Tag: বাংলাদেশ সড়ক দুর্ঘটনা

  • মোংলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: বর-বধূসহ বিএনপি নেতার পরিবারের ৯ জনের দাফন, শোকের ছায়া

    মোংলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: বর-বধূসহ বিএনপি নেতার পরিবারের ৯ জনের দাফন, শোকের ছায়া

    এবিএনএ,বাগেরহাট : খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর-বধূসহ বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের ৯ সদস্যকে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে তাদের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

    দাফনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    দাফন সম্পন্ন হলেও শোক কাটেনি স্বজনদের। নিহতদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে ও বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ এবং দুই মেয়ে আরফা ও ইরাম।

    এছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত হন মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখ। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।

    অন্যদিকে কনের পক্ষের নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাব্বিরের নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।

    পরিবারের এত সদস্য হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি। তিনি বলেন, “আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, বাবা, ভাই-বোন—সবাইকে হারিয়েছি। আমি এখন একা।” এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

    এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, খুলনা–মোংলা মহাসড়ক অত্যন্ত ব্যস্ত একটি সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যান চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সড়কটি চার লেনে উন্নীত না হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও যানজটের ঘটনা ঘটে।

    মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আলী আজম বলেন, “এই মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখনো এটি চার লেন করা হয়নি। দ্রুত সড়কটি সম্প্রসারণ করা এবং এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।”

    এদিকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারার আওতায় নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বরযাত্রীদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি বিকেলে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।