Tag: বাংলা নববর্ষ

  • বৈশাখী বিকেলে মোংলায় ঐতিহ্যের জোয়ার, ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায় মুগ্ধ হাজারো দর্শক

    বৈশাখী বিকেলে মোংলায় ঐতিহ্যের জোয়ার, ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায় মুগ্ধ হাজারো দর্শক

    এবিএনএ,মোংলা:পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে মোংলায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার বর্ণাঢ্য আয়োজন। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার এই লোকঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জমজমাট প্রদর্শনীর আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বহু পুরোনো ‘ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা’, যা দেখতে মাঠজুড়ে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।

    একসময় মোংলা ও আশপাশের এলাকায় জনপ্রিয় এই লাঠি খেলা আধুনিক বিনোদনের চাপে প্রায় বিলুপ্তির পথে। সেই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ সদস্যের একটি দল দৃষ্টিনন্দন কৌশল ও সমন্বিত প্রদর্শনী উপস্থাপন করে। ঢোলের তালে তালে লাঠির ঝংকার, দ্রুত গতির কসরত এবং রণকৌশল দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি করে বাড়তি উত্তেজনা। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষই এই আয়োজনে মুগ্ধ হন।

    অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীরা জানান, বহু বছর পর এমন লোকজ আয়োজন দেখতে পেরে তারা আনন্দিত। অনেকেই বলেন, এ ধরনের খেলাধুলা নিয়মিত হলে তরুণ সমাজ ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী, মাহবুবুর রহমান মানিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিশুরা।

    অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ধরে রাখতে দেশীয় খেলাধুলার বিকল্প নেই। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনা গেলে ব্যস্ত জীবনের মাঝেও মানুষ আনন্দ খুঁজে পাবে এবং নতুন প্রজন্ম শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হবে।

    লাঠি খেলার দলনেতা মো. আবুল বসার জানান, ‘ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা’ দলটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের উদ্যোগেই এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে ভবিষ্যতে দলটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজন নিয়মিত সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা।

    প্রধান অতিথি ইউএনও শারমিন আক্তার সুমী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে লোকজ সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। লাঠি খেলা শুধু বিনোদন নয়, এটি সাহস, শারীরিক সক্ষমতা এবং গ্রামবাংলার বীরত্বের প্রতীক। তিনি অভিভূত হয়ে আয়োজক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    বৈশাখী এই আয়োজন শেষ হলেও দর্শকদের মনে রয়ে গেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের রঙিন স্মৃতি, আর সেই সঙ্গে প্রত্যাশা—এ ধরনের লোকজ উৎসব নিয়মিত হলে সংস্কৃতির শেকড় আরও দৃঢ় হবে।

  • বৈসাবি উৎসবে ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাহাড়-সমতলের সবার জন্য সম্প্রীতির আহ্বান

    বৈসাবি উৎসবে ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাহাড়-সমতলের সবার জন্য সম্প্রীতির আহ্বান

    এবিএনএ: পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারের আহ্বান জানান।

    শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব—বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান—দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উপলক্ষে তিনি সংশ্লিষ্ট সব নৃগোষ্ঠীর মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছাও জানান।

    জাতীয় সংস্কৃতির অংশ বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব উৎসব পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায় এবং সমাজে শান্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

    তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারা বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য জাতীয় ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সমাজে সম্প্রীতির বন্ধনকে শক্তিশালী করেছে।

    সমান অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

    শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব নাগরিকের সমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাহাড় বা সমতল—যেখানেই বসবাস হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। এই ঐক্য ধরে রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    সুখ-শান্তির প্রত্যাশা

    বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ দেশের মানুষের জীবনে আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছা বার্তা শেষ করেন।