Tag: বাফুফে

  • বয়স জালিয়াতির অভিযোগে বড় শাস্তি: চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে রেঞ্জার্সকে ০-৩ গোলে হার ঘোষণা, জরিমানা

    বয়স জালিয়াতির অভিযোগে বড় শাস্তি: চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে রেঞ্জার্সকে ০-৩ গোলে হার ঘোষণা, জরিমানা

    এবিএনএ: বাংলাদেশের ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বয়স জালিয়াতির অভিযোগ। এই ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জার্স ক্লাবকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি ০-৩ গোলে হার হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    শনিবার অনুষ্ঠিত ডিসিপ্লিনারি কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে লিগের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলে ১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সসীমার তিনজন ফুটবলার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে শুরুর একাদশে রাখতে হয়।

    চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে ঢাকা রেঞ্জার্স যে খেলোয়াড়কে এই কোটায় মাঠে নামায়, তার বয়স নির্ধারিত সীমার বাইরে বলে অভিযোগ তোলে প্রতিপক্ষ দল। ম্যাচ শেষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেশনের কাছে আপিল করে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তা ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে পাঠানো হয়।

    লিগের বাইলজ অনুযায়ী ৩১ মে ২০০৭ থেকে ১ ডিসেম্বর ২০০৯ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়কে এই কোটায় খেলাতে হয়। কিন্তু ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ম্যাচে রেঞ্জার্স যে ফুটবলারকে খেলিয়েছে, তার প্রকৃত বয়স এই সীমার মধ্যে ছিল না। ফলে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে শাস্তির মুখে পড়ে ক্লাবটি।

    ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে ম্যাচের আগে নিবন্ধন করানো হলেও তখন বিষয়টি ধরা পড়েনি। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা এবং যাচাই ব্যবস্থায় ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এসেছে।

    এই সিদ্ধান্তের ফলে চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাবকে ৩-০ ব্যবধানে জয় দেওয়া হয়েছে এবং ঢাকা রেঞ্জার্সকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি পয়েন্ট হারানোর শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নতুন করে শৃঙ্খলা ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদারের দাবি উঠেছে।

  • শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা, ভারতের বিপক্ষে ৮ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ

    শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা, ভারতের বিপক্ষে ৮ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ

    এবিএনএ: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল টানটান উত্তেজনা। একবার বাংলাদেশ এগিয়ে যায়, পরক্ষণেই সমতায় ফেরে ভারত—আবার ভারত লিড নিলে পাল্টা আঘাতে ম্যাচে ফেরে লাল-সবুজরা। গোলের পর গোল, পাল্টা আক্রমণে ভরা সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত থামে ৪-৪ সমতায়।

    ব্যাংককের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সাফ ফুটসালের রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ড্র করে বাংলাদেশ। ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে গোল করেন মোহাম্মদ মঈন আহমেদ ও অধিনায়ক রাহবার ওয়াহিদ খান।

    ম্যাচের নবম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। রাহবারের বাড়ানো বল ডান প্রান্ত থেকে কোনাকুনি শটে জালে পাঠান মঈন। তবে দুই মিনিটের মধ্যেই আনমোল অধিকারীর গোলে সমতায় ফেরে ভারত।

    প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও লিড নেয় বাংলাদেশ। রাহবারের নিখুঁত শটে এগিয়ে গেলেও বিরতির আগে দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন আবার সমান হয়ে যায়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণ বাড়িয়ে লিড নেয় ভারত। ২৭তম মিনিটে রোলুয়াপুইয়ার গোলে এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু তিন মিনিটের ব্যবধানে দুর্দান্ত শটে আবারও ম্যাচে ফেরান মঈন আহমেদ।

    ৩৬তম মিনিটে গোলরক্ষক পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে পড়ায় বাংলাদেশের রক্ষণে ফাঁক তৈরি হলে ফের লিড নেয় ভারত। তবে সে আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। পরের মিনিটেই বল দখলে নিয়ে অধিনায়ক রাহবার ওয়াহিদ খান নিখুঁত শটে ৪-৪ সমতায় ফেরান বাংলাদেশকে।

    শেষ তিন মিনিটে জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় দুই দলই। বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে বল জালে পাঠালেও তার আগেই রেফারির শেষ বাঁশি বেজে ওঠে। ফলে উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে এক পয়েন্ট করে ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুদল।

    এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ১৬ জানুয়ারি মালদ্বীপের বিপক্ষে। সাত দলের এই রাউন্ড রবিন লিগে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দলই চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জিতবে।

  • বাংলাদেশে আসছেন এএফসি সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম, নভেম্বর সফরে চারদিন থাকবেন ঢাকায়

    বাংলাদেশে আসছেন এএফসি সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম, নভেম্বর সফরে চারদিন থাকবেন ঢাকায়

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রেক্ষাপটে দেশে আসছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। আগামী ২৩ নভেম্বর ঢাকায় এসে তিনি অবস্থান করবেন ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত।

    গত জুন-জুলাইয়ে জাতীয় নারী দল এবং চলতি মাসে লাওসে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল এশিয়ান কাপে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই অর্জনকে দেশের ফুটবলের জন্য এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। তিনি বলেন, “আজ চূড়ান্ত হয়েছে যে, এএফসি সভাপতি নভেম্বরে চারদিনের সফরে ঢাকায় আসবেন। বিষয়টি সদ্য নিশ্চিত হয়েছে, তাই এখনো সফরের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়নি।”

    সালমান বিন ইব্রাহিমের এই সফর বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, এ সফর এশিয়ান ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

  • তৃষ্ণার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, গোলবন্যায় ভেসে গেল তিমুর—৮-০ গোলের বিশাল জয় বাংলাদেশের

    তৃষ্ণার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, গোলবন্যায় ভেসে গেল তিমুর—৮-০ গোলের বিশাল জয় বাংলাদেশের

    এবিএনএ:  এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের বাছাই পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেই পূর্ব তিমুরকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে বাটলারের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে তারা প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে ৮ বার। হ্যাটট্রিক করেছেন তৃষ্ণা রানী, অলিম্পিক গোল করেন শান্তি মার্ডি।

    লাওসের ভিয়েনতিয়েনে ‘নিও লাওস স্টেডিয়াম’-এ শুরু থেকেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে নামে বাংলাদেশ। ২০ মিনিটে কর্নার থেকে সিনহা জাহান শিখার হেডে আসে প্রথম গোল। ৩২ মিনিটে শান্তি মার্ডি কর্নার থেকে সরাসরি গোল করে দর্শকদের চমকে দেন—এটাই তার অলিম্পিক গোল।

    এরপর ৩৬ মিনিটে শান্তির আরেকটি কর্নার থেকে গোল করেন নবিরন খাতুন। প্রথমার্ধের শেষ সময়ে তৃষ্ণা রানীর নিখুঁত শটে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। বিরতির পরও একই ছন্দে খেলে বাংলাদেশ।

    ৫৭ মিনিটে তৃষ্ণা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর সাগরিকা ৭৩ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় জালে বল পাঠান। ৮৩ মিনিটে সাগরিকার পাস থেকেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তৃষ্ণা রানী। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে স্কোর ৮-০ করেন মুনকি আক্তার।

    ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ১০৪ নম্বরে, আর তিমুর লেস্তে ১৫৮ তম। দুই দলের পারফরম্যান্সেও সেই ব্যবধান স্পষ্ট। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে সাগরিকা করেছিলেন দুই গোল, মুনকি আক্তার করেছিলেন একটি।

    দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। ১০ আগস্ট বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। সেই ম্যাচই নির্ধারণ করবে গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন কে হবে।

    বাছাইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দল এবং সেরা তিনটি রানার্স-আপ জায়গা করে নেবে মূল পর্বে।

  • বৃষ্টিভেজা দুই মাঠে ৫ ঘণ্টার নাটকীয় লড়াইয়ে বড় জয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের

    বৃষ্টিভেজা দুই মাঠে ৫ ঘণ্টার নাটকীয় লড়াইয়ে বড় জয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের

    এবিএনএ: বৃষ্টি যেন থামাতে পারেনি লাল-সবুজের মেয়েদের জয়ের ধারা। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলে সোমবার ভুটানের বিপক্ষে নাটকীয় এক ম্যাচে ৪-১ গোলে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল। রোমাঞ্চ, বাধা আর সাফল্যে ভরা এই ম্যাচটি খেলতে হয়েছে দুই ভিন্ন মাঠে, সময় লেগেছে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা।

    বিকেল ৩টায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুরু হওয়া ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে প্রথমার্ধের পর স্থগিত হয়ে যায়। পরে মাঠ পরিবর্তন করে নেওয়া হয় কাছাকাছি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে, যেখানে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা চালিয়ে শেষ হয় রাত পৌনে ৮টার দিকে।

    প্রথমার্ধে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের সূচনা করেন শান্তি মার্ডি। তৃঞ্চা রানীর শট থেকে ফিরতি বলে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি, বল পাঠান জালে।

    দ্বিতীয়ার্ধে ৫৩ মিনিটে ভুটান সমতা আনলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেটাই যেন তাদের জাগিয়ে তোলে। ৫৭ মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে আবারও জালে বল জড়ান শান্তি। এরপর ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মুনকি আক্তার একক চেষ্টায় চোখ ধাঁধানো গোল করেন। আর ৭৯ মিনিটে শান্তি মার্ডি পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

    টানা তিন জয়ে এখন রাউন্ড রবিন ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের শীর্ষে রয়েছে সুরমা জান্নাতের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। শ্রীলঙ্কা ও নেপালকে পরাজয়ের পর ভুটানও রেহাই পেল না লাল-সবুজদের আক্রমণ থেকে।

    বাফুফে জানিয়েছে, বৃষ্টিতে বারবার খেলা বন্ধ হলেও মাঠে মেয়েরা দেখিয়েছে অসাধারণ মনোবল ও সামর্থ্য। বাংলাদেশের ফুটবলে এটি একটি সাহসী ও অনুপ্রেরণামূলক জয়।

  • ঐতিহাসিক সাফল্যেও পুরস্কার বঞ্চিত নারী ফুটবলাররা: ভারতের মতো কি উদ্যোগ নেবে বাফুফে?

    ঐতিহাসিক সাফল্যেও পুরস্কার বঞ্চিত নারী ফুটবলাররা: ভারতের মতো কি উদ্যোগ নেবে বাফুফে?

    এবিএনএ: বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল লিখে ফেলেছে ইতিহাস—প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ান কাপ ফুটবলের মূল পর্বে। সাফ চ্যাম্পিয়নদের এই কৃতিত্বে পুরো দেশ যখন গর্বিত, তখনও ফুটে উঠেছে একটি বড় প্রশ্ন—এই সাফল্যের বাস্তব স্বীকৃতি কোথায়?

    রিতুপর্ণা, রুপনা, শামসুন্নাহারদের নিয়ে মধ্যরাতে বর্ণাঢ্য আয়োজন হয়েছিল রাজধানীর হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে। ছিল উজ্জ্বল আলোকসজ্জা, ডিজিটাল ব্যানার, বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শন এবং অসংখ্য দর্শকের করতালি। কিন্তু সেই সংবর্ধনা মঞ্চে ছিল না কোনো আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা, এমনকি প্রতীকী চেকও নয়।

    এই প্রেক্ষাপটে পাশের দেশ ভারতের উদাহরণ যেন আরও বেদনাদায়ক। ভারতের নারী দলও এশিয়ান কাপের মূল পর্বে উঠেছে, এবং অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) তাদেরকে দিয়েছে ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার—বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬১ লাখ টাকারও বেশি। ভারতীয় খেলোয়াড়রা দেশে ফিরে পেয়েছেন আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি সাদর সংবর্ধনা।

    অন্যদিকে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সংবর্ধনায় বক্তব্য দিলেও, কোনো পুরস্কার বা সম্মানীর প্রতিশ্রুতি দেননি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাফুফে ১.৫ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখনো সেই অর্থ খেলোয়াড়দের হাতে পৌঁছায়নি।

    বলা চলে, বেশিরভাগ নারী ফুটবলার এখনো ক্লাবচুক্তিবিহীন, আয়-রোজগারের নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। মাত্র কয়েকজন খেলোয়াড় পান ৫৫ হাজার টাকার মাসিক সম্মানী। দেশের হয়ে এশিয়ান মঞ্চে জায়গা করে দেওয়া এই মেয়েদের নেই কোনো ঘরোয়া লিগ, নেই স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা। প্রশ্ন উঠছে—ফুল, ব্যানার আর করতালির বাইরে তাদের স্বীকৃতি কোথায়?

    সমালোচকদের মতে, শুধুমাত্র বাহবা দিয়ে এই কৃতিত্বের মর্যাদা দেওয়া যায় না। প্রয়োজন বাস্তব পুরস্কার, সম্মানী ও ভবিষ্যতের স্থায়ী সাপোর্ট। ভারতের মতো দৃঢ় উদ্যোগ কি এবার নেবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন? নাকি এই সাফল্যও চাপা পড়ে যাবে চোখধাঁধানো আয়োজনের নিচে?

  • বিশ্বকাপের স্বপ্নে বিভোর আফিদা, ইতিহাস গড়া নারী দলকে চাই বিশ্বমঞ্চে

    বিশ্বকাপের স্বপ্নে বিভোর আফিদা, ইতিহাস গড়া নারী দলকে চাই বিশ্বমঞ্চে

    এবিএনএ: বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন—এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। মিয়ানমারকে পরাজিত করে কোয়ালিফাই করেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো দল।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের পরও সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি ম্যাচ—শনিবার (৫ জুলাই) তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে। যদিও এটি শুধুই নিয়মরক্ষার ম্যাচ, তবু দলের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই।

    দলের অধিনায়ক আফিদা খন্দকার জানালেন, এশিয়া কাপের টিকিট পাওয়া কেবল শুরু—তাঁর স্বপ্ন আরও অনেক দূর।

    বাফুফে প্রকাশিত ভিডিওবার্তায় আফিদা বলেন, “এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে আমরা প্রথমবার এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করেছি। এটা বিশাল গর্বের মুহূর্ত।”

    তিনি আরও বলেন, “পুরো দল চমৎকার মেজাজে আছে। আজ ট্রেনিং সেশনে সবাই খুব এনজয় করেছে। দেশের মানুষের যে ভালোবাসা ও সমর্থন আমরা পাচ্ছি, তা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।”

    তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়মরক্ষার হলেও গুরুত্ব হারায়নি। কারণ, আফিদার চোখে এখন বিশ্বকাপ। “এই ম্যাচেও আমরা সেরা পারফর্ম করতে চাই। ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন আমাদের সবার। সামনে যদি সেই সুযোগ আসে, আমরা সেটি কাজে লাগাতে চাই,” বলেন আফিদা।

    বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এমন সাফল্য কেবল গর্বই নয়, ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণাও। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা জাতি।