Tag: ভারতীয় চলচ্চিত্র

  • ৬ দিনে ৫০০ কোটির ঘর পার! ‘ধুরন্ধর টু’ বক্স অফিসে তাণ্ডব

    ৬ দিনে ৫০০ কোটির ঘর পার! ‘ধুরন্ধর টু’ বক্স অফিসে তাণ্ডব

    এবিএনএ:  মুক্তির পর থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে বলিউড তারকা Ranveer Singh অভিনীত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’। আন্ডারকাভার এজেন্টের ঝুঁকিপূর্ণ মিশন আর করাচির অপরাধ জগতকে ঘিরে নির্মিত এই ছবিটি দর্শকদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি করেছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ষষ্ঠ দিনে প্রায় ১২ হাজার ৪৯৯টি শোতে প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। ওই দিনই ছবিটি আয় করেছে প্রায় ২২.৪১ কোটি রুপি (নিট)। সব মিলিয়ে ভারতের বাজারে সিনেমাটির মোট নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৫৪১.৫৩ কোটি রুপিতে।

    অন্যদিকে, গ্রস কালেকশনের হিসেবে এই ছবিটি এখন পর্যন্ত আয় করেছে প্রায় ৬৪৬.২০ কোটি রুপি। তবে চূড়ান্ত আয়ের পরিসংখ্যান এখনও নির্ধারিত হয়নি।

    সিনেমাটির গল্পে আগের পর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেখানো হয়েছে এক ভারতীয় আন্ডারকাভার গোয়েন্দার জীবন, যিনি করাচির অপরাধচক্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিশোধ, ষড়যন্ত্র এবং বড় ধরনের হুমকি মোকাবিলার রোমাঞ্চকর ঘটনাপ্রবাহে এগিয়েছে ছবির কাহিনি।

    জানা গেছে, প্রথম পর্বের সঙ্গে একটানা শুটিং করা হয়েছে এই সিক্যুয়েলের। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শুরু হওয়া শুটিং শেষ হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। ভারতের পাঞ্জাব, চণ্ডীগড়, মহারাষ্ট্র, লাদাখ ও হিমাচল প্রদেশের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের বিভিন্ন লোকেশনেও ছবিটির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

  • সেন্সর জটিলতায় থমকে গেল থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নায়গন’, অগ্রিম টিকিটের অর্থ ফেরত নিয়ে যা জানা গেল

    সেন্সর জটিলতায় থমকে গেল থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নায়গন’, অগ্রিম টিকিটের অর্থ ফেরত নিয়ে যা জানা গেল

    এবিএনএ: থালাপতি বিজয়ের অভিনীত ও বহুল প্রতীক্ষিত শেষ চলচ্চিত্র ‘জন নায়গন’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। মুক্তির আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ায় সিনেমা হলে ভিড়ের আভাস মিলেছিল। তবে মুক্তির ঠিক দুই দিন আগে বড় ধাক্কা খেল ছবিটি। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না পাওয়ায় ভারতে সিনেমাটির নির্ধারিত মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।

    প্রযোজনা সংস্থা কেভিএন প্রোডাকশনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অনিবার্য কিছু প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে ৯ জানুয়ারি ‘জন নায়গন’ মুক্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন মুক্তির তারিখ খুব শিগগিরই জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    সংস্থাটি আরও জানায়, দর্শকদের আবেগ ও প্রত্যাশার বিষয়টি তারা পুরোপুরি উপলব্ধি করছে। এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না, তবে পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে অপেক্ষা করতে হচ্ছে সবাইকে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সিনেমাটি এখনো সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) থেকে ছাড়পত্র পায়নি। বিষয়টি নিয়ে নির্মাতারা মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বুধবার আদালত চূড়ান্ত রায় স্থগিত রেখে সেন্সর বোর্ডকে নতুন করে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।

    তামিল সংস্করণের অনুমোদন না মিললে হিন্দি, তেলুগু, মালয়ালম ও কন্নড় ভাষার ডাব সংস্করণও মুক্তি পাবে না। ফলে মাল্টিল্যাঙ্গুয়াল রিলিজ পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

    এদিকে মুক্তি বাতিল হওয়ায় কর্ণাটকের ভিক্টরি সিনেমাসে ৯ জানুয়ারির সব প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে। হল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইনে কেনা টিকিটের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে এবং কাউন্টার থেকে কাটা টিকিটের অর্থ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফেরত পাওয়া যাবে।

    এইচ. বিনোথ পরিচালিত ‘জন নায়গন’ সিনেমায় থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল, মামিতা বাইজু, গৌতম বসুদেব মেনন, প্রিয়মণি ও নারায়ণ। এখন দর্শকদের একটাই প্রশ্ন—কবে বড় পর্দায় ফিরবে বিজয়ের শেষ অধ্যায়?

  • ভক্তদের উন্মাদনায় অস্বস্তিকর মুহূর্ত: চেন্নাই বিমানবন্দরে বিপাকে থালাপতি বিজয়

    ভক্তদের উন্মাদনায় অস্বস্তিকর মুহূর্ত: চেন্নাই বিমানবন্দরে বিপাকে থালাপতি বিজয়

    এবিএনএ: প্রিয় তারকাকে এক ঝলক দেখার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় আনন্দের বদলে বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি এমনই এক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে মালয়েশিয়া থেকে চেন্নাইয়ে ফেরেন এই সুপারস্টার। সেখানে তিনি তার আসন্ন সিনেমা ‘জন নায়াগান’-এর অডিও লঞ্চ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। বিজয়ের আগমনের খবর পেয়ে আগে থেকেই চেন্নাই বিমানবন্দরে ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য ভক্ত।

    টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে গাড়ির দিকে এগোতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভক্তদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন অভিনেতা। একপর্যায়ে উন্মত্ত ভিড়ে তার পোশাক ধরে টানাটানি শুরু হয় এবং ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় তার।

    দেহরক্ষীদের দ্রুত হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে গাড়িতে উঠতে সক্ষম হন বিজয়। তবে ঘটনাটি তারকা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

    শুধু বিজয়ই নন, সম্প্রতি অভিনেত্রী নিধি আগারওয়াল, হর্ষবর্ধন রানে এবং সামান্থা রুথ প্রভুর ক্ষেত্রেও ভক্তদের অতিরিক্ত উন্মাদনার কারণে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    উল্লেখ্য, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অভিনয় জীবনকে বিদায় জানিয়েছেন থালাপতি বিজয়। সে হিসেবে ‘জন নায়াগান’ হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের শেষ চলচ্চিত্র। এইচ বিনোথ পরিচালিত সিনেমাটি আগামী বছরের ৯ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ছবিতে বিজয়ের বিপরীতে অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে। এছাড়া আরও রয়েছেন ববি দেওল, শ্রুতি হাসান, প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামণি ও মমিতা বাইজু। কেভিএন প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমার বাজেট প্রায় ৩০০ কোটি রুপি।

  • মণিরত্নমের চোখে ঐশ্বরিয়া রায়: সৌন্দর্যের নয়, গভীরতার প্রতীক

    মণিরত্নমের চোখে ঐশ্বরিয়া রায়: সৌন্দর্যের নয়, গভীরতার প্রতীক

    এবিএনএ:  বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চনের অভিনয়জীবনের ২৮ বছর পূর্ণ হয়েছে গত বছর। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নন, অভিনয়ের গভীরতা ও শক্তিতেও অনন্য। এই প্রমাণের পেছনে অন্যতম হাত পরিচালক মণিরত্নমের, যিনি বারবার নতুন রূপে দর্শকের সামনে হাজির করেছেন ঐশ্বরিয়াকে।

    ১৯৯৭ সালে মণিরত্নমের ‘ইরুভার’ সিনেমার মাধ্যমেই বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে একদিকে ছিলেন বিনয়ী, নরম স্বভাবের গৃহবধূ; অন্যদিকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী এক অভিনেত্রী। দুটি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঐশ্বরিয়া ভেঙে ফেলেছিলেন কেবল গ্ল্যামারাস ইমেজের খোলস।

    পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ‘গুরু’ ছবিতে সুজাতা চরিত্রে তিনি হয়ে ওঠেন বাস্তব ও মানবিক এক নারী—যিনি স্বামীর স্বপ্নে পাশে থেকেও নিজেকে হারান না। গুরুকান্ত দেশাইয়ের জীবনে তিনি ছিলেন এক নিঃশব্দ শক্তি, যিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষার ভেতরেও মানবিকতার ভারসাম্য বজায় রাখেন।

    ২০১০ সালের ‘রাবণ’-এ ঐশ্বরিয়া হাজির হন একদম ভিন্ন রূপে। এখানে তিনি নৈতিক দ্বন্দ্বের এক প্রতীক, যেখানে পৌরাণিক কাহিনি মানবিক সীমানায় এসে দাঁড়ায়। মণিরত্নম সেই দ্বন্দ্বময় নারীত্বকেই ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঐশ্বরিয়ার চোখে-মুখে।

    অবশেষে আসে ‘পোন্নিয়িন সেলভান’। এই সিনেমায় ঐশ্বরিয়া যেন নিজের শিল্পযাত্রার পূর্ণতা পান। নন্দিনী চরিত্রে তিনি ছিলেন এক বুদ্ধিমত্তার প্রতীক—যিনি সৌন্দর্যকে ব্যবহার করেন কৌশল হিসেবে, অস্ত্র হিসেবে নয়। মণিরত্নমের দৃষ্টিতে এটি ছিল নারীর অন্তর্নিহিত শক্তি, প্রতিশোধ ও বুদ্ধির এক গভীর প্রতীকী প্রকাশ।

    ‘ইরুভার’-এর কোমল নারী থেকে শুরু করে ‘পোন্নিয়িন সেলভান’-এর দৃঢ় চরিত্র—এই পুরো যাত্রাপথে মণিরত্নমের চোখে ঐশ্বরিয়া হয়ে উঠেছেন এমন এক অভিনেত্রী, যিনি নিজেকে প্রতিটি চরিত্রে নতুনভাবে জন্ম দিয়েছেন।