Tag: বিশ্বাসঘাতকতা

  • ‘প্রতারক পুরুষ’ নিয়ে ভাবনার খোলামেলা মন্তব্যে নতুন আলোচনার ঝড়

    ‘প্রতারক পুরুষ’ নিয়ে ভাবনার খোলামেলা মন্তব্যে নতুন আলোচনার ঝড়

    এবিএনএ: ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা—দুই জগতে সমান দক্ষতায় নিজের জায়গা করে নেওয়া অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা আবারও আলোচনায়। তবে এবার কোনো নাটক বা সিনেমা নয়, বরং সম্পর্কের প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে তার লেখা ফেসবুক পোস্টই নেটদুনিয়ায় তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

    বুধবার রাতে সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে ভাবনা লিখেছেন, প্রতারক পুরুষের আচরণ যতই লুকানো থাকুক না কেন, সত্য একসময় প্রকাশ পেতেই হয়। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছাপ অনেকেই খুঁজে পেয়েছেন।

    ভাবনা লিখেছেন, একজন প্রতারক পুরুষ বিশ্বাসঘাতকতা আড়াল করার চেষ্টা করলেও আল্লাহর ন্যায়বিচার শেষমেশ সত্যকে প্রকাশ্যে আনে। তার ভাষায়,
    “নারীকে রক্ষা করার জন্যই আল্লাহ প্রতারণার সত্য সামনে এনে দেন। পুরুষ যতই চালাক হোক, লুকানো কিছু কখনো চিরদিন আড়ালে থাকে না।”

    সম্পর্কে মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এবং কৃত্রিম স্বাভাবিক আচরণের মতো বিষয়ের প্রসঙ্গ টেনে ভাবনা আরও লেখেন,
    “নারীটির অনুপস্থিতিতে বলা প্রতিটি মিথ্যা, নীরবে ভাঙা প্রতিটি প্রতিশ্রুতি—সবই একসময় তার সামনে ফিরে আসে।”

    তার মতে, কেউ সাময়িকভাবে সত্য আড়াল করলেও শেষমেশ মুখোশ খোলাই পড়ে। তিনি বলেন,
    “আল্লাহ সত্য প্রকাশ করেন কাউকে ধ্বংস করার জন্য নয়; বরং যার প্রতি অবিচার হয়েছে তাকে রক্ষা করার জন্য।”

    পোস্টের শেষে নিজের অনুভূতি জানিয়ে ভাবনা লিখেন,
    “বিশ্বাসঘাতকতা গোপনে ঘটলেও সত্য প্রকাশই আসলে ঐশ্বরিক সুরক্ষা। তাই আমি আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারি—আলহামদুলিল্লাহ।”

    অভিনয়ে ভাবনা পথচলা শুরু করেন ২০১৫ সালে ‘নট আউট’ নাটকের মাধ্যমে। পরে ধারাবাহিকভাবে নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান। ২০১৭ সালের ‘ভয়ংকর সুন্দর’ চলচ্চিত্র দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেকের পর তিনি নিয়মিত সিনেমায়ও অভিনয় করে চলেছেন।

  • সংস্কার ছাড়া ভোট মানে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    সংস্কার ছাড়া ভোট মানে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    এবিএনএ:  নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে তা জনগণের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী ও পল্টনে পৃথক দুই সমাবেশ ও গণমিছিলে এই হুঁশিয়ারি দেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির দাবি

    ঢাকা মহানগর উত্তরের সমাবেশে ডা. তাহের বলেন, “গতানুগতিক পদ্ধতিতে আর কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের রক্তে রঞ্জিত জুলাই বিপ্লবকে যদি অগ্রাহ্য করে কোনো পক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে, তবে তা ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।”

    তিনি বলেন, দলটি সংসদ নির্বাচন পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে চায়, যাতে ভোট চুরি, কেন্দ্র দখল কিংবা অর্থের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন সম্ভব হয়। তার মতে, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল পিআর ব্যবস্থাতেই সম্ভব।

    বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কড়া সমালোচনা

    বিএনপির প্রস্তাবিত নির্বাচন পদ্ধতির বিরোধিতা করে ডা. তাহের বলেন, “যাদের জনগণের সমর্থন নেই, তারাই পিআর ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন। তারা মাস্তানি ও টাকার জোরে নির্বাচনে জিততে চায়।” তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি বা আপনার পরিবার আন্দোলনের অংশ ছিলেন না, তাই দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার মতো সংস্কার আনুন।”

    দক্ষিণে সমাবেশে পরওয়ারের বক্তব্য

    পল্টনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সমাবেশে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হোক কিংবা জুনে—প্রথমে দরকার সঠিক সংস্কার ও অতীত গণহত্যার বিচার।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “একটি দল নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক মনে করে সংস্কারকে নিজের মতো চালাতে চায়। তারা এখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাইছে।”

    পরওয়ার আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন, তেমনভাবেই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সম্ভব। তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।”

    মিছিল ও শেষ বক্তব্য

    উত্তরের গণমিছিল মহাখালী থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় মগবাজার চৌরাস্তায় এবং দক্ষিণের মিছিল পল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত যায়। দুই সমাবেশেই দলীয় নেতারা সরকারের প্রতি নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন—সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে না এবং জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।