Tag: বাংলাদেশ ফুটবল

  • ৩৬ বছর পর ঢাকার মাঠে শ্রীলঙ্কান ফুটবলার, ফর্টিসে চুক্তিবদ্ধ গোলরক্ষক সুজন পেরেরা

    ৩৬ বছর পর ঢাকার মাঠে শ্রীলঙ্কান ফুটবলার, ফর্টিসে চুক্তিবদ্ধ গোলরক্ষক সুজন পেরেরা

    এবিএনএ: ঢাকার ফুটবলে শ্রীলঙ্কান ফুটবলারের পদচারণা যেন অতীত ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আবারও ফিরছে। এবার ঢাকার মাঠে দেখা যাবে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ও অধিনায়ক সুজন পেরেরাকে।

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফর্টিস ফুটবল ক্লাব চলতি মৌসুমের জন্য এই লঙ্কান গোলরক্ষকের সঙ্গে এক মৌসুমের চুক্তি করেছে। আশি-নব্বই দশকে ঢাকার ঘরোয়া লিগে লঙ্কানদের সরব উপস্থিতি থাকলেও, ১৯৮৯ সালে পাকির আলী ছিলেন শেষ লঙ্কান ফুটবলার যিনি খেলেছিলেন এই মঞ্চে।

    ডিপজল, পাকির আলী, লায়নেল ফিরিচ—এসব নাম পুরনো ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে এখনো গেঁথে আছে। লায়নেল ফিরিচ আশির দশকে পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঢাকার মাঠে। এবার সেই জায়গায় আসছেন সুজন।

    ফর্টিস ক্লাবের ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম বলেন, “গত মৌসুমে গোলরক্ষক পজিশনে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। মিতুল মারমার বিদায়ের পর সেই ঘাটতি পূরণের জন্য আমরা সুজন পেরেরাকে এনেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় তিনি অন্যতম সেরা গোলরক্ষক।”

    ৩২ বছর বয়সী সুজন পেরেরা সর্বশেষ খেলেছেন মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাবে। ২০২২ সালে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে তিনি ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে শ্রীলঙ্কার জার্সিতে খেলেছেন ৫৬টি ম্যাচ

    এই অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স ঢাকার ফুটবলে এক নতুন চ্যালেঞ্জ ও রোমাঞ্চের জন্ম দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে। সুজনের আগমনে ফর্টিসের গোলবার যেমন সুরক্ষিত হবে, তেমনি বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগে বিদেশি খেলোয়াড়দের আধিপত্য আরও জমবে।

  • সিঙ্গাপুরের জালে রাকিবের গোল, হামজার পাসে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ!

    সিঙ্গাপুরের জালে রাকিবের গোল, হামজার পাসে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ!

    এবিএনএ:

    দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি লাল-সবুজের দল। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলায় ফেরার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। খেলার ৬৭তম মিনিটে রাকিব হোসেনের দুর্দান্ত গোলের মাধ্যমে ব্যবধান কমিয়ে আনে বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন হামজা চৌধুরী। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে পরাস্ত করেন রাকিব।

    এর আগে প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো খেলার ৪৪তম মিনিটে সং উই ইয়াং-এর জোড়ালো শটে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। গোলরক্ষক মিতুল বল ধরতে ব্যর্থ হলে, দৃষ্টিনন্দন ভলিতে জাল কাঁপান সিঙ্গাপুরি ফরোয়ার্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের আঘাত হানে সিঙ্গাপুর। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ইখসান ফান্দির গোলে ব্যবধান বাড়ায় তারা। ফলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

    তবে ম্যাচে হার না মানা মানসিকতা দেখায় বাংলাদেশের তরুণ খেলোয়াড়রা। অভিষিক্ত শমিত সোম মাঝমাঠ থেকে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের সামনে কার্যকরী ফরোয়ার্ডের অভাব স্পষ্ট ছিল। তরুণ ফাহামিদুল বেশ কিছু ভালো মুভমেন্ট তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হন।

    প্রথমার্ধের দশম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত সিঙ্গাপুর। তবে সেই সময় সং উই ইয়াং গোলের সামনে থেকে শট নিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩১ মিনিটে ইখসান ফান্দির নেওয়া একটি শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকান গোলরক্ষক মিতুল।

    শেষ পর্যন্ত, রাকিবের গোলে একটি গোল শোধ দিতে সক্ষম হলেও ম্যাচে সমতায় ফেরার পথ আর খোলা হয়নি। তবে লড়াকু মানসিকতায় প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ।

  • নেপালকে হারিয়ে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ, ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় যুবারা

    নেপালকে হারিয়ে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ, ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় যুবারা

    এবিএনএ:   সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ যুব দল। ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ইউপিয়া শহরের গোল্ডেন জুবিলি স্টেডিয়ামে শুক্রবার আয়োজিত সেমিফাইনালে নেপালকে ২-ব্যবধানে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে পা রাখে বাংলাদেশের যুবারা।

    ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে। ১৭তম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল নেপাল, তবে বাংলাদেশি গোলকিপার ইসমাইল হোসেনের অসাধারণ প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর ২২ মিনিটে রিফাত কাজীর প্রচেষ্টা এবং ৩৩ মিনিটে মোরশেদ আলীর ফ্রি-কিকও গোলে রূপ নেয়নি।

    প্রথমার্ধ গোলশূন্য ভাবে শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলা জমে ওঠে। ৭৩ মিনিটে অধিনায়ক নাজমুল হুদার নেওয়া কর্নার থেকে আশিকুর রহমানের দুর্দান্ত হেডে প্রথম গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৮১ মিনিটে আরও একবার আক্রমণে উঠে ডান প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ মানিকের নিখুঁত পাসে গোল করেন নাজমুল, ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

    শেষ দিকে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ দল। ৮৭ মিনিটে নেপালের হয়ে সুজন ডাঙ্গোল একটি গোল পরিশোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে এই জয়ে নিশ্চিত হয় তাদের ফাইনাল টিকিট।

    এর আগে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে ৩-ব্যবধানে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠে আসে।

    আগামী রবিবার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ভারত বা মালদ্বীপ – যারা সেদিনের আরেক সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়।

    বাংলাদেশের যুবারা এখন সাফ শিরোপার একেবারে দোরগোড়ায়। দলীয় ঐক্য, রণকৌশল দৃঢ় মানসিকতায় ভর করে এই স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় গোটা দেশ।

  • ভুটানকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯, ছোটনের ছেলেদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

    ভুটানকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯, ছোটনের ছেলেদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

    এবিএনএ:   সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল বাংলাদেশের তরুণ ফুটবল দল। রবিবার ভারতের অরুণাচল প্রদেশের অরুনাচল স্টেডিয়ামে ভুটানের বিপক্ষে ৩-গোলের জয়ে শেষ চারে পৌঁছে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের আক্রমণাত্মক খেলা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয়। একের পর এক আক্রমণে ভুটানের রক্ষণ ভাঙতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত গোলের সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে ৩টি গোল করে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

    ম্যাচ শেষে দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বলেন, “আমার ছেলেদেরকে অভিনন্দন জানাই। মালদ্বীপের বিপক্ষে দুর্ভাগ্যজনক ড্রয়ের পর এই ম্যাচটি আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করেছিলাম ওরা ফিরে আসবে, এবং আজকের পারফরম্যান্সে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “দেশপ্রেম থেকেই ছেলেরা পুরো ৯০ মিনিট খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং নিজের সেরাটা দিয়ে মাঠে পারফর্ম করেছে। সেমিফাইনালেও আমরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করব।”

    এই জয়ের মাধ্যমে শুধু সেমিফাইনালই নয়, টুর্নামেন্ট জয়ের স্বপ্নও আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দল।