Tag: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

  • যাত্রাবাড়ী হত্যা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি ৫ দিনের রিমান্ডে

    যাত্রাবাড়ী হত্যা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি ৫ দিনের রিমান্ডে

    এবিএনএ:  রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আসাদুল হক বাবু হত্যার ঘটনায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত।

    সোমবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুপুরে তৌহিদ আফ্রিদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ তার ৭ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত শেষ পর্যন্ত ৫ দিন মঞ্জুর করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেছিল।

    শুনানির সময় আদালতে আনা হলে আফ্রিদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো হয়। তবে আদালতের ভেতরে প্রবেশের আগে গরমের কারণে তা খুলে দেওয়া হয়।

    এর আগে গত রোববার রাতে সিআইডির একটি বিশেষ দল বরিশাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তারের পর এ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে যে, তৌহিদ আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউব ও ফেসবুকের মাধ্যমে সরকারের প্রচারণা চালিয়েছেন এবং ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ঢেকে রাখার চেষ্টা করেছেন। অপরদিকে আসামিপক্ষ দাবি করে, আফ্রিদিকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে, তিনি আন্দোলনরত ছাত্রদের পাশে ছিলেন।

    শুনানি চলাকালে আদালতকক্ষে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আফ্রিদির ফুফু নাজনীন আক্তার। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার আফ্রিদি কিছু করেনি, ও নির্দোষ।” এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মো. আসাদুল হক বাবু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই বছরের ৩০ আগস্ট নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। সেখানে নাসির উদ্দিনকে ২২ এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়।

  • “আমি রাজনীতি করি না, বুঝিও না”—আদালতে হাজির হয়ে বললেন অপু বিশ্বাস

    “আমি রাজনীতি করি না, বুঝিও না”—আদালতে হাজির হয়ে বললেন অপু বিশ্বাস

    এবিএনএ: রাজধানীর ভাটারা থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এনামুল হক নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস।

    আজ (১৩ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে আদালত ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

    আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অপু বিশ্বাস বলেন, “আমি রাজনীতি করি না, বুঝিও না। আমি একজন অভিনয়শিল্পী, অভিনয়ই আমার পেশা ও পরিচয়। আইনের বিষয়গুলো আমার আইনজীবীরা দেখছেন।”

    অপু বিশ্বাসের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল বাশার কামরুল জানান, এর আগে ২ জুন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন অপু। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আজ নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন জামিন চান এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।

    প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৯ জুলাই ভাটারা থানার সামনে আন্দোলনরতদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নেন।

    পরবর্তীতে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩০০–৪০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন।

    ওই মামলায় অপু বিশ্বাসসহ মোট ১৭ জন অভিনয়শিল্পীকে অভিযুক্ত করা হয়। তালিকায় রয়েছেন সুবর্ণা মোস্তফা, রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, শাওন, জ্যোতিকা জ্যোতি, জায়েদ খান, সাইমন সাদিক, আজিজুল হাকিম, তারিন, উর্মিলা শ্রাবন্তী করসহ অনেকে।

    অপু বিশ্বাসকে ২০৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এর আগে একই মামলায় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াকেও গত ১৮ মে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে দুইদিনের মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পান।

  • জুলাই বিপ্লব এখন কাদের দখলে? হতাশ সর্বস্তরের মানুষ

    জুলাই বিপ্লব এখন কাদের দখলে? হতাশ সর্বস্তরের মানুষ

    এবিএনএ:

    এক সময়ের অগ্নিগর্ভ আন্দোলন “জুলাই বিপ্লব” আজ যেন সীমিত হয়ে এসেছে গুটি কয়েক মুখের কৃতিত্বে। যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের মাধ্যমে, তা দ্রুত রূপ নেয় এক সর্বাত্মক স্বৈরাচারবিরোধী জনজাগরণে। এই আন্দোলনে ছাত্র, শিক্ষক, নারী, আইনজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সুশীল সমাজ—সকল স্তরের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

    তবে আজ, ১০ মাস পর দেখা যাচ্ছে, সেই বিপ্লবের সকল অংশীদার ক্রমেই উপেক্ষিত হয়ে পড়ছেন। আন্দোলনের মুখ্য কৃতিত্ব কিছু ছাত্রনেতা ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। এমনকি আন্দোলনে আঘাতপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আজ মূল্যহীন।

    বঞ্চনার চোরাবালিতে বিপ্লবের নায়করা

    সরকারের ছায়ায় গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন নিজেকে পুরো বিপ্লবের স্থপতি হিসেবে তুলে ধরছে। অথচ সত্য হলো—মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে ক্ষমতা বদল হয়নি; বরং তা এসেছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলস্বরূপ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রমাণ করছে—এটি সর্বজনীন নয়, বরং কেবল ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করছে।

    প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য, “ছাত্ররাই আমার নিয়োগকর্তা”—সরকারের কাজেও তার প্রতিফলন ঘটছে। এতে জনগণের মধ্যে আস্থা কমে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিপ্লব আজ নিজের লক্ষ্যচ্যুত।

    নারী, সংস্কৃতি কর্মী ও আইনজীবীদের হতাশা

    এই বিপ্লবের এক বড় চালিকাশক্তি ছিলেন নারীসমাজ। ঘরোয়া নারীরা পর্যন্ত রাজপথে এসে প্রতিবাদে অংশ নেন। কিন্তু এখন তারাই সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার। নারী নির্যাতন, হয়রানি, ধর্ষণ—সবই বেড়েছে।

    সংস্কৃতি কর্মীরাও হতাশ। আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, আজাদ আবুল কালাম, ইরেশ যাকেরসহ অনেকেই জুলাই আন্দোলনের সময় সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু এখন তাঁদের অনেকেই হয় মিথ্যা মামলার শিকার, নয়তো অপমানের মুখোমুখি। অনুষ্ঠান বাতিল, সামাজিক হামলা, এমনকি গ্রেপ্তারও ঘটেছে। তাঁদের কণ্ঠ যেন রুদ্ধ।

    আইনজীবীরাও বঞ্চিত। ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, জেড আই খান পান্নার মতো মানুষেরা মুখ খুলেছেন, যাঁরা কখনও আদালতের মাধ্যমে ছাত্রদের মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন। তাঁদের কারো কারো বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও দায়ের হয়েছে!

    শিক্ষক ও সুশীল সমাজও উপেক্ষিত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যে সাহস দেখিয়েছিলেন, তা ভুলে যাওয়া হয়েছে। ড. আনু মুহাম্মদ থেকে শুরু করে শিক্ষক নেটওয়ার্ক এখন খোলাখুলি বলছেন—বাংলাদেশ আবারও এক নতুন স্বৈরতন্ত্রের দিকে হাঁটছে।

    একজন শিক্ষককে উপাচার্য বানানো হলেও পরে তাঁকে সরানো হয়েছে। অন্যদিকে, এক বৃদ্ধা শিক্ষিকাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    সুশীল সমাজের মানুষ, যেমন ড. শাহদীন মালিক, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, নূরুল কবীর সবাই স্পষ্টত হতাশা প্রকাশ করছেন। তাঁরা বলছেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠীই এখন বিপ্লবের একচেটিয়া সুবিধাভোগী।

    জুলাই বিপ্লব আজ কার কাছে বন্দি?

    যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন—তাঁরা আজ নির্বাক। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। সমাজজুড়ে চলছে আতঙ্ক ও হতাশা। আন্দোলনে যাঁরা মূল চালিকাশক্তি ছিলেন, তাঁরা এখন বলছেন, “জুলাই বিপ্লব এখন মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর হাতে বন্দি।”

    যেখানে স্বপ্ন ছিল বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার, সেখানেই আজ দুর্বল গণতন্ত্র, বিভাজন ও স্বৈরতন্ত্রের ছায়া। জুলাই বিপ্লব কি সত্যিই সফল? নাকি, এটি একটি ব্যবহৃত ও বিস্মৃত অধ্যায় মাত্র?

  • বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামি ধরতে আর অনুমতির প্রয়োজন নেই: চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল

    বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামি ধরতে আর অনুমতির প্রয়োজন নেই: চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল

    এবিএনএ:  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আসামিদের গ্রেপ্তারে আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন নেই—এমন নির্দেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

    বুধবার (মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্বের রায়েই স্থির থাকেন। এর ফলে এই সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো বাড়তি প্রশাসনিক অনুমতির দরকার হবে না। একইসঙ্গে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৫ মে দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

    এর আগে এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক অফিস আদেশে জানিয়েছিল, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে করা মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা সাধারণত বেশি থাকে। তাই এমন মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে প্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এই আদেশে অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার নিষিদ্ধও করা হয়।

    তবে এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ২৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন একটি রিট দায়ের করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    জানা গেছে, আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া অনেক মামলায় অভিযোগপত্রে এমন অনেকের নাম রয়েছে যাদের সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ক্ষেত্রে বাদী নিজেই মামলার বিস্তারিত জানেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।

    এই পরিস্থিতিতে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার বন্ধের উদ্যোগ নেয়। তবে আদালতের রায়ে সেই নির্দেশনা কার্যকর থাকছে না, ফলে এখন বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামিদের সরাসরি গ্রেপ্তার করা যাবে।