Tag: বিশ্বরাজনীতি

  • মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: “সাহস আছে ভেবেছিলাম, ভুল প্রমাণিত হলাম”

    মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: “সাহস আছে ভেবেছিলাম, ভুল প্রমাণিত হলাম”

    এবিএনএ: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মেলোনির অবস্থান তাকে হতাশ করেছে এবং তিনি ভেবেছিলেন ইতালির এই নেত্রীর সাহসী অবস্থান থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তা দেখেননি।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির একটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মেলোনির কাছ থেকে ভিন্ন ধরনের দৃঢ়তা প্রত্যাশা করেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক অবস্থান দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

    ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। এ অবস্থানকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প তার সমালোচনা করেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ট্রাম্পের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

    এর আগে ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে পোপের অবস্থান দুর্বল। এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি। তিনি বলেন, ক্যাথলিক বিশ্বের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে এভাবে সমালোচনা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

    মেলোনির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প পাল্টা মন্তব্য করেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতালির অবস্থান তাকে হতাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হলেও ইরান প্রশ্নে অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই উত্তেজনাকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

  • সাত দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল-ইরানের অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত, কে কতটা টিকবে?

    সাত দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল-ইরানের অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত, কে কতটা টিকবে?

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা সাত দিন ধরে যুদ্ধ চলার ফলে দুই দেশের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে পড়েছে। সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে গাজা যুদ্ধ এবং নতুন সংঘর্ষে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক ক্ষতি কয়েকশ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির জন্য এক বিশাল বোঝা।

    গত শুক্রবার ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও পরমাণু বিশেষজ্ঞ নিহত হয়েছেন, পাশাপাশি কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। জবাবে ইরান ইসরায়েলের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    এই সহিংসতা শুধুমাত্র প্রাণহানির কারণ হচ্ছে না, উভয় দেশের অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দুই দেশের বাজেট ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক মন্দা গভীরতর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    ইসরায়েলের আর্থিক অবস্থা:
    গাজার সামরিক অভিযানের কারণে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলের মোট ব্যয় ২৫০ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৬৭.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে মাত্র দুই দিনে ৫.৫ বিলিয়ন শেকেল (১.৪৫ বিলিয়ন ডলার) খরচ হয়েছে। এই হারে চললে সামনের সাত সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় গাজা যুদ্ধের খরচ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেটও বাড়ছে; ২০২৩ সালে এটি ছিল ৬০ বিলিয়ন শেকেল, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ বিলিয়নে এবং ২০২৫ সালে ১১৮ বিলিয়ন শেকেলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    ইরানের অর্থনৈতিক চিত্র:
    ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী রবিবার পর্যন্ত দৈনিক তেল ও কনডেনসেট রপ্তানি নেমে আসবে মাত্র ১ লাখ ২ হাজার ব্যারেলে, যা এ বছরের গড়ের অর্ধেকেরও কম। তেলের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ থেকে ট্যাংকার বের হয়নি এবং দক্ষিণ পার্সের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার ফলে ৮০ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

    ২০১৮ সালের নিষেধাজ্ঞার পর ইরানের তেলের রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমেছে; ২০১৬ সালে যেখানে দৈনিক রপ্তানি ছিল ২.৮ মিলিয়ন ব্যারেল, তা ২০২২-২৩ সালে মাত্র ২ লাখ ব্যারেল এ নেমেছে। ফলে তেলের রাজস্ব প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ ও পানির ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব। সরকারি হিসেবেও মুদ্রাস্ফীতি ৪০ শতাংশ হলেও বিশেষজ্ঞরা এ হার ৫০ শতাংশের উপরে মনে করেন। বেকারত্ব সরকারি ৯.২ শতাংশ হলেও প্রকৃত হার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ইরানের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন।