Tag: বিমান বিধ্বস্ত

  • মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় হতাহত ও নিখোঁজদের নাম প্রকাশের দাবি, সময়সীমা দুই দিন

    মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় হতাহত ও নিখোঁজদের নাম প্রকাশের দাবি, সময়সীমা দুই দিন

    এবিএনএ: জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহত ও নিখোঁজদের তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দিনের মধ্যে সরকারিভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নিহত, আহত ও নিখোঁজদের নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, আহতদের সুচিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে বিমান প্রশিক্ষণের আয়োজন থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

    ফোরাম মনে করে, দুর্ঘটনা হঠাৎ করেই ঘটে, কিন্তু প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। শিশুদের জন্য স্কুল একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল, কিন্তু সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা সে বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় শুধু শিশুরা নয়, পুরো জাতি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে হতাহত ও নিখোঁজদের সংখ্যা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না, যা উদ্বেগজনক। প্রতিটি শিশুর পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি ভবিষ্যৎ, একটি জাতির স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া রোধে সরকারকে শিশুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

    ১. সরকারি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুই দিনের মধ্যে তালিকা প্রকাশ
    ২. আহতদের নির্ভুল সংখ্যা ও পরিচয় প্রকাশ
    ৩. নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান
    ৪. শিশুদের দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
    ৫. জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা
    ৬. স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
    ৭. শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ

    সংগঠনটি সরকারকে শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার পর বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা, কিন্তু খোঁজ নেয়নি সরকার

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার পর বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা, কিন্তু খোঁজ নেয়নি সরকার

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও, অধিকাংশ হাসপাতাল জানিয়েছে—এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেয়নি।

    দুর্ঘটনার পর মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে উত্তরা অঞ্চলের চারটি বেসরকারি হাসপাতালে ১৫০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ বলছেন—সরকারি নির্দেশনার আগে থেকেই তারা বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।

    উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বজলুর রহমান আদিল বলেন, “বার্ন রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু—স্যালাইন, ড্রেসিং সেট, ক্রিম—আমরা বিনামূল্যে দিয়েছি। পরে সরকারের নির্দেশনা দেখেছি, কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি।”

    তিনি আরও বলেন, “সরকারের উপস্থিতি থাকলে দুর্ঘটনার সময় আরও ভালো সমন্বয় হতো। যদিও অনেক বেসরকারি সংস্থা সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।”

    বুধবার সরেজমিনে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ, লুবানা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা ক্রিসেন্ট ও শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখা যায়—বিমান দুর্ঘটনার রোগীদের বেশিরভাগই চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।

    হাসপাতালগুলোর চিত্র:

    • উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ:
      ১০০ জন চিকিৎসা নেন, গুরুতর আহত ৪০ জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়, রাতেই অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

    • লুবানা জেনারেল হাসপাতাল:
      ২৭ জন এসেছিলেন, ১৪ জনকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে, একজনের মৃত্যু হয়।

    • উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল:
      দগ্ধ ১২ শিক্ষার্থী এসেছিল, ৫ জন পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    • শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ:
      ১৩ জন এসেছিলেন, ভর্তি ছিলেন ৫ জন। একজন বাসচালক আইসিইউতে ছিলেন, পরে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্যে:
    মাইলস্টোন স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমান জানান, “চিকিৎসার জন্য কোনো টাকা লাগেনি, কিন্তু এখনো কেউ খোঁজ নেয়নি।”

    লুবানা হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা মিরাজুন নাবী বলেন, “তিন দিনেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের কেউ যোগাযোগ করেনি।”

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান:
    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “দুর্ঘটনার দিনই সব হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ পাঠানো হয়।” তবে কেন পরে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩১, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬৫

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩১, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬৫

    এবিএনএ:  ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১ জন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ১৬৫ জন।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার শিকার আহত ব্যক্তিদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালভেদে নিহত ও আহতদের অবস্থা নিচে তুলে ধরা হলো—

    • কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল: ৮ জন আহত, কোনো মৃত্যুর খবর নেই।

    • শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট: ৪৬ জন আহত, ১০ জন মারা গেছেন।

    • ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ৩ জন আহত, ১ জন নিহত।

    • সিএমএইচ, ঢাকা: ২৮ জন আহত, ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    • লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার: ১৩ জন আহত, ২ জন নিহত।

    • উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল: ৬০ জন আহত, ১ জন নিহত।

    • উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল: ১ জন আহত, কোনো মৃত্যু নেই।

    • শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১ জন আহত, মৃত্যু হয়নি।

    • ইউনাইটেড হাসপাতাল: ২ জন আহত, ১ জন নিহত।

    • কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল: ৩ জন আহত, কোনো মৃত্যুর খবর নেই।

    মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং আরও তথ্য পেলে হালনাগাদ জানানো হবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: পাশে থাকার অঙ্গীকার

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: পাশে থাকার অঙ্গীকার

    এবিএনএ:  ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং ১৬৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক শোকবার্তায় জানান, ঢাকায় যে বেদনাদায়ক বিমান দুর্ঘটনায় বহু তরুণ শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (পূর্বে টুইটার) -এ তিনি লিখেছেন, “এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশবাসীর প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ভারত বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সবধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

    ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও একই বার্তার সত্যতা নিশ্চিত করে একটি ফেসবুক পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে।

    এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় বলা হয়, “মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা জাতীয়ভাবে এক গভীর শোকের মুহূর্ত। এতে বিমানসেনা ও শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অনেকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।”

    প্রধান উপদেষ্টা আহতদের সুস্থতা কামনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেশের প্রতিটি স্তরকে নাড়া দিয়েছে। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন মহল।

    এখন সকলের একটাই প্রত্যাশা—এই ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়।

  • উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় শোকাহত হানিফ সংকেত, রক্তদানের আহ্বান জানালেন

    উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় শোকাহত হানিফ সংকেত, রক্তদানের আহ্বান জানালেন

    এবিএনএ:  রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গোটা দেশ শোকে স্তব্ধ। সোমবার রাত পর্যন্ত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু এবং ১৫০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে আইএসপিআর ও ফায়ার সার্ভিস।

    এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরপরই দেশের বরেণ্য উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেত সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন শোক বার্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন,

    “আমি বাকরুদ্ধ, ভীষণভাবে শোকাহত। এতগুলো শিশুর প্রাণহানি মেনে নেওয়া কষ্টকর। আল্লাহ যেন নিহতদের পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেন।”

    তিনি আরও বলেন,

    “আহত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসুক, এই দোয়া করছি। সবাইকে অনুরোধ করছি—রক্তদানে এগিয়ে আসুন এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে অযথা ভিড় না করে সেবাদানে সহায়তা করুন।”

    এই দুর্ঘটনায় শোক জানিয়েছেন আরও অনেক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকা। ফেসবুকে শোক প্রকাশ করেন শাকিব খান, ডিপজল, জয়া আহসান, অপু বিশ্বাস, মেহজাবীন, সিয়াম আহমেদ, ইমন, তাসনিয়া ফারিণ, আসিফ আকবর, ইমরান মাহমুদুল, কোনাল, কনা, পড়শীসহ অনেকেই।

    দেশজুড়ে চলমান শোকাবহ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকেও আহ্বান জানানো হচ্ছে দায়িত্বশীল আচরণের জন্য, বিশেষ করে হাসপাতালে রক্তদানে ও সাহায্যে অংশ নিতে।

  • আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ২৪২ জনের কেউ বাঁচেনি, কাঁপছে ভারত

    আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ২৪২ জনের কেউ বাঁচেনি, কাঁপছে ভারত

    এবিএনএ:

    ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ঘটে গেল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে বিজে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের ওপর। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু—সকলেই প্রাণ হারিয়েছেন।

    দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকেও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত ২০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই আগুনে পুড়ে অচেনা হয়ে গেছে।

    এই উড়োজাহাজটি লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ফ্লাইটে ছিলেন ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, ১১ জন শিশু ও ২ নবজাতকসহ মোট ২৪২ জন। তাদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ ও ১ জন কানাডীয় নাগরিক ছিলেন।

    আহমেদাবাদের মেঘানি অঞ্চলে অবস্থিত চিকিৎসকদের হোস্টেলের ডাইনিং হলে দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে বিধ্বস্ত হয় ফ্লাইটটি। ওই সময় মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যানটিনে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রাণ হারান, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

    চোখে জল এনে দেওয়া দৃশ্যে হোস্টেলের ছাদে আটকে পড়ে বিমানের পেছনের অংশ, আর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে দগ্ধ দেহাবশেষ ও বিমানের বিভিন্ন টুকরো। দুর্ঘটনার তোলা ছবিতে দেখা যায়, ক্যানটিনের টেবিলজুড়ে খাবারের থালা-গ্লাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।

    এ ঘটনাটি ২০১৩ সালে প্রথম উড়ানভর্তি এই ড্রিমলাইনারের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০১৪ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার বহরে যুক্ত হওয়া এই উড়োজাহাজের এমন পরিণতি অনেকের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত।

    এদিকে দুর্ঘটনার প্রভাবে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। মার্কিন শেয়ারবাজারের প্রাক-মার্কেট লেনদেনে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম এক দিনে ৮ শতাংশ কমে ১৯৬.৭৫ ডলারে নেমে আসে।

    এর ফলে বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার সিরিজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এর আগে ড্রিমলাইনার সিরিজে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কোনো রেকর্ড ছিল না, তবে এর ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজ অতীতেই বেশ কিছু মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

    এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই তৈরি করেছে গভীর শোক ও উদ্বেগ। তদন্ত শুরু হয়েছে, আর গোটা দেশ এখন অপেক্ষা করছে এর প্রকৃত কারণ জানার জন্য।