Tag: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

  • হামাস-ইসরায়েল চুক্তি: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

    হামাস-ইসরায়েল চুক্তি: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

    এবিএনএ: দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে পৌঁছেছে। তবে এই সমঝোতা শান্তির পথে এক নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেও ঝুঁকি ও সংশয় রয়ে গেছে নানা বিষয়ে। হামাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিন ভূমি না ছাড়লে তারা নিরস্ত্রীকরণে রাজি নয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হামাস এখন ইসরায়েলের কাছ থেকে সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায়। এই অবস্থায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

    প্রথম ধাপে ইসরায়েল কিছু সামরিক অভিযান স্থগিত করলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। আরব দেশগুলো বলছে, এই চুক্তি তখনই অর্থবহ হবে যখন এটি ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—“স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।”

    অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে তারা গাজার প্রশাসন আরব ও মুসলিম দেশসমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকারের কাছে হস্তান্তরে আগ্রহী, তবে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে কোনো বিদেশি তত্ত্বাবধান মানবে না।

    চুক্তির আলোচনায় বন্দি মুক্তিও বড় ইস্যু। হামাস চাইছে, যেসব শীর্ষ ফিলিস্তিনি নেতাকে আগের যুদ্ধবিরতিতে মুক্তি দেওয়া হয়নি—তাদের এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। তাদের তালিকায় ফাতাহ নেতা মারওয়ান আল-বারঘৌতি ও পিএফএলপি প্রধান আহমেদ সাদাতের নামও রয়েছে।

    তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—যুদ্ধ থামলেও গাজা কে শাসন করবে? যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আরব দেশগুলো হামাসের কোনো শাসন ভূমিকা রাখতে রাজি নয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গঠিত হতে যাওয়া নতুন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে হামাস কতটা গ্রহণ করবে, তা নিয়েও সন্দেহ থেকেই গেছে।

    ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, হামাস ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। অপরদিকে, ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দিতে পারে, যার মধ্যে অনেকেই যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।

    ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহও বাড়ানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন ৪০০–৬০০ ট্রাক খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে গাজায় প্রবেশ করবে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, এই চুক্তিই হতে পারে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

    তবে সবকিছুর পরও যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী এখনও কিছু এলাকায় সক্রিয়। গাজার মানুষ চুক্তি উদযাপন করলেও তাদের মনে ভয়—যদি আবারও যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, যেমনটি ঘটেছিল মার্চ মাসে।

  • গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮

    গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮

    এবিএনএ: গাজা সিটি আবারও পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েলি সেনারা সেখানে অবিরাম বোমা বর্ষণ চালায়। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু এই একদিনেই অন্তত ৬৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থল অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শহরজুড়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চলছে।

    বাসিন্দারা জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, ফলে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিশন অভিযোগ করেছে, গাজায় ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করছে। ৭২ পাতার আইনি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে কমিশন জানায়, এই অভিযানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব সরাসরি দায়ী।

    জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের (সিওআই) প্রধান নাভি পিল্লাই বলেন, “গাজায় যে হত্যাযজ্ঞ চলছে, তা গণহত্যার শামিল। এর পূর্ণ দায়ভার ইসরায়েল রাষ্ট্রের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পর এ যুদ্ধ শুরু হয়। ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১ হাজার ২১৯ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এর জবাবে ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, মৃতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

    গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।