Tag: বেইজিং

  • চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    এবিএনএ: চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও তার সফরসঙ্গীদের এক অস্বাভাবিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেইজিং ত্যাগের আগে চীনের দেওয়া সব উপহার, স্মারক এবং ব্যবহৃত অস্থায়ী ফোন ফেলে রেখে তবেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের সময় ব্যবহৃত তথাকথিত ‘বার্নার ফোন’ বা অস্থায়ী মোবাইল ডিভাইসও ধ্বংস করে ফেলা হয়। এমনকি চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া ব্যাজ, পরিচয়পত্র, সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র ও বিভিন্ন স্মারকও সঙ্গে নেয়া হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনার পেছনে রয়েছে নিরাপত্তা ও সাইবার নজরদারির আশঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে সফরের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে মার্কিন প্রশাসন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীন সফরে যাওয়ার আগেই ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রেই রেখে যান। সম্ভাব্য হ্যাকিং বা তথ্য চুরির ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

    সফরের সময় চীনা কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রতিনিধিদের জন্য অস্থায়ী ফোন সরবরাহ করেছিল, যাতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে সেই ডিভাইসগুলোও ধ্বংস করা হয়।

    বেইজিং বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিভিন্ন সামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলতে দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত এমন নিরাপত্তা প্রটোকল দীর্ঘদিন ধরেই অনুসরণ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, যদিও এবার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতির আশা করলেও বাস্তবে সীমিত কয়েকটি সমঝোতার বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো চুক্তি হয়নি। বিশেষ করে সয়াবিন আমদানি ও বোয়িং বিমান কেনা সংক্রান্ত আলোচনা ছাড়া বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে United StatesChina-এর সম্পর্ক বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই সফর এবং সফর শেষে নেয়া নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

  • শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    এবিএনএ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং সফরের প্রথম পূর্ণ দিবসে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, সারাদিন ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ বৈঠককে শুধু কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং এটিকে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ানকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে তাদের স্বাগত জানাতে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন।

    রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প মার্কিন ও চীনা জনগণের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে বহু বছরের বন্ধন ও সহযোগিতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম, উন্নয়ন এবং সফলতার মতো অনেক অভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে। তার ভাষায়, “দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্ব নতুন এক রূপ পেতে পারে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    উল্লেখ্য, গত নয় বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    এবিএনএ: মার্কিন রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য! এবার প্রকাশ্যে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গোপন অডিও, যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়া ও চীনকে সরাসরি বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।

    জানা গেছে, ট্রাম্প গত বছর তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এই কথাগুলো বলেছিলেন। সিএনএনের হাতে এসেছে সেই বৈঠকের রেকর্ড করা অডিও, যা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

    অডিওতে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি একবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে মস্কোয় বোমা ফেলা হবে। শুধু তাই নয়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও হুঁশিয়ারি দেন যে, তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ালে বেইজিংও সেই একই পরিণতির শিকার হবে।

    এদিকে, এই অডিও ফাঁসের পরই রাশিয়া ফের এক ভয়াবহ হামলা চালায় ইউক্রেনের ওপর। দেশটির বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনের আকাশে রেকর্ড সংখ্যক ৭২৮টি ড্রোন১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। যদিও কিয়েভ দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

    বর্তমানে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও রাশিয়া তা এখনো গ্রহণ করেনি।

    এদিকে, কিছুদিন আগে পেন্টাগনের ইউক্রেন সহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হলেও ট্রাম্প পুনরায় তা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে যাতে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

    এই অডিও ফাঁস এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এসব মন্তব্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায়ও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।