Tag: বিজয়া দশমী

  • “দেখা যাক কী হয়!” — পূজা চেরির বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন অবশেষে

    “দেখা যাক কী হয়!” — পূজা চেরির বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন অবশেষে

    এবিএনএ:  শারদীয় দুর্গাপূজার রঙিন আবহে ভক্তদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে অংশ নিয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরি। সিঁদুর খেলায় অংশ নেওয়ার সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি—যেখানে উঠে আসে তার মাকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা এবং বিয়ে প্রসঙ্গেও কিছু খোলামেলা মন্তব্য।

    গতকাল বিজয়া দশমীতে রাজধানীর একটি পূজামণ্ডপে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পূজা। জানতে চাওয়া হয়, দেবী দুর্গার কাছে কী প্রার্থনা করেছেন তিনি?

    পূজা জানান, “আমার মা—যিনি এখন আর এই পৃথিবীতে নেই, তার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি। চাই, তিনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন। আমরা সব সময় নিজেদের জন্য চাই, কিন্তু মা কেমন আছেন, সেটা ভাবি না। আজ তাকে বলেছি—‘তুমি যেন ভালো থাকো।’”

    ➤ বিয়ে প্রসঙ্গে কী বললেন পূজা চেরি?

    দর্শক-অনুরাগীদের কাছে বহুদিন ধরেই আলোচনার বিষয় পূজার বিয়ে। এবার সেই প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

    “একজন আমাকে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন বললেন, ‘প্রার্থনা করি যেন পরের পূজায় স্বামীসহ আসতে পারো।’ কথাটা শুনে একটু হাসলাম… তারপর ভাবলাম—দেখা যাক কী হয়! চিন্তার বিষয় চিন্তা করে দেখা যাবে,” বলেন পূজা চেরি।

    শিশুশিল্পী থেকে শুরু করে বর্তমানে নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা পূজা এখন তরুণ প্রজন্মের পছন্দের অভিনেত্রীদের একজন।

    ➤ পূজায় তারকাদের উপস্থিতি

    ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এবার দেখা গেছে অনেক তারকা মুখ। পূজা চেরি ছাড়াও ছিলেন অন্যান্য জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা, যারা পূজোর আনন্দে ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটান।

  • অশ্রুসিক্ত বিদায়ে প্রতিমা বিসর্জন, সমাপ্ত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

    অশ্রুসিক্ত বিদায়ে প্রতিমা বিসর্জন, সমাপ্ত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

    এবিএনএ: টানা পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে অশ্রুসিক্ত বিদায়ে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেলে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা আনা হয় নদীর তীরে, পরে নৌকাযোগে নদীর মাঝখানে নিয়ে বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়।

    শোভাযাত্রায় ছিল ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার তালে ভক্তদের আবেগঘন পরিবেশ। কারও চোখ ভিজেছে অশ্রুতে, কেউ দেবীর বন্দনায় মগ্ন ছিলেন। আবার কেউ নদীর জল ছিটিয়ে নিয়েছেন নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনায়।

    পুরান ঢাকার নবনীতা বর্মণ জানান, “এই কয়েকটা দিন যেন স্বপ্নের মতো কেটেছে। মা দুর্গা ছিলেন আমাদের মাঝে, কিন্তু আজ তার বিদায়ে মনটা ভরে উঠছে কষ্টে।”

    ধানমন্ডি পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “মা দুর্গা এসেছিলেন অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য। আমরা প্রার্থনা করেছি যেন আগামীতে দেশ শান্তি ও সৌহার্দ্যে ভরে ওঠে।”

    দশমীর সকালে নারীরা দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করেন ও একে অপরের গায়ে সিঁদুর মেখে জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    বিসর্জন ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় ২,৪০০ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার, সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিম, নৌপুলিশ, ডুবুরি দল, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সেনা সদস্যরা টহলে ছিলেন।

    সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে দেবী দুর্গা কন্যারূপে পিতৃগৃহে আসেন এবং পক্ষকাল পর ফিরে যান কৈলাসে। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিলেও ভক্তদের অন্তরে রয়ে যায় আগামী বছরে তার পুনরাগমনের প্রতীক্ষা।

  • শারদীয় দুর্গোৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

    শারদীয় দুর্গোৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

    এবিএনএ: শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় রাষ্ট্রপতি অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন। তিনি বলেন, দুর্গোৎসব জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অংশ, যা সবাইকে আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মন্ত্রী পরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. নাসিমুল গনিসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    রাষ্ট্রপতির এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা রাষ্ট্রপতির আন্তরিকতা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: শারদীয় বাণীতে তারেক রহমান

    রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: শারদীয় বাণীতে তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব—এ কথা উল্লেখ করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    তারেক রহমান বলেন, “শারদীয় উৎসবকে ঘিরে যেন কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে, এটিই আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সৌন্দর্য।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, উৎসব আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির প্রতীক। রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাই নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

    বিএনপি নেতা বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিক অন্য নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যারা প্রতিহিংসা ও উৎপীড়নের মাধ্যমে সমাজকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ন্যায্য।”

    হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় সারাদেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করুন। আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকারও সবার।”

    অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক পৃথক বাণীতে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও ধর্মীয় স্থাপনায় আক্রমণ সংগঠিত হয়েছে। তবে বর্তমানে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, বিএনপি এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • সারাদেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা

    সারাদেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা

    এবিএনএ: এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপ ও মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছরের তুলনায় এ বছর মণ্ডপ-মন্দির বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি। শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

    সভায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। তিনি জানান, শুধু ঢাকা মহানগরীতেই ২৫৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার বোধনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, আর বিজয়া দশমীর দিন বিকেল ৩টায় দেশব্যাপী শোভাযাত্রা বের করা হবে।

    এবার দেবীর আগমন গজে এবং গমন দোলায় হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করে আয়োজকেরা নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস পেয়েছেন।

    তবে প্রস্তুতির মাঝেই কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রামসহ ১৩ জেলায় মন্দির ও প্রতিমায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সভায় জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে বহু দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

    জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, “পাঁচ দিনের পূজার নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ৩৬৫ দিনই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

    সভায় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আট দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন, অর্পিত সম্পত্তি আইন বাস্তবায়ন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন।

    এছাড়া দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ২২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো ও আতশবাজি ব্যবহার নিষিদ্ধ, ধর্মীয় সংগীত ছাড়া অন্য গান না বাজানো এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

    সভায় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও উপদেষ্টা সুব্রত চৌধুরীও বক্তব্য দেন।