Tag: ভারত পাকিস্তান সম্পর্ক

  • বেলুচিস্তানের রক্তপাত ঘিরে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত কূটনীতি

    বেলুচিস্তানের রক্তপাত ঘিরে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত কূটনীতি

    এবিএনএ: বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ।

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা একযোগে হামলা চালায়। ব্যাংক, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প, সরকারি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

    এর পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে ১৭৭ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মদদ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্ট ও সহযোগীদের নির্মূল করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, বিএলএ ভারতের কাছ থেকে সহায়তা পায়। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে তারা প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেয়নি।

    এদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইসলামাবাদের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান বারবার এমন অভিযোগ তুলে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর চেষ্টা করে।

    রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, অমূলক অভিযোগ না করে পাকিস্তানের উচিত বেলুচিস্তানের মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দাবিগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া। ওই অঞ্চলে দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে সুপরিচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • পাকিস্তানের হুমকির জবাবে ভারতের অগ্নি-৫ মিসাইলের সফল পরীক্ষা

    পাকিস্তানের হুমকির জবাবে ভারতের অগ্নি-৫ মিসাইলের সফল পরীক্ষা

    এবিএনএ:  পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারমাণবিক হুমকির জবাবে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করল ভারত। দেশটি বুধবার ওড়িশার চান্দিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর) থেকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল অগ্নি-৫ এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই মিসাইলটি পরীক্ষার মাধ্যমে সব কার্যক্ষম ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূর্ণভাবে যাচাই করা হয়েছে।

    অগ্নি-৫ মিসাইলটি তৈরি করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (ডিআরডিও)। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই মিসাইলটি প্রায় ১.৫ টনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। হালকা উপকরণ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি আরও নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য।

    এই মিসাইলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এমআইআরভি (Multiple Independently Targetable Re-entry Vehicle) প্রযুক্তি। এর ফলে একটি মিসাইল থেকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়, যা কৌশলগত দিক থেকে ভারতের সামরিক শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ নিশ্চিত করতে অগ্নি-৫ এ ব্যবহার করা হয়েছে রিং লেজার জাইরোস্কোপ-ভিত্তিক ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (RLG-INS) এবং মাইক্রো-ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (MINGS)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের নিজস্ব ন্যাভিক স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ও আমেরিকার জিপিএস।

    তিন ধাপের কঠিন জ্বালানি চালিত প্রপালশন সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত এই মিসাইল একটি ক্যানিস্টারাইজড প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর ফলে এটি সহজে সংরক্ষণযোগ্য এবং দ্রুত অপারেশনাল মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা সম্ভব হয়।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির প্রকাশ্যে বলেন, ভারত যদি ভবিষ্যতের যুদ্ধে পাকিস্তানের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে, তবে তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন নেতাও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই হুমকির জবাব দিতে এবং নিজেদের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতেই ভারত অগ্নি-৫ মিসাইলের এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে।

  • ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আবার উত্তেজনা, দগদগে আগুনের উপর বসবাস করছে কাশ্মীরের মানুষ

    ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আবার উত্তেজনা, দগদগে আগুনের উপর বসবাস করছে কাশ্মীরের মানুষ

    এবিএনএ:  কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত পাকিস্তানের মাঝে আবারও বাড়ছে সংঘাত। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষকে প্রতিদিনই পার করতে হচ্ছে মৃত্যুভয়, গোলাগুলি ধ্বংসের মধ্যে। পেহেলগাঁও হামলার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ভারতের কমপক্ষে ১৬ জন এবং পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী তাদের দেশে নিহত হয়েছেন ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক।

    এই ডি-ফ্যাক্টো সীমান্তে প্রতিবার উত্তেজনা তৈরি হলে গোলাবর্ষণ শুরু হয়, যার ফলে ধ্বংস হয় বসতবাড়ি, বিদ্যালয়, হাসপাতাল রাস্তা। গবাদি পশু কৃষিজ সম্পদ হারিয়ে জীবিকাও থমকে যায়। কানাডা প্রবাসী লেখিকা আনাম জাকারিয়া জানান, “এই এলাকার মানুষ প্রতিনিয়তই ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনার বলি হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি মানে এখানে ক্ষণিকের স্বস্তি মাত্র।”

    ৭৪০ কিলোমিটার লম্বা নিয়ন্ত্রণরেখা এবং প্রায় ২৪০০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। ১৯৪৯ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে গঠিত হয় এই সীমান্ত, যার নামকরণ হয় ‘সিমলা চুক্তি’র (১৯৭২) মাধ্যমে।

    দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাপিমন জেকব বলেন, “এই সীমান্তে সংঘর্ষ কখনোই ছোট থাকে না—ছোট অস্ত্র থেকে শুরু করে ভূমি দখল এবং সার্জিক্যাল স্ট্রাইক পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।”

    লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স-এর অধ্যাপক সুমন্ত্র বসু বলেন, “এই যুদ্ধকালীন সীমান্তকে বিশ্বব্যাপী অনেকটা ইসরায়েল-ওয়েস্ট ব্যাংকের ‘গ্রিন লাইন’-এর মতো ধরা যায়, যা প্রতিনিয়ত উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।”

    ২০০৩ সালের যুদ্ধবিরতির চুক্তির পর সীমান্তে সাময়িক শান্তি দেখা গেলেও ২০০৮ থেকে আবার শুরু হয় তীব্র সংঘাত। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে কিছুটা স্থিতি ফিরে আসে। তবে ২০২৫ সালে এসে সেই চুক্তিও অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।

    ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখাকে ‘সফ্ট বর্ডার’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যার ফলে সীমান্তে সহজে চলাচল এবং বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

    বর্তমানে সীমান্তে আবারও যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, তা শুধু দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সংকটই নয়, সীমান্তবাসীদের জন্য এক নিরব বিস্ফোরণ। তাঁদের প্রতিদিনের জীবন চলছে যুদ্ধ, শঙ্কা সহিংসতার চক্রে বন্দি হয়ে। শান্তি যে কবে আসবে, তা এখনো অনিশ্চিত।