Tag: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক

  • ঢাকায় পা রাখলেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, শুরু হচ্ছে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়

    ঢাকায় পা রাখলেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, শুরু হচ্ছে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়

    এবিএনএ: বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সোমবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    কূটনৈতিক সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার ঢাকা মিশন শুরু হতে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এসব বৈঠকের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।

    তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র প্রদান করবেন নতুন এই রাষ্ট্রদূত।

    ঢাকায় আসার আগে এক প্রতিক্রিয়ায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তার ভাষায়, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দক্ষ আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তিনি আগ্রহী।

    তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টায় তিনি প্রতিদিন সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান।

    উল্লেখ্য, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না: দৃঢ় বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না: দৃঢ় বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “সন্ত্রাসের বিষয়ে আমাদের নীতি স্পষ্ট—জিরো টলারেন্স। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দেশের মাটিতে স্থান দেওয়া হবে না।”

    সোমবার বিকেলে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

    প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে চলমান শুল্ক আলোচনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো সন্ত্রাসবাদ নির্মূল। রাষ্ট্রের সর্বশক্তি দিয়ে আমরা এদের মুছে ফেলবো।”

    ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই রূপান্তর একটি স্থায়ী রূপ পাবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে যে কমিশন কাজ করছে, তা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার নিয়ে কার্যকর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, “অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। আমি মনে করি, তারা ভালোভাবেই অগ্রসর হচ্ছেন এবং আমরা সামনে একটা ইতিবাচক ফল দেখতে পাব।”

    এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে, এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।