Tag: বিরোধী দল

  • সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে ঋণ খেলাপি ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিএনপির কোনো নিজস্ব ব্যাংক নেই, তবে দেশের মানুষ ভালো করেই জানে কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলো রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়া বা ঋণ পুনঃতফসিল কোনো নতুন বিষয় নয়। এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ব্যবসায়িক ঝুঁকি, অর্থনৈতিক সংকট বা বৈশ্বিক দুর্যোগের সময় এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

    তিনি দাবি করেন, গত প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। তার ভাষায়, “অনেক ব্যবসায়ীকে অনুমোদিত ঋণ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে, এমনকি তাদের ব্যবসা পরিচালনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।”

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যাদের এখন ঋণ খেলাপি বলা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন বা কারাবন্দি ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করা সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ব্যাংকের মালিকানা প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেসব গোষ্ঠীর নিজস্ব ব্যাংক রয়েছে, তারা নিজেদের সুবিধামতো শীর্ষ পদে নিয়োগ দিতে পারেন। ফলে তাদের ঘনিষ্ঠদের ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এই সুবিধা বিএনপির নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

    ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অনেক সময় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি পেশাদার খাতের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

    রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে মন্তব্য

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, বরং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

    তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম-এর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, যারা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেই শপথ নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

    অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন বর্তমান বিরোধী দলের নেতারা সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এখন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বক্তব্যেও পরিবর্তন এসেছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “যদি কেউ সাংবিধানিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে তাকে অবশ্যই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে—এটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব।”

  • ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন গড়ে উঠছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।

    সরকারের নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কখনো গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়, আবার কখনো আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, সংসদে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে, তবে বিরোধীদল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রেখেছেন।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে যাওয়ার আগে থেকেই তাদের অবস্থান ছিল—কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা। বাধ্যতামূলক কিছু সুবিধা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকও যুক্ত ছিলেন, যারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নেন। এই আন্দোলনকে তিনি বৃহত্তর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

    তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে বলেন, সেই আন্দোলনের চেতনার বিপক্ষে কোনো অবস্থান টিকবে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

    সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি চলতে পারে না। সংসদে জনগণের স্বার্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের দাবি জানান তিনি।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এতে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা।

  • ‘এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ’— উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমপি হাসনাতকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

    ‘এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ’— উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমপি হাসনাতকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখালে চলবে না এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

    শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর বিরোধী দলের আপত্তি ও সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখনই স্পিকার মন্তব্য করেন, “দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে শুনতে হবে।”

    স্পিকার আরও বলেন, সংসদে মৌখিক বক্তব্যের সুযোগ সীমিত। সদস্যদের নোটিশের মাধ্যমে প্রস্তাব দিতে হবে এবং সেসব নোটিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং চাইলে সদস্যরা সংশোধনী প্রস্তাব আনতে পারেন।

    বর্তমান সংসদের পরিবেশ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, অতীতের তুলনায় এবারের সংসদে সহযোগিতামূলক পরিবেশ রয়েছে। ইতোমধ্যে বহু বিল পাসের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যা সংসদীয় ইতিহাসে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

    হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ তুলে ধরা উচিত। পরবর্তী অধিবেশনে সংশোধনী বিল আনার সুযোগ রয়েছে এবং সরকারপক্ষ তা বিবেচনা করতে পারে।

    স্পিকার আরও জানান, গণতন্ত্রে মতভিন্নতা স্বাভাবিক বিষয়। বিরোধী দলের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন বলেও আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • তীব্র আপত্তির মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাস, সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

    তীব্র আপত্তির মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাস, সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

    এবিএনএ: সংসদে তীব্র আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। বিলটি অনুমোদনের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান বিরোধী দল অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছে।

    শুক্রবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিলটি ভোটে পাস হওয়ার পর বিরোধী দল তাদের আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করে।

    পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগের ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার পরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একে একে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।

    বিরোধী দলের দাবি, বিলটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি এবং তাদের উত্থাপিত আপত্তিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সরকারপক্ষ বিলটি পাসের পক্ষে অবস্থান নেয়।

    ওয়াকআউটের ঘটনায় সংসদে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশন চালিয়ে যাওয়া হয়।

  • সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    এবিএনএ: সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এবার সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা Shafiqur Rahman জানিয়েছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    বুধবার সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ১১ দল একসঙ্গে বসে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এর আগে, সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে তারা ‘সংস্কার’ চেয়েছিলেন, যা গণভোটে জনগণের রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশ।

    তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও সেটি ছিল সংবিধান সংশোধনকেন্দ্রিক। বিরোধী দল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের দাবি হলো সংবিধানের মৌলিক সংস্কার।

    শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো কমিটি গঠন গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমান প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাবও তারা দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।

    এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ‘সংস্কার’-এর কথা বলেছিলেন, ‘সংশোধন’-এর নয়।

    স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। পরে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন, তবে স্পিকার জানান—প্রস্তাবটি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, গৃহীত হয়নি।

    এ ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তারা সংকটের সমাধান চেয়েছিলেন, কিন্তু জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। তার মতে, এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণের মতামতকে আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের গণভোটগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সবসময় জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

    শফিকুর রহমান জানান, সংসদে সমাধান না হওয়ায় এখন তারা জনগণের কাছেই ফিরে যাবেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দেশজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, তারা সংসদ ত্যাগ করেননি, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রয়েছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আন্দোলনই তাদের একমাত্র পথ বলে মনে করছেন তিনি।

  • সংসদে উত্তাপ: মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী দলকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    সংসদে উত্তাপ: মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী দলকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবটির প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed

    রোববার সংসদ অধিবেশনে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা Shafiqul Rahman যে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তা সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে দেওয়া হয়নি। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে নোটিশ দিতে হয়।

    মন্ত্রী আরও বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনতে হলে নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ জরুরি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রয়োজনে সংশোধিত নোটিশ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সংসদের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে আগের বিশৃঙ্খল পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে।

    মুলতবি প্রস্তাবের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব বিষয় আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, সেগুলো সাধারণ মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনা করা যায় না। এ ধরনের বিষয়ে আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

    পরিস্থিতি সমাধানে একটি সমঝোতার প্রস্তাবও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে সরকার ও বিরোধী দলসহ সব পক্ষকে নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

    তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংবিধান প্রণয়নের জন্য সবার মতামত জরুরি। তাই সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

  • দলীয় পরিচয়ে নিপীড়ন চলবে না—কঠোর বার্তা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

    দলীয় পরিচয়ে নিপীড়ন চলবে না—কঠোর বার্তা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

    এবিএনএ: দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি বা নিপীড়ন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না—এমন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের যে কোনো নাগরিক অবিচারের শিকার হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতিম শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেখানে তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিরোধীদল মিলেই নাগরিকদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা উচিত।

    এতিমদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সমাজের অবহেলিত এই শিশুদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা দিলে তারা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাদের ভেতর থেকে মেধা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের চার সাংবাদিকের চাকরি হারানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দ্রুত পুনর্বহাল করা উচিত। অন্যথায় তা একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রত্যাশা। ইফতার মাহফিলটি পরিণত হয় সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক সংহতির বার্তাবাহক এক আয়োজনে।

  • ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান জানিয়ে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের পথ দীর্ঘ; এই পথে মানুষের আস্থা অর্জন, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠিত প্রস্তুতিই হবে বিরোধী রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দলটি সামগ্রিক ফলাফল স্বীকার করছে এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। তিনি আরও বলেন, একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে জামায়াতের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

    নির্বাচনী সময়ে মাঠে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নানা চাপ ও হয়রানির মধ্যেও যারা ভোটাধিকার প্রয়োগে এগিয়ে এসেছেন, তাদের সাহসিকতা গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত দিয়েছে। ফলাফলে হতাশ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি; সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী ব্লক হিসেবে দলটির অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

    তিনি অতীতের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের উদাহরণ টেনে বলেন, রাজনীতিতে পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ। তাই বিরোধী দলে থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রেখে নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চাপ অব্যাহত থাকবে। দলটি নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখতে চায়।

    নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, সদ্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করা জাতির জন্য প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বলেন তিনি। ঘটনার ছবি, ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া এবং গণমাধ্যমে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার নির্দেশনাও দেন।

    আসন্ন সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমিরের বার্তা—জনগণের ম্যান্ডেট কোনো ছাড়পত্র নয়; এটি শর্তযুক্ত দায়িত্ব। সবার জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা। শান্তিপূর্ণ রাজনীতির অঙ্গীকারে দলটি অবিচল থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।