এবিএনএ: পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় অবৈধভাবে বসবাস ও কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মোট ২৩১ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উগান্ডার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার ও মঙ্গলবার পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসব বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে দেশটির উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত কিছু নাইজেরীয় নাগরিককে লক্ষ্য করে অভিযান শুরু হলেও পরে রাজধানী কাম্পালার একটি এলাকায় তা বিস্তৃত করা হয়। সেখান থেকেই অধিকাংশ আটক হন।
আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও ঘানা, মিয়ানমার, ইথিওপিয়া, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেকেই বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে অবস্থান করছিলেন। এমনকি কয়েকজনের কাছে পাসপোর্টও পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিদের একটি অংশ চাকরির প্রলোভনে মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, কিছু ব্যক্তি সাইবার জালিয়াতি কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারেন বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযানের সময় কিছু সন্দেহজনক সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।
উগান্ডার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইমন পিটার মুন্ডেয়ি জানান, আটক ব্যক্তিদের তিনটি ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে—পাচারের সম্ভাব্য শিকার, অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও অবৈধভাবে অবস্থানকারী। তাদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তিনি আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা পাচারের শিকার বা শুধুমাত্র ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় ছিলেন, তাদের নিজ দেশে ফেরার জন্য সহায়তা করা হবে।
উল্লেখ্য, উগান্ডা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের শরণার্থী ও বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত নীতির কারণে পরিচিত। প্রতিবেশী দেশ কঙ্গো, বুরুন্ডি ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা বহু মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য অনেক দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসা সহজলভ্য বা অব্যাহতি রয়েছে।
