Tag: বিএনপি নেতা

  • মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে চলছে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা

    মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে চলছে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক Mirza Abbas গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মস্তিষ্কে প্রথম দফার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর শারীরিক জটিলতার কারণে দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে তার মস্তিষ্কে প্রথম অপারেশন শুরু হয় এবং সন্ধ্যা প্রায় সোয়া ৬টার দিকে সেটি শেষ হয়। পরে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবারও দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, অপারেশন তখনও চলছিল।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অবস্থার উন্নতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে পরিবার। এজন্য বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ইফতারের সময় পানি পান করার মুহূর্তে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। এরপর দ্রুত তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ওই রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    এছাড়া বিএনপির মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir এবং Shafiqur Rahmanসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।

    মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

    স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

    এবিএনএ: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড বাজার কমিটির অফিসে ডেকে নিয়ে রুপশ্রী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী অপু কর্মকার (৫২) নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও বাজার কমিটির সহ-সম্পাদক মামুন শেখের বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, ভুক্তভোগী অপু কর্মকারের স্বর্ণের দোকানে বাজার কমিটির সিল সম্বলিত তালাও লাগিয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত ওই নেতা। এ বিষয়ে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

    অভিযোগকারী অপু কর্মকার জানান, সাইনবোর্ড বাজারে প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করছেন। বাজারে তার মালিকানাধীন আরও তিনটি দোকান ভাড়া দেওয়া আছে। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে থেকেই মামুন শেখ ওই ভাড়াটিয়াদের কাছে ভাড়া চাইতে শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একবার মীমাংসা হলেও, সম্প্রতি মামুন আবারও নতুন করে ভাড়া দাবি করেন।

    ঘটনার বিবরণ দিয়ে অপু কর্মকার বলেন, “ভাড়া দিতে নিষেধ করায় মামুন লোক পাঠিয়ে আমাকে বাজার কমিটির অফিসে ডেকে নেয়। ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেনের কাছে কেন নালিশ করেছি—এই অজুহাতে আমাকে মারপিট শুরু করে। মামুন মারতে মারতে আমাকে নিয়ে দোকানের সামনে আসে এবং দোকানে ঢুকেও আমাকে আবার মারে। শেষে আমার দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়।”

    “আমার স্বামী একজন নিরীহ ব্যবসায়ী। গায়ের জোরে তার দোকান থেকে ভাড়া তুলে নিতে চায়। ভাড়া দিতে নিষেধ করায় তাকে মারধর করেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”— অর্পিতা কর্মকার, ভুক্তভোগীর স্ত্রী

    তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা ও বাজার কমিটির সহ-সম্পাদক মামুন শেখ। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, অপু কর্মকারের ছোট ভাই সঞ্জয় স্বর্ণকার স্ত্রীকে ফেলে পালিয়ে গেছেন। সঞ্জয়ের স্ত্রী বাজার কমিটিতে অভিযোগ দিলে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বিষয়টি দেখভাল করছিলেন।

    মামুন শেখ বলেন, “দোকানের ডিড বা মালিকানা দলিল সঞ্জয়ের নামে। তাই আমি রায় দিয়েছি যে সঞ্জয়ের অবর্তমানে ভাড়ার টাকা তার স্ত্রী পাবেন। এটা বলার পরেই অপু কর্মকার আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাকে মারপিট করা হয়নি, কথা বলার সময় হয়তো দু-একটি ধাক্কা লেগেছে।”

    ***

    এদিকে অভিযুক্ত নিজ দলের নেতা হলেও তার কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাজার কমিটির সভাপতি ও রাড়িপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার রেজাউল হোসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মামুন শেখ একজন ব্যবসায়ীকে এভাবে মারধর ও দোকানে তালা দিতে পারে না। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার। এ বিষয়ে আমরা জরুরি সভা আহ্বান করেছি এবং সেখানে আলোচনা সাপেক্ষে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

    এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান জানান, স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    প্রেক্ষাপট

    ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠছে। দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ১১ মাসে সারা দেশে প্রায় ৫,০০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বাগেরহাটের এই ঘটনাটিও দলের ভাবমূর্তির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • মোংলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৪

    মোংলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৪

    এবিএনএ,মোংলা : বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় একটি বড় মৎস্য ঘের দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সুন্দরবন ইউনিয়নের আগা মাদুরপাল্টা এলাকার কবিরাজ বাড়ির দিঘির পাড় সংলগ্ন ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘের মালিকসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা মো. আনসার সরদার তার পৈতৃক জমি এবং ইজারা নেওয়া প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার প্রভাবশালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম মৃধার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল রাতের আঁধারে ঘেরটি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে হামলা চালায়।

    এ সময় ঘেরের পাহারাদারদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করা হয় এবং ঘেরের ঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। বাধা দিতে গেলে আনসার সরদার, আবু মুছা সরদার, মামুন সরদারসহ চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ঘের মালিক আনসার সরদার জানান, “আমরা বৈধভাবে জমি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছি। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল জোর করে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাইছে। বাধা দেওয়ায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”

    এ ঘটনায় আনসার সরদারের ভাতিজা মো. আকরাম সরদার বাদী হয়ে ফারুকুল ইসলাম মৃধা, তরিকুল ইসলাম মৃধা, জালাল মৃধা ও হানিফ হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    তবে অভিযুক্ত নেতারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন।

    মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    ঘটনার পর থেকে সুন্দরবন ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • পিরোজপুরে জিআর চাল আত্মসাৎ: ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    পিরোজপুরে জিআর চাল আত্মসাৎ: ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    এবিএনএ:  পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নে সরকারি জরুরি ত্রাণ (জিআর) চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার এবং ইউনিয়ন সচিব মো. জিয়াউল হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুজন মিলে ভূয়া মাস্টাররোল তৈরি করে ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত দুই টন চাল বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন।

    এলাকাবাসী গত ৩০ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে এই অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি, গত জুন মাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য এই চাল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত উপকারভোগীরা সেই ত্রাণ পাননি। বরং চেয়ারম্যান ও সচিব চাল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরে গোপনে ভূয়া মাস্টাররোল তৈরি করে তা উপজেলা প্রশাসনে জমা দেন।

    এ বিষয়ে ইউপি সচিব জিয়াউল হাসান স্বীকার করেছেন যে মাস্টাররোল উপজেলা প্রশাসনে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, “নিয়ম অনুসারে চাল বিতরণের পরই মাস্টাররোল জমা দেওয়া হয়েছে।”

    অন্যদিকে, চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

    এলাকাবাসী পুরো ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানিয়েছেন।