এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ)। এ পরিস্থিতিতে ইইউর বিশেষ ব্যবস্থা ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা এসিআই সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন জোটটির একাধিক শীর্ষ নেতা। ইউরোপে এর আগে কখনও এই ব্যবস্থার ব্যবহার হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে সম্মতি না পেলে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডসহ কয়েকটি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের ওপর ধাপে ধাপে বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এসব দেশ বর্তমানে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্কের আওতায় রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর সামরিক মহড়ায় সীমিত পরিসরে সেনা মোতায়েনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার এই শুল্কহুমকির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরপরই ইইউর সভাপতি দেশ সাইপ্রাস রোববার ব্রাসেলসে রাষ্ট্রদূতদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি সমন্বিত ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করছেন এবং এসিআই কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি টেন্ডারে প্রবেশ সীমিত করা বা সেবা খাতে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
জার্মানির সংসদের বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বের্ন্ড লাঙ্গে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রি-নিউ ইউরোপ গোষ্ঠীর প্রধান ভ্যালেরি হায়ারও প্রকাশ্যে একই দাবি তুলেছেন। জার্মান প্রকৌশল শিল্প সংগঠনও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
তবে কয়েকজন ইইউ কূটনীতিক মনে করছেন, এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানো কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের শুল্কহুমকিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, ইতালি এখন পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডে কোনো সেনা পাঠায়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। তার ভাষায়, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ব্রিটেনের অবস্থান স্পষ্ট এবং অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা এড়ানোই সবার লক্ষ্য।
এই শুল্কহুমকির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইইউর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া কয়েকটি সীমিত বাণিজ্য চুক্তিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এরই মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভিন্ন বার্তা দিতে দক্ষিণ আমেরিকার মেরকোসুর জোটের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ইইউ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ইউরোপ শুল্ক নয়, ন্যায্য বাণিজ্য এবং বিচ্ছিন্নতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে বিশ্বাস করে।

