Tag: বৈশ্বিক অর্থনীতি

  • যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    এবিএনএ: ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে জানা গেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাত থামার আগেই পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় সক্রিয় হয়ে ওঠে ওয়াশিংটন।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হওয়ায় পুনর্গঠন প্রকল্পগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাজার তৈরি করতে পারে। শুধু জ্বালানি খাতের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর আওতায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র, বাহরাইনের বৃহৎ শিল্প স্থাপনা এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে।

    তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক দেশ মনে করছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় পুনর্গঠন নিয়ে বাণিজ্যিক চাপ দেওয়া সময়োপযোগী নয়। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে এগোনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ায় এখন নিরাপত্তা ইস্যুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডলার সহায়তা চেয়েছে বলেও জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন এই অর্থনৈতিক সহায়তাকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ডলার সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে পুনর্গঠন প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়ার শর্ত যুক্ত হতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • জাপানকে পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়ল ভারত, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে উত্থান

    জাপানকে পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়ল ভারত, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে উত্থান

    এবিএনএ: বৈশ্বিক অর্থনীতির শক্তির তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ভারত। ২০২৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। সরকারি পর্যালোচনায় জানানো হয়েছে, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার বর্তমানে প্রায় ৪ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির পরেই অবস্থান করছে।

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলে আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই জার্মানিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের অর্থনীতির আকার বেড়ে ৪ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে জাপানের সম্ভাব্য জিডিপি ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

    ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি। বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, শুল্ক চাপ ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতি দৃঢ়তা দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল জনসংখ্যা ও তরুণ কর্মশক্তি ভারতের বড় শক্তি হলেও মাথাপিছু আয় এখনো উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ছিল প্রায় ২ হাজার ৬৯৪ ডলার, যা জাপান ও জার্মানির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, মুডিস, ওইসিডি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছর ভারত ৬ থেকে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে।

    ভারতের সরকার জানিয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কাঠামোগত সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে দেশটি।

  • ব্রিকসে যোগ দিলে অতিরিক্ত ১০% শুল্ক: আমেরিকাবিরোধী নীতির অভিযোগে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ব্রিকসে যোগ দিলে অতিরিক্ত ১০% শুল্ক: আমেরিকাবিরোধী নীতির অভিযোগে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিকস জোটে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন—যে কোনো দেশ যদি ‘আমেরিকাবিরোধী’ নীতির অংশ হিসেবে ব্রিকসে যোগ দেয়, তাহলে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে।

    সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন,
    “যে কোনো দেশ ব্রিকসের আমেরিকাবিরোধী নীতিতে অংশ নেবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে চাইলে বাড়তি ১০% শুল্ক গুণতে হবে। কোনও ব্যতিক্রম থাকবে না।”

    যদিও ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্ট করে বলেননি, তিনি ব্রিকসের কোন নীতিকে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ বলে চিহ্নিত করছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি ব্রিকসের বিস্তৃতি ও মার্কিন ডলারের বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার কিংবা জ্বালানি বাণিজ্যে ডলার নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগই হয়তো ট্রাম্পের উদ্বেগের কারণ।

    ব্রিকস কী ও কেন বিতর্কে?

    ২০০৯ সালে গঠিত ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) সম্প্রতি আরও ছয়টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া। এই সম্প্রসারণকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বিকল্প জোট গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

    বিশেষ করে রাশিয়া-চীন নেতৃত্বাধীন এই জোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় মার্কিন আধিপত্য কমাতে কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়। ফলে ট্রাম্পের এই হুমকি মূলত ব্রিকসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধেই একটি কৌশলগত অবস্থান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

    ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো এবং সম্ভাব্য নতুন সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক কীভাবে বজায় রাখবে—তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আবার ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প যদি কঠোর বাণিজ্যনীতি কার্যকর করেন, তাহলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

    শেষ কথা:
    ব্রিকস জোটের সম্প্রসারণ ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—এই অবস্থানে ব্রিকসভুক্ত এবং সম্ভাব্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়।

  • চীন-যুক্তরাষ্ট্র নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে সই: থেমে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধ?

    চীন-যুক্তরাষ্ট্র নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে সই: থেমে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধ?

    এবিএনএ: বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর অবশেষে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় এক দশক ধরে চলা বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তির বিষয়ে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা চীনের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করেছি। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি করবে।”

    যদিও চুক্তির নির্দিষ্ট শর্তগুলো তখন প্রকাশ করা হয়নি, শুক্রবার চীন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু ‘নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা’ প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে, চীনও রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পর্যালোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে বাজারে ছাড় দেবে।

    মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানান, গত মে মাসে জেনেভায় হওয়া বাণিজ্য আলোচনায় এই চুক্তির ভিত্তি তৈরি হয়। চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে বিরল খনিজ সরবরাহে সম্মত হয়েছে। এই খনিজ উপাদানগুলো উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, যেমন—বায়ু টারবাইন, স্মার্টফোন এবং যুদ্ধবিমানে ব্যবহৃত হয়।

    লুটনিক বলেন, “চীন আমাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ রেয়ার মিনারেল সরবরাহ করবে, যা পাওয়ার পর আমরা চীনের ওপর আরোপিত পাল্টা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেব।”

    উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক চাপ বাড়ান। তিনি চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে মার্কিন বাজারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করেন। চীনও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণে পিছিয়ে থাকেনি। এতে দুই দেশের মধ্যে টানা বাণিজ্য যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অবশেষে, দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবারও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।