Tag: ব্যাংক খাত

  • শেয়ারবাজারে ধসের ছোঁয়া! ১৬ খাতে দরপতন, তবুও বেড়েছে লেনদেন

    শেয়ারবাজারে ধসের ছোঁয়া! ১৬ খাতে দরপতন, তবুও বেড়েছে লেনদেন

    এবিএনএ: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) লেনদেনের শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক ধারা থাকলেও দিন শেষে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের মধ্যেই লেনদেন শেষ হয়।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ খাতেই মূল্যহ্রাস দেখা গেছে। মোট ২১টি খাতের মধ্যে ১৬টিতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে, যা বাজারে চাপের ইঙ্গিত দেয়।

    দিনের শুরুতে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় শেয়ারগুলোর দাম কমতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বাজারজুড়ে দরপতনের প্রবণতা স্থায়ী হয়।

    ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১১টির দাম বেড়েছে, ২৩১টির কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা, টেলিযোগাযোগ, ওষুধ ও রসায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বস্ত্র, খাদ্য, সিমেন্টসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, সীমিত কয়েকটি খাত—যেমন তথ্যপ্রযুক্তি, সেবা ও আবাসন, করপোরেট বন্ড, কাগজ ও মুদ্রণ এবং চামড়া খাতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

    এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৩১ পয়েন্টে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক কমেছে ৫ পয়েন্ট এবং ডিএস৩০ সূচক কমেছে ১৯ পয়েন্ট।

    তবে দরপতনের মধ্যেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা বেশি।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসসিএক্স সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ২০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২১ পয়েন্ট এবং সিএসই ৩০ সূচক কমেছে ২৬ পয়েন্ট। তবে শরিয়াহ সূচক সামান্য বেড়েছে।

    সিএসইতে মোট ২০৬টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৯৯টির কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের পরিমাণেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। দিনশেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় অনেক বেশি।

    সব মিলিয়ে, শেয়ারবাজারে সূচক ও দরের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে, যদিও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি বাজারে কিছুটা সক্রিয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।

  • রেমিট্যান্সে আর অপেক্ষা নয়: পাঠানোর দিনই টাকা জমার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

    রেমিট্যান্সে আর অপেক্ষা নয়: পাঠানোর দিনই টাকা জমার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

    এবিএনএ: বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দ্রুত গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ একই কর্মদিবসে অথবা সর্বোচ্চ পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকের হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে হবে।

    আন্তঃসীমান্ত অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা কমানো ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সার্কুলারে জানানো হয়, নির্দেশনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রাহককে অবহিত করবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে অর্থ এলে সেদিনই এবং ব্যাংকিং সময়ের পর এলে পরবর্তী কর্মদিবসে টাকা হিসাবে জমা দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (এসটিপি) ও ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে কিছু আনুষ্ঠানিক যাচাই বাকি থাকলেও গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা রাখা যাবে, যা পরবর্তীতে সম্পন্ন করা হবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে পোস্ট-ক্রেডিট যাচাই সম্ভব নয়, সেখানে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রেমিট্যান্স নিষ্পত্তি আরও গতিশীল করতে দিনের শেষে ‘নস্ট্রো’ হিসাবের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইন্ট্রাডে ক্রেডিট কনফারমেশন চালুর কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া ৬০ মিনিটের মধ্যে শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে গ্রাহকের হিসাবে জমা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ট্র্যাক করার জন্য ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স (ইউটিআর) ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা প্ল্যাটফর্ম উন্নত করে ফরম সি ও ফরম সি (আইসিটি) সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এতে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যদিও শুরুতে কিছু কার্যক্রমগত চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।