Tag: ব্যবসা-বাণিজ্য

  • মঙ্গলবার থেকে আমদানি-রফতানির সনদ কেবল অনলাইনে, এনবিআরের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা

    মঙ্গলবার থেকে আমদানি-রফতানির সনদ কেবল অনলাইনে, এনবিআরের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা

    এবিএনএ:  আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে আরও স্বচ্ছতা ও সময়-সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন এক নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ১ জুলাই মঙ্গলবার থেকে আমদানি-রফতানির সকল ছাড়পত্র ও অনুমতিপত্র শুধুমাত্র অনলাইনে ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ)’ প্ল্যাটফর্মে জমা দিতে হবে।

    সোমবার এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানিয়েছে, দেশের ১৯টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইস্যুকৃত যেকোনো সার্টিফিকেট, লাইসেন্স কিংবা পারমিট (সিএলপি) কাগজপত্র হিসেবে আর গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনে জমা না দিলে সেই আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

    এই পদক্ষেপের ফলে ম্যানুয়াল বা হাতে লেখা কাগজপত্রের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত অনুমোদন কার্যকর হবে না।

    বিএসডব্লিউ সিস্টেমের সুবিধাসমূহ:

    • একটি প্ল্যাটফর্মেই সব লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমতির আবেদন, প্রাপ্তি এবং যাচাইকরণ সম্ভব।

    • সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে।

    • সময় ও খরচ কমবে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থা তৈরি করবে।

    এনবিআরের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে এই সিস্টেমের মাধ্যমে ৩.৮৯ লাখ ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫.৯৭ শতাংশ সনদ এক ঘণ্টার মধ্যে এবং ৯৪.৬৩ শতাংশ একদিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইস্যু হয়।

    আগামী ১ জুলাই থেকে অন্তত ১৬টি সংস্থার ইস্যুকৃত ছাড়পত্র সিস্টেমে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনে হটলাইন ১৬১৩৯ অথবা www.bswnbr.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে সহায়তা নেওয়া যাবে।

    এনবিআর আশা করছে, এ পদক্ষেপ আমদানি-রফতানির প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও গতিশীল করবে, একইসাথে সরকারি সেবার মানও উন্নত হবে।

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হোন: কসোভোকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ আহ্বান

    বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হোন: কসোভোকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ আহ্বান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে কসোভোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একইসঙ্গে শিক্ষা ও মানবসম্পদ খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবনিযুক্ত কসোভো রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে কসোভোর বিনিয়োগ সম্ভাবনা বিশাল। তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া, পাটজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার অপার সুযোগ রয়েছে।”

    বৈঠকে ড. ইউনূস কসোভোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংখ্যা বাড়ানোর জন্য স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ চালুর প্রস্তাবও দেন। একইসঙ্গে কসোভোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বাড়াতে অনুরোধ জানান।

    ‘জুলাই বিদ্রোহ’-এর চেতনা স্মরণ করে ড. ইউনূস বলেন, “কসোভোর জনগণের স্বাধীনতা ও শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতি এক অনুকরণীয় উদাহরণ। আমরা কসোভোয় গিয়েছিলাম যখন সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল—সেখান থেকেই আমাদের সহযোগিতার শুরু।”

    রাষ্ট্রদূত প্লানা বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে কসোভোর স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। গ্রামীণ কসোভোর মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ড. ইউনূস। সেইসাথে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা আমাদের পাশে ছিলেন।”

    ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কসোভো বর্তমানে দেশটির অন্যতম বৃহৎ মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠান। এর কার্যক্রম ২০টি মিউনিসিপ্যালিটি ও ২১৯টি গ্রামে বিস্তৃত এবং ৯৭% ঋণগ্রহীতা নারী।

    বৈঠকে উভয়পক্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানায়। রাষ্ট্রদূত বলেন, “উভয় দেশের চেম্বার অব কমার্স ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা প্রয়োজন।”


    এই বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হলো এই আলোচনার মাধ্যমে।