Tag: বিএনপি সংঘর্ষ

  • গাজীপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: আহত ১০, নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

    গাজীপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: আহত ১০, নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

    এবিএনএ:  রোববার (৭ ডিসেম্বর) গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের রাখালিয়াচালা এলাকায় গাজীপুর-১ আসনের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী ক্যাম্প ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

    জানা যায়, মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইসরাক সিদ্দিকীর সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির সময় হঠাৎ করে অপর গ্রুপের সদস্যরা হামলা চালায়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের কারণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    ইসরাক সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, গাজীপুর-১ আসনের মনোনয়ন বিতর্কে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমানের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয় বলে তিনি জানান।

    অপরদিকে মজিবুর রহমান দাবি করেন, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। সংঘর্ষে তারও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

    কালিয়াকৈর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া শুনানিতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ক্ষুব্ধ রুমিন ফারহানা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া শুনানিতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ক্ষুব্ধ রুমিন ফারহানা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের শুনানিতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। হাতাহাতি ও হট্টগোলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের।

    আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। শুনানি শেষে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেটা ১৫ বছরে হয়নি সেটা আজ হলো। যে দলের জন্য লড়াই করলাম, তারাই আমাকে ধাক্কা দিল। নির্বাচন কমিশনের মতো গুরত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক।”

    শুনানিতে রুমিন ফারহানা নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেও, বিএনপির অপর গ্রুপের নেতারা খসড়ার বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করার বিরোধিতা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চরমে পৌঁছে যায় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    এ সময় এনসিপির কয়েকজন কর্মীও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। আহতদের মধ্যে ছিলেন প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী, মুস্তফা সুমন ও আতাউল্লাহ। তাদের দাবি, “আমরা দাবি জানাতে ইসিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু রুমিন ফারহানার লোকজন আমাদের আক্রমণ করেছে।”

    এ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, “ওরা আসলেই এনসিপি কর্মী ছিল, নাকি অন্য কেউ— সেটা আমাদের জানা নেই।”

    শুনানির ভেতরের উত্তেজনার পাশাপাশি বাইরে নির্বাচন ভবনের সামনেও হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ জলকামান প্রস্তুত রাখে।

    নির্বাচন কমিশনের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনার কারণে আগামী নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

  • পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ: বহিষ্কৃত ১০ নেতা, হাসপাতালে এক শীর্ষ নেতা

    পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ: বহিষ্কৃত ১০ নেতা, হাসপাতালে এক শীর্ষ নেতা

    এবিএনএ:  পাবনার সুজানগরে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় দলীয় সদস্য সচিব গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি একযোগে ১০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের এ তথ্য জানানো হয়। সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

    বহিষ্কৃতদের মধ্যে আছেন—সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ, ছাত্রদল নেতা শেখ কাউছার, যুবদল নেতা মনজেদ শেখ, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খা, সাবেক নেতা কামাল শেখ, যুবদল সদস্য মানিক খা, কলেজ শাখা সভাপতি শাকিল খা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি রুহুল খা, কর্মী লেবু খা এবং যুবদল কর্মী হালিম শেখ।

    ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধ থেকে। পরে বুধবার রজনী ঘোষ সিনেমা হলের সামনে দুই পক্ষ ফের মুখোমুখি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

    এসময় সদস্য সচিব আব্দুর রউফ শেখ উভয় পক্ষকে থামাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে আরও কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকলেও তারা বিএনপি বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতায় দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় কেন্দ্র।

    স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলীয় শৃঙ্খলা ও জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে।