এবিএনএ: ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে জানা গেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাত থামার আগেই পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় সক্রিয় হয়ে ওঠে ওয়াশিংটন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হওয়ায় পুনর্গঠন প্রকল্পগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাজার তৈরি করতে পারে। শুধু জ্বালানি খাতের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর আওতায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র, বাহরাইনের বৃহৎ শিল্প স্থাপনা এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক দেশ মনে করছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় পুনর্গঠন নিয়ে বাণিজ্যিক চাপ দেওয়া সময়োপযোগী নয়। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে এগোনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ায় এখন নিরাপত্তা ইস্যুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডলার সহায়তা চেয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন এই অর্থনৈতিক সহায়তাকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ডলার সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে পুনর্গঠন প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়ার শর্ত যুক্ত হতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



