Tag: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

  • ১৮ বছর পর ঢাকায় জমকালো কুচকাওয়াজ—জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শক্তি ও ঐতিহ্যের নজরকাড়া প্রদর্শন

    ১৮ বছর পর ঢাকায় জমকালো কুচকাওয়াজ—জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শক্তি ও ঐতিহ্যের নজরকাড়া প্রদর্শন

    এবিএনএ: দীর্ঘ বিরতির পর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, যা ছিল দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত এ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দর্শক গ্যালারিতে বসে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেয় সশস্ত্র বাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ কুচকাওয়াজে যোগ করে বিশেষ আবেগ। এতে নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের সামরিক সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরা হয়।

    কুচকাওয়াজ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন ছিল পুরো অনুষ্ঠানের দায়িত্বে।

    প্যারেড পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। তাকে সহযোগিতা করেন উপ-অধিনায়ক হিসেবে ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাফকাত-উল-ইসলাম।

    এবারের কুচকাওয়াজে মোট ২৫টি কন্টিনজেন্ট অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে। যান্ত্রিক বহরের নেতৃত্ব দেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ার উজ জামান। আধুনিক সমরাস্ত্র ও সাঁজোয়া যান প্রদর্শন দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। বীর মুক্তিযোদ্ধারাও সুসজ্জিত বাহনে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানান।

    অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আকাশপথে ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক প্রদর্শনী। এতে অংশ নেয় আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, বিজিবি এয়ার উইং ও র‍্যাব। এছাড়া প্যারা কমান্ডোদের দুঃসাহসিক ‘ফ্রিফল জাম্প’ উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

    বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মনোমুগ্ধকর ফ্লাইপাস্টে নেতৃত্ব দেন এয়ার কমোডর মেহেদী হাসান। পুরো অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বিভিন্ন বেসরকারি গণমাধ্যম সরাসরি সম্প্রচার করে।

    স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্থাপন করা হয় ব্যানার ও বিলবোর্ড। প্যারেড গ্রাউন্ডে বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকাণ্ডের চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান সফল করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে।

  • সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডে বড় রদবদল, কিউএমজি–এজি পদে নতুন মুখ

    সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডে বড় রদবদল, কিউএমজি–এজি পদে নতুন মুখ

    এবিএনএ: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর উচ্চপর্যায়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। সেনা সদরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি), অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) ছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজমিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-র শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের কথা জানানো হয়।

    আদেশ অনুযায়ী, বর্তমান কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে এনডিসির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক নতুন কিউএমজি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এতে করে সরবরাহ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় দায়িত্বে নতুন সমন্বয় আসছে।

    সেনা সদরের অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল পদেও পরিবর্তন হয়েছে। ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হোসাইন আল মোরশেদকে নতুন এজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান এজি মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে এমআইএসটির কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়, ফলে সামরিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।

    এছাড়া, এমআইএসটির বর্তমান কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে প্রেষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এ পাঠানো হয়েছে। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লগ এরিয়ার জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. মোস্তাগাউসুর রহমান খান নিয়মিত অবসরে যাচ্ছেন।

    এর আগে সিজিএস, পিএসও ও ডিজিএফআই প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে রদবদল হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় এবার কিউএমজি ও এজি পর্যায়ের পরিবর্তনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামোয় বড় পরিসরের পুনর্গঠন সম্পন্ন হলো।

  • সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল: নতুন সিজিএস, পিএসও বদলি ও একাধিক পদে পরিবর্তন

    সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল: নতুন সিজিএস, পিএসও বদলি ও একাধিক পদে পরিবর্তন

    এবিএনএ: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে। রোববার দুপুরে সেনাসদর থেকে জারি করা আদেশে এসব পরিবর্তন কার্যকর করা হয় বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    সেনাসদরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাইনুর রহমান। এর আগে তিনি আর্টিলারি ডকট্রিন অ্যান্ড কমান্ড (আর্টডক)–এর জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) এস এম কামরুল হাসান–কে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন পিএসও হয়েছেন মীর মুশফিকুর রহমান, যিনি এর আগে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন।

    এ ছাড়া ৫৫ পদাতিক ডিভিশন থেকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে বদলি হয়েছেন জে এম ইমদাদুল ইসলাম। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট ফেরদৌস হাসান–কে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমান–কে মেজর জেনারেলে পদোন্নতি দিয়ে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত রোটেশনের অংশ হিসেবেই এই রদবদল করা হয়েছে, যাতে বাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামো আরও গতিশীল ও কার্যকর থাকে।

  • সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর, পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা জানাল আইএসপিআর

    সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর, পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা জানাল আইএসপিআর

    এবিএনএ: সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় পরিচালিত কাদুগলি লজিস্টিক বেসে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রোববার শহীদ ও আহতদের পরিচয়সহ সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি জানিয়েছে।

    আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলা চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    শহীদ শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শামীম রেজা (রাজবাড়ী), সৈনিক শান্ত মন্ডল (কুড়িগ্রাম), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন— লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান (কুষ্টিয়া), সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন (দিনাজপুর), কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি (ঢাকা), ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম (বরগুনা), সৈনিক মো. মেজবাউল কবির (কুড়িগ্রাম), সৈনিক উম্মে হানি আক্তার (রংপুর), সৈনিক চুমকি আক্তার (মানিকগঞ্জ) ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান (নোয়াখালী)।

    আইএসপিআর জানায়, আহত আটজনের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্য সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত।

    এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেছে, শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকারের গৌরবোজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

  • সুদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ শান্তিরক্ষী নিহত, ৮ জন আহত

    সুদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ শান্তিরক্ষী নিহত, ৮ জন আহত

    এবিএনএ: সুদানের আবেইতে জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও আটজন সেনা আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী সংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    আইএসপিআর জানিয়েছে, নিহত ও আহত সেনারা শান্তিরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। হামলার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনারা নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিহত সেনাদের পরিবারকে যথাযথভাবে সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টা একবার আরও বড় হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের বাইরে মিশন পরিচালনায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ সেনাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগকে আইএসপিআর গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে।

  • সুদান যুদ্ধের ১৯ বছর পর দেশে ফিরলেন ময়নুল: সেনাবাহিনীর অসাধারণ মানবিক সহায়তা

    সুদান যুদ্ধের ১৯ বছর পর দেশে ফিরলেন ময়নুল: সেনাবাহিনীর অসাধারণ মানবিক সহায়তা

    এবিএনএ:  দীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে পরিবারের কোলে ফিরেছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান অঞ্চলে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিক মো. ময়নুল হক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তায় রোববার দেশে ফেরেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

    আইএসপিআর জানায়, ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই (UNISFA)-তে বাংলাদেশের ব্যানব্যাট-৩ মোতায়েন রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে আবেই বাজার এলাকায় টহল দেওয়ার সময় সেনাসদস্যরা একাকী ও বিপর্যস্ত অবস্থায় ময়নুলের সন্ধান পান।

    ✅ যুদ্ধের ধাক্কায় হারানো জীবন

    প্রায় দুই দশক আগে ঠিকাদারির কাজে সুদানের রাজধানী খার্তুমে যান ময়নুল। পরে আকস্মিক গৃহযুদ্ধে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আশ্রয় নেন আবেই অঞ্চলে। সে সময় তিনি হারান পাসপোর্টসহ সব কাগজপত্র, ফলে দেশে ফেরার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

    সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান—এমন আকুতি জানান।

    ✅ সেনাবাহিনীর আন্তরিক তৎপরতা

    ময়নুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও পরিচয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিষয়টি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইথিওপিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে ট্রাভেল পারমিট প্রদান করে এবং অর্থসহায়তাও দেয়।

    গত ২৯ অক্টোবর আবেই থেকে জুবা পৌঁছান তিনি। এরপর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে রোববার ঢাকায় পৌঁছান।

    ✅ আবেগে ভাসলেন ময়নুল

    শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের মুহূর্তে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
    তিনি সেনাবাহিনী, দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    ✅ সেনাবাহিনীর গর্ব

    আইএসপিআর জানায়,
    যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আটকে পড়া একজন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার মতো মানবিক কাজে অংশ নিতে পেরে সেনাসদস্যরা গর্ব অনুভব করছেন।

  • চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

    চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

    এবিএনএ:  সরকারি সফর শেষে বুধবার (২৮ আগস্ট) রাতে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নয়দিনের এ সফরে তিনি চীনের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও গবেষণাগার পরিদর্শন করেছেন।

    ২২ আগস্ট পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সদর দপ্তরে পৌঁছালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি পিএলএর স্থল বাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার জেনারেল চেন হুইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের সামরিক শিল্প উন্নয়নে চীনের সহায়তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

    ২৩ আগস্ট সেনাপ্রধান চীনের নোরিনকো গ্রুপের প্রেসিডেন্ট চেন ডেফাংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের আধুনিকায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে আলাপ হয়।

    চীন সফরের অংশ হিসেবে তিনি বেইজিংয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মির একাডেমি অব আর্মড ফোর্সেস ক্যাম্পাস ও সামরিক গবেষণাগার ঘুরে দেখেন। এ একাডেমিতে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ সেনা কর্মকর্তারা কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

    গত ২০ আগস্ট সেনাপ্রধান এ সরকারি সফরে চীন যাত্রা করেন। তার এ সফরকে বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ভালো মানুষ না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়: মিলিটারি সম্মেলনে সেনাপ্রধানের শক্ত বার্তা

    ভালো মানুষ না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়: মিলিটারি সম্মেলনে সেনাপ্রধানের শক্ত বার্তা

    এবিএনএ: দেশ ও জাতির টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, প্রয়োজন নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির—এমন বার্তাই দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

    শনিবার (১৯ জুলাই) মিরপুর সেনানিবাসে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্স’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, “ভালো মানুষ না হলে জাতি উপকৃত হয় না। আমরা শুধু ভালো প্রকৌশলী, ডাক্তার বা প্রশাসক তৈরি করলেই হবে না—তাদের হতে হবে সৎ, শৃঙ্খলাবান এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন। তাহলেই দেশের প্রকৃত উপকার হবে।”

    সেনাপ্রধান আরও বলেন, “এই সম্মেলন কেবল জ্ঞানচর্চা নয়, প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে। তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আমি বলব—সীমারেখা ভাঙো, উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে চলো। এমন সম্মেলন জীবনের একটি সোপান হতে পারে।”

    এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত, মালয়েশিয়া, চীন, মিশরসহ ১৪টির বেশি দেশের গবেষক ও পেশাজীবীরা। তারা যন্ত্রকৌশল, অ্যারোনটিক্যাল ও নেভাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, নবায়নযোগ্য শক্তি, তাপপ্রকৌশল, ডিজাইন ও উৎপাদন, মেকাট্রনিক্সসহ বিভিন্ন শাখায় সাম্প্রতিক গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

    এ সম্মেলন প্রযুক্তি, গবেষণা ও নৈতিক নেতৃত্বের এক ব্যতিক্রমধর্মী মঞ্চ হিসেবে প্রশংসা অর্জন করে। সেনাপ্রধান সকল অংশগ্রহণকারী ও অতিথিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন সম্মেলনের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

  • ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে অপশক্তি: গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান সেনাবাহিনীর

    ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে অপশক্তি: গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান সেনাবাহিনীর

    এবিএনএ: 

    গুজবের জালে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর নাম ও লোগো ব্যবহার করে একটি ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছড়ানো হয়, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনী তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেছে।

    পোস্টে বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করা। এমন গুজব থেকে সাবধান থাকার জন্য সেনাবাহিনী সকল নাগরিককে অনুরোধ জানিয়েছে।

    সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানায়, “গুজবে কান দেবেন না, বিভ্রান্ত হবেন না। তথ্য যাচাই করে বিশ্বাস করুন এবং সচেতন থাকুন।” পোস্টে ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিটির একটি স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণামূলক কনটেন্ট সহজে শনাক্ত করতে পারে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী, যা তথ্য সুরক্ষা ও জনস্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


  • দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

    দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ সোমবার কাতার সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। সরকারি এই সফরে তিনি কাতারের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সফরটি ছিল কাতার-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    সফরকালে, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকগুলোতে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়ন, ও দক্ষ জনশক্তি বিনিময় সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

    গত ৩ মে সেনাপ্রধান কাতার অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। উভয় দেশের মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা, খেলাধুলা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও ‘অলিম্পিক ভিলেজ’ গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁরা মতবিনিময় করেন।

    ৪ মে তিনি কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শেখ সাউদ এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল আজিজের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাতে মিলিত হন। আলোচনায় উঠে আসে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত।

    সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জসিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক। এই বৈঠকে যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণার্থী বিনিময় এবং কাতারে অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সেনাসদস্যদের কর্মসংস্থান সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    উল্লেখ্য, সেনাপ্রধান ৩ মে সরকারি সফরে কাতারে যান। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।