই প্রথম ভারতীয় মন্ত্রী, যিনি সরকারি সফরে ঢাকা এলেন।

  • বিক্ষোভ ও হুমকির জেরে অচল শিলিগুড়ি–আগরতলা ভিসা সেন্টার, কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের সামনে উত্তাল পরিস্থিতি

    বিক্ষোভ ও হুমকির জেরে অচল শিলিগুড়ি–আগরতলা ভিসা সেন্টার, কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের সামনে উত্তাল পরিস্থিতি

    এবিএনএ: ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি ও আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনেও দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ও আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভিসা সেবার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

    এর আগে শিলিগুড়ি ও কলকাতায় একাধিক সংগঠনের বিক্ষোভে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সংবলিত ফ্লেক্স ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। শিলিগুড়িতে প্রকাশ্যেই বাংলাদেশ ভিসা সেন্টার বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়া হয়।

    দুপুরের দিকে ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে জমায়েত করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। সেখান থেকে মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারের সামনে যায়। সেখানে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা পতাকা সংবলিত ফ্লেক্স ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভিসা সেন্টার ঘিরে ফেলে। ওই দিন আগে থেকেই সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ভিসা সেন্টার বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের মাধ্যমে ভেতরে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার হুমকি দেয়।

    এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে একদিনে তিন দফা বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে ‘নাস্তিক মঞ্চ’, পরে জাতীয় কংগ্রেস এবং সর্বশেষ বিজেপি ও বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হিন্দু সনাতনী সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভে অংশ নেন। এক পর্যায়ে পুলিশি বাধা অতিক্রম করতে গিয়ে ধস্তাধস্তি ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে।

    শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দিপু দাস হত্যার প্রতিবাদে এর আগের দিন দিল্লি ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন রাজ্যেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। চলমান এই পরিস্থিতিতে ভারতস্থিত বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন ও ভিসা সেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

  • ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না, তাই সম্মান চাই ও দিতেও চাই’ — জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

    ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না, তাই সম্মান চাই ও দিতেও চাই’ — জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

    এবিএনএ:  জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, “মানুষ তার বাসস্থান বদলাতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো সম্ভব নয়। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সম্মান দিতে চাই, সেই সঙ্গে ভারতের কাছ থেকেও সম্মান আশা করি।”

    স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, “ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড় দেশ। তাদের ভূখণ্ড, জনসংখ্যা ও সম্পদ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা সেই বাস্তবতা মেনে চলি এবং তাদের অবস্থান অনুযায়ী সম্মান জানাতে চাই। তবে আমাদের ১৮ কোটি মানুষের একটি ছোট ভূখণ্ডকেও ভারতের উচিত সম্মানের সঙ্গে দেখা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকলে দুই দেশই উপকৃত হবে এবং একে অপরের কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্মানিত হবে।”

    ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “গত ১৫ মাসে আমাদের অবস্থান ও কার্যক্রমই তার প্রমাণ। আমরা জোরপূর্বক কিছু সমর্থন করি না এবং কাউকে দেশ ছাড়তেও বাধ্য করতে চাই না। কেউ যদি অবৈধভাবে কারও সম্পত্তি দখল করে থাকে এবং তার প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটি ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষেই আমরা আছি।”

    সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফরে কোনো মার্কিন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, “এই প্রশ্নটি বৃহত্তর স্বার্থে আপাতত এড়িয়ে যাচ্ছি।”