Tag: বিনিয়োগ

  • সংসদে একদিনেই ১৩ বিল পাস, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন—অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    সংসদে একদিনেই ১৩ বিল পাস, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন—অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশের ভিত্তিতে প্রস্তুত ১৩টি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের বিল অনুমোদনের মাধ্যমে আইনগত কাঠামোয় নতুন পরিবর্তনের পথ খুলেছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে আলোচনা শেষে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

    সকালের অধিবেশনে যেসব বিল পাস হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

    বিকেলের অধিবেশনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’, ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা রহিতকরণ আইন, ২০২৬’, ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬’ এবং ‘পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলী) আইন, ২০২৬’।

    একই দিনে দ্বিতীয় দফায় আরও চারটি বিল অনুমোদন পায়। এগুলো হলো ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

    সংসদে একদিনে এতগুলো বিল পাস হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব আইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো, বিনিয়োগ পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • পুঁজিবাজারে বড় ধস: একদিনেই ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট পতন, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

    পুঁজিবাজারে বড় ধস: একদিনেই ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট পতন, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

    এবিএনএ: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) লেনদেন শেষে দেখা গেছে, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক লাফে ১০৭ পয়েন্ট কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনের শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১১২ পয়েন্টে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক কমেছে ১৮ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক হ্রাস পেয়েছে ৩৫ পয়েন্ট।

    লেনদেনের দিক থেকেও ঢাকার বাজারে কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫১২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৬২৫ কোটির বেশি।

    বাজারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার দর নিম্নমুখী ছিল। মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২৫টির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ৩৫৪টির দাম কমেছে এবং অল্প কিছু অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেশ কয়েকটি পরিচিত কোম্পানি, যার মধ্যে রয়েছে ওষুধ, বীমা, স্টিল ও খাদ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকও নিম্নমুখী ছিল। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে। তবে লেনদেনের পরিমাণ সেখানে বেড়েছে, যা বাজারে কিছুটা ভিন্ন প্রবণতা নির্দেশ করছে।

    সিএসইতে এদিন ৪৩ কোটির বেশি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তবে এখানেও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে আস্থার ঘাটতি, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই এই পতন দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে, সপ্তাহের শুরুতেই এমন বড় পতন পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

  • শেয়ারবাজারে ধসের ছোঁয়া! ১৬ খাতে দরপতন, তবুও বেড়েছে লেনদেন

    শেয়ারবাজারে ধসের ছোঁয়া! ১৬ খাতে দরপতন, তবুও বেড়েছে লেনদেন

    এবিএনএ: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) লেনদেনের শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক ধারা থাকলেও দিন শেষে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের মধ্যেই লেনদেন শেষ হয়।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ খাতেই মূল্যহ্রাস দেখা গেছে। মোট ২১টি খাতের মধ্যে ১৬টিতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে, যা বাজারে চাপের ইঙ্গিত দেয়।

    দিনের শুরুতে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় শেয়ারগুলোর দাম কমতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বাজারজুড়ে দরপতনের প্রবণতা স্থায়ী হয়।

    ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১১টির দাম বেড়েছে, ২৩১টির কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা, টেলিযোগাযোগ, ওষুধ ও রসায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বস্ত্র, খাদ্য, সিমেন্টসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, সীমিত কয়েকটি খাত—যেমন তথ্যপ্রযুক্তি, সেবা ও আবাসন, করপোরেট বন্ড, কাগজ ও মুদ্রণ এবং চামড়া খাতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

    এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৩১ পয়েন্টে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক কমেছে ৫ পয়েন্ট এবং ডিএস৩০ সূচক কমেছে ১৯ পয়েন্ট।

    তবে দরপতনের মধ্যেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা বেশি।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসসিএক্স সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ২০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২১ পয়েন্ট এবং সিএসই ৩০ সূচক কমেছে ২৬ পয়েন্ট। তবে শরিয়াহ সূচক সামান্য বেড়েছে।

    সিএসইতে মোট ২০৬টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৯৯টির কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের পরিমাণেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। দিনশেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় অনেক বেশি।

    সব মিলিয়ে, শেয়ারবাজারে সূচক ও দরের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে, যদিও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি বাজারে কিছুটা সক্রিয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।

  • কর্মসংস্থান সংকট মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করছে: ড. হোসেন জিল্লুরের সতর্কবার্তা

    কর্মসংস্থান সংকট মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করছে: ড. হোসেন জিল্লুরের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ খরা ও মানসম্মত শিক্ষার অভাব এ পরিস্থিতিকে মহামারীর মতো ছড়িয়ে দিয়েছে।

    শনিবার আয়োজিত এক অনলাইন সংলাপে তিনি বলেন, শিক্ষা ও শিখন উভয় ক্ষেত্রেই দেশ পিছিয়ে পড়েছে, ফলে তরুণরা চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না।

    পিপিআরসির গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ। কভিড-১৯, রাজনৈতিক স্থবিরতা, মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ দারিদ্র্য বৃদ্ধির মূল কারণ। প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৫১ শতাংশ পরিবারে অন্তত একজন দীর্ঘস্থায়ী রোগী রয়েছেন, ৪০ শতাংশ মানুষ ক্রমাগত ঋণের বোঝা বইছেন।

    গবেষণায় আরও বলা হয়, ১২ শতাংশ দরিদ্র পরিবার খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, ৩৬ শতাংশ মানুষ এখনো স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে পারছে না। কর্মসংস্থান বিবেচনায় ৩৮ শতাংশ মানুষ বেকার এবং ৪৫ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত।

    অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, দারিদ্র্যের হার সবসময়ই বেশি ছিল, কিন্তু কোনো সরকারই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনই অন্তত ১৮-২৪ মাসের একটি শক্তিশালী কর্মসূচি নিতে হবে।

    সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি তথাকথিত ‘চাকরিহীন প্রবৃদ্ধি’। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশে আটকে আছে, বৈদেশিক বিনিয়োগ জিডিপির ১ শতাংশেরও নিচে। এ হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি অসম্ভব।

    এছাড়া ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন সতর্ক করেন, নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বিশেষত শহরাঞ্চলে কমছে, যা শ্রমবাজারের জন্য উদ্বেগজনক।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

    সংলাপে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিয়ে কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা বাড়ল

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা বাড়ল

    এবিএনএ:  বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী। মঙ্গলবার এক লাফে তা পৌঁছেছে গত দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রভাব স্বর্ণবাজারে দেখা দেয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং মার্কিন সম্পদের প্রতি আস্থা নড়বড়ে করেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৭৮.৬৪ ডলারে। এর আগের সেশনে দাম পৌঁছায় ৩ হাজার ৩৮৬.২৭ ডলারে, যা ১১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের দামও ০.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪২৬ ডলারে।

    সোমবার ট্রাম্প বন্ধকি ঋণ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে নজিরবিহীনভাবে কুককে বরখাস্ত করেন। এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

    সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো ডি কাসা বলেন, “অনেকে মনে করছেন ট্রাম্পের পদক্ষেপ ফেডারেল রিজার্ভের মধ্যে সুদের হার কমানোর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। এতে ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং বাজার অনিশ্চয়তায় পড়ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ কিনতে ঝুঁকছেন।”

    সাধারণত সুদের হার কমে গেলে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্বর্ণের মতো নন-ইয়েল্ডিং সম্পদের দাম বাড়তে থাকে।

    এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্ট জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা স্বর্ণের মজুত সোমবার ০.১৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫৮.৪৯ মেট্রিক টনে, যা শুক্রবার ছিল ৯৫৬.৭৭ টন।

    এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল শুক্রবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আগামী মাসে সুদের হার কমানো হতে পারে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি এখনও একটি বড় হুমকি।

    কার্লো আলবার্তো ডি কাসার মতে, বাজার এখন ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদ কমার আশা করছে। তবে আরও বড় ধরনের সুদ হ্রাসের সম্ভাবনা কম থাকলেও, যদি ঘটে, তাহলে স্বর্ণবাজারের জন্য তা আরও সহায়ক হবে।

  • অর্থনীতির সামনে অশনি সংকেত: মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিপদে বাংলাদেশ

    অর্থনীতির সামনে অশনি সংকেত: মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিপদে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস এবং অভ্যন্তরীণ নানাবিধ সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগামী ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)-এর ৩০তম বার্ষিক কাউন্সিলে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা

    আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মারাত্মক ধাক্কার মুখে দাঁড়িয়ে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩.৩ শতাংশ। আইএমএফ ও এডিবির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৩.৮ ও ৩.৯ শতাংশ।”

    তিনি আরও জানান, বর্তমানে খাদ্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগ স্থবির, রাজনীতির অস্থিরতা ও অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৩.৪৫ ট্রিলিয়ন টাকা ছাড়িয়েছে, যার বড় অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে।

    ব্যাংক খাতে সংকট ও সংস্কার উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯টি ব্যাংক জানায় তাদের মূলধন ঘাটতি ১.৭১ ট্রিলিয়ন টাকা। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ব্যাংক বোর্ড বাতিল, একীভূতকরণসহ নানা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

    এলডিসি থেকে উত্তরণ: শুল্ক ও রপ্তানি ঝুঁকি

    ২০২৬ সালে এলডিসি স্ট্যাটাস হারালে তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে পারে বাংলাদেশ। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে তখন ১১.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতে পারে, যা রপ্তানিতে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    বৈশ্বিক অস্থিরতা ও কৌশলগত প্রস্তুতির আহ্বান

    কাউন্সিলে জানানো হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ, রেড সি সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনরাগমন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করছে। বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত প্রস্তুতি এখন জরুরি।

    প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশসমূহ:

    • জ্বালানি নিরাপত্তা: টাকার অবমূল্যায়ন ও আমদানিনির্ভরতার ফলে ব্যয় বেড়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং নিজস্ব উৎসে অনুসন্ধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    • রাজস্ব ঘাটতি: জিডিপির তুলনায় কর আদায় এখনো ১০ শতাংশের নিচে। এনবিআর পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

    • জলবায়ু ও খাদ্য নিরাপত্তা: পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে প্রবৃদ্ধি বছরে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

    • বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৈচিত্র্য: ২০২৩ সালে এফডিআই মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ভিয়েতনামে তা ছিল ৩৯ বিলিয়ন। কৃষিপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইটি খাতে জোর দেওয়ার সুপারিশ এসেছে।

    • সাইবার নিরাপত্তা: ডিজিটাল সেবার প্রসারে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত জাতীয় সাইবার আইন ও কাঠামো প্রয়োজন।

    • যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫% শুল্ক প্রস্তাব: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ও কর্মসংস্থান বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    বিবিআইএন করিডরের সম্ভাবনা

    ভুটান-ভারত-নেপাল-বাংলাদেশ সংযুক্ত হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের সম্মিলিত জিডিপি ৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বাংলাদেশ কৌশলগত ট্রানজিট হাবে পরিণত হতে পারে।